নয়াদিল্লি, ৩০ আগস্ট (আইএএনএস): ২০৪৭ সালের মধ্যে মাদকমুক্ত ভারত গড়ার লক্ষ্যে দেশজুড়ে গতি পেয়েছে ‘নশামুক্ত যুব ফর বিকশিত ভারত’ অভিযান। রবিবার দেশের নাগরিকদের এই অভিযানে বৃহৎ সংখ্যায় অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছেন, মাদকাসক্তি শুধু একজন ব্যক্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করে না, এর প্রভাব পড়ে গোটা পরিবার ও সমাজের ওপর।
মাসিক বেতার অনুষ্ঠান ‘মন কি বাত’-এর ১৩৭তম পর্বে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই অভিযানের লক্ষ্য অত্যন্ত স্পষ্ট—মাদকমুক্ত যুব এবং মাদকমুক্ত ভারত। দেশের বহু মানুষ, বিশেষ করে যুবসমাজ, ইতিমধ্যেই এই উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন। তাঁদের স্বাস্থ্য, সুখ এবং উজ্জ্বল ভবিষ্যতের জন্য মাদকমুক্ত ভারত গড়ার সংকল্পকে তিনি সম্মিলিত দায়িত্ব হিসেবে তুলে ধরেন।
প্রধানমন্ত্রী সাধারণ মানুষের পাশাপাশি দেশের সৃজনশীল মহলকেও এই অভিযানে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানান। সামাজিক মাধ্যমে সচেতনতামূলক কনটেন্ট তৈরি, স্লোগান লেখা, গান রচনা, ছোট নাটক বা পথনাটিকার মাধ্যমে মাদকের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করার পরামর্শ দেন তিনি।
মোদি বলেন, দেশের তরুণ সংগীতশিল্পীরা মাদকমুক্ত জীবনের বার্তা দিয়ে গান তৈরি করতে পারেন। ছাত্রছাত্রী ও থিয়েটার গোষ্ঠীগুলি মাদকের বিপদ এবং কীভাবে আসক্তি থেকে বেরিয়ে আসা যায়, তা তুলে ধরে হৃদয়স্পর্শী ছোট নাটক তৈরি করতে পারে। বিভিন্ন ভাষায় এমন সৃজনশীল কনটেন্ট তৈরি করার জন্য কনটেন্ট ক্রিয়েটরদেরও আহ্বান জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, অনেক সময় সৃজনশীল উদ্যোগ কোনও আনুষ্ঠানিক প্রচারের তুলনায় বেশি কার্যকরভাবে মানুষের কাছে বার্তা পৌঁছে দিতে পারে। দেশের যুবসমাজকে মাদক থেকে দূরে রাখতে প্রত্যেকেরই নিজস্ব ভূমিকা রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এর আগে গত ২ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী ভার্চুয়ালি ‘নশামুক্ত যুব ফর বিকশিত ভারত সংকল্প অভিযান’-এর সূচনা করেছিলেন। দেশজুড়ে একটি গণআন্দোলনের রূপ দেওয়া এই অভিযানের সঙ্গে ২৮ হাজারেরও বেশি স্থান যুক্ত হয়েছে এবং এক কোটির বেশি যুবক-যুবতী এতে অংশ নিয়েছেন।
এদিন ‘মন কি বাত’-এর অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী ‘হর ঘর তিরঙ্গা’ অভিযানেরও প্রশংসা করেন। দেশজুড়ে নাগরিকদের মধ্যে যে দেশাত্মবোধের আবেগ দেখা গিয়েছে, তা সমাজকে আরও ঐক্যবদ্ধ করেছে এবং দেশের সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক আরও গভীর করেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের অংশ হিসেবে নাগরিকদের নিজেদের বাড়িতে জাতীয় পতাকা উত্তোলনে উৎসাহিত করতে ‘হর ঘর তিরঙ্গা’ অভিযান চালু করা হয়। ২০২৬ সালের এই অভিযানটি জাতীয় সংগীত ‘বন্দে মাতরম’-এর ১৫০তম বর্ষপূর্তির সঙ্গে বিশেষভাবে যুক্ত ছিল।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগস্ট মাসে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে দেশাত্মবোধের নানা রূপ দেখা যায়। জাতীয় হ্যান্ডলুম দিবস, ভারত ছাড়ো আন্দোলনের বার্ষিকী, দেশভাগের বিভীষিকা স্মরণ দিবস থেকে শুরু করে স্বাধীনতা দিবস এবং জাতীয় মহাকাশ দিবস—বিভিন্ন উপলক্ষ দেশবাসীর মনে দেশপ্রেমের আবেগ আরও জোরদার করে।
‘হর ঘর তিরঙ্গা’ অভিযান সেই আবেগকে আরও শক্তিশালী করেছে বলে উল্লেখ করে মোদি জানান, এবছর ৮ কোটিরও বেশি ‘তিরঙ্গা সেলফি’ আপলোড করা হয়েছে।
শুধু ভারতেই নয়, বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে থাকা ভারতীয় দূতাবাস ও মিশনগুলিও এই অভিযানে উৎসাহের সঙ্গে অংশ নিয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। ‘সূর্যপথ তিরঙ্গা’ উদ্যোগের মাধ্যমে জাতীয় পতাকা বিশ্বজুড়ে এক বিশেষ যাত্রায় অংশ নেয়।
মোদি জানান, ফিজির সুভায় দিনের প্রথম আলো ফুটতেই তেরঙ্গা উত্তোলনের মাধ্যমে এই যাত্রা শুরু হয়। এরপর এশিয়া, আফ্রিকা ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশে ভারতীয় মিশন ও পোস্টগুলিতে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। শেষ পর্যন্ত আমেরিকার সান ফ্রান্সিসকোতেও তেরঙ্গা উত্তোলন করা হয়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সূর্য যখন বিশ্বের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে এগিয়ে গিয়েছে, তার সঙ্গে তাল মিলিয়ে বিভিন্ন জায়গায় ভারতীয় তেরঙ্গা উত্তোলনের দৃশ্য ছিল অত্যন্ত গর্বের। এই ধরনের উদ্যোগ সমাজকে একসূত্রে বাঁধে এবং দেশের সঙ্গে মানুষের সম্পর্ককে আরও গভীর করে।
তিনি ‘হর ঘর তিরঙ্গা’ এবং ‘সূর্যপথ তিরঙ্গা’ উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত প্রত্যেককে অভিনন্দন জানান। মাদকমুক্ত যুবসমাজ গঠন এবং দেশাত্মবোধের চেতনাকে আরও শক্তিশালী করার আহ্বানের মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রী নাগরিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন।



















