কোহিমা, ৩০ আগস্ট (আইএএনএস): নাগাল্যান্ডের সেয়িহামা গ্রামে জনপ্রিয় ‘রাজা মির্চা’ বা ‘নাগা কিং চিলি’ চাষ ক্রমেই গ্রামীণ আয়ের গুরুত্বপূর্ণ উৎস হয়ে উঠছে। চলতি বছরে এই গ্রামে প্রায় ৩,২০০ টিন নাগা কিং চিলি উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। তাজা লঙ্কা বিক্রি করে প্রায় ৩০-৩২ লক্ষ টাকা আয় হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
শনিবার সেয়িহামায় আয়োজিত চতুর্থ অর্গানিক নাগা কিং চিলি ফেস্টিভ্যালে ২০২৬ সালের কৃষি সংক্রান্ত রিপোর্টে এই তথ্য তুলে ধরা হয়। স্থানীয় কৃষকদের উদ্যোগে আয়োজিত এই উৎসবের মাধ্যমে সেয়িহামাকে নাগা কিং চিলির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উৎপাদক এলাকা হিসেবে তুলে ধরার প্রচেষ্টা আরও জোরদার হয়েছে।
তথ্য ও প্রচার বিভাগের প্রতিনিধি কেভিনেইজো জুমু জানান, সেয়িহামা গ্রামে মোট ৪৮২টি পরিবার রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১৮০টি পরিবার বর্তমানে সরাসরি নাগা কিং চিলি চাষ থেকে উপকৃত হচ্ছে।
চলতি বছরে এখনও পর্যন্ত কৃষকরা প্রায় ১,৭০০ টিন কিং চিলি সংগ্রহ করেছেন। ফসল তোলার বাকি সময়ে আরও প্রায় ১,৫০০ টিন উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে বছরের মোট উৎপাদন প্রায় ৩,২০০ টিনে পৌঁছতে পারে।
শুধু তাজা লঙ্কা বিক্রিই নয়, স্বনির্ভর গোষ্ঠী বা এসএইচজি-গুলির তৈরি আচার ও অন্যান্য মূল্য সংযোজিত পণ্য থেকেও অতিরিক্ত প্রায় ১-২ লক্ষ টাকা আয় হতে পারে বলে জানানো হয়েছে।
জুমু বলেন, অনুকূল আবহাওয়া চলতি বছরের ফলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে। বর্তমান চাষের মরশুমে অংশগ্রহণকারী কৃষকরাও ভালো ফল করেছেন।
নাগা কিং চিলির ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক গুরুত্বের বিষয়টি তুলে ধরেন কোহিমার পেরাসিজি ব্যাপটিস্ট চার্চের পাস্টর এবং সেয়িহামার বাসিন্দা রেভারেন্ড কেভিচালি মেথাও। উৎসবের বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে তিনি বলেন, উৎসবটির জনপ্রিয়তা সেয়িহামা এবং এখানকার নাগা কিং চিলিকে বৃহত্তর পরিসরে পরিচিতি পেতে সাহায্য করেছে।
তিনি জানান, কিং চিলি বিক্রি থেকে পাওয়া আয় গ্রামের একাধিক পরিবারকে জীবিকা নির্বাহে সহায়তা করার পাশাপাশি তাঁদের আর্থিক অবস্থার উন্নতিতেও ভূমিকা রাখছে। সফল ফলন ও গ্রামের অগ্রগতির জন্য ঈশ্বরের আশীর্বাদের কথা উল্লেখ করলেও তিনি বলেন, কৃষির স্থায়ী উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক অগ্রগতির জন্য কৃষকদের কঠোর পরিশ্রম, নিষ্ঠা এবং সম্মিলিত প্রচেষ্টা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
আরও বেশি গ্রামবাসীকে নাগা কিং চিলি চাষে উৎসাহিত করে মেথা কৃষক, স্থানীয় বাসিন্দা ও সংশ্লিষ্ট সকলের মধ্যে ধারাবাহিক সহযোগিতা ও সমন্বয়ের আহ্বান জানান। গ্রামের কৃষি ও অর্থনৈতিক অগ্রগতি ধরে রাখতে বিনয়, ঐক্য ও সম্মিলিত প্রচেষ্টার ওপরও জোর দেন তিনি।
উৎসবের আয়োজক কমিটির প্রাক্তন চেয়ারম্যান ও প্রাক্তন আহ্বায়ক লহৌলালি জুমু জানান, ২০২২ সালে প্রথম এই উৎসবের আয়োজন করা হয়েছিল। উদ্দেশ্য ছিল সেয়িহামা এবং এখানকার রাজা মির্চাকে বৃহত্তর মানুষের কাছে পরিচিত করে তোলা।
তিনি বলেন, আগে এই অঞ্চলের বাইরে সেয়িহামার পরিচিতি খুব বেশি ছিল না। কিন্তু উৎসবটি এখন গ্রাম, স্থানীয় উৎপাদন এবং কৃষকদের পরিশ্রমকে তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চে পরিণত হয়েছে।
এই উদ্যোগে নাগাল্যান্ডের উদ্যানপালন দফতর, উত্তর-পূর্ব পরিষদ (এনইসি) এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট সংস্থার সহযোগিতার কথা স্বীকার করেন লহৌলালি জুমু। পাশাপাশি কৃষকদের আরও বেশি উৎপাদন এবং বৃহত্তর বাজারে নাগা কিং চিলি বিপণনের সুযোগ করে দিতে আরও শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা ও উন্নত কৃষি এবং বাজার সংযোগের দাবি জানান তিনি।
পাহাড়ি এলাকায় পরিবহণ এখনও কৃষকদের কাছে বড় সমস্যা বলে জানান তিনি। পাশাপাশি বৃহত্তর বাজারে পৌঁছনো এবং ব্যবসার সুযোগ সম্প্রসারণের জন্য বাজার সংযোগ ও কৃষি-ভিত্তিক যোগাযোগ ব্যবস্থাও আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেন।
কৃষক, সরকারি দফতর এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট পক্ষের মধ্যে আরও বেশি সমন্বয় ও সহযোগিতা হলে যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত করা, বাজারের সুযোগ বাড়ানো এবং সেয়িহামায় নাগা কিং চিলি চাষের সামগ্রিক সম্ভাবনা আরও বৃদ্ধি করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
স্থানীয় গ্রামবাসী, কৃষক ও অন্যান্য অংশীদারদের অংশগ্রহণে আয়োজিত এই উৎসব নাগা কিং চিলির গুরুত্বকে নতুনভাবে তুলে ধরেছে। ঐতিহ্যবাহী ও স্থানীয় ফসল হিসেবে পরিচিত রাজা মির্চা এখন নাগাল্যান্ডের গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর জন্য জীবিকা, কৃষিভিত্তিক উদ্যোগ এবং টেকসই অর্থনৈতিক সুযোগের সম্ভাবনাময় উৎস হয়ে উঠছে। —আইএএনএস



















