কলকাতা, ২৭ আগস্ট (আইএএনএস): যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে সাম্প্রতিক সংঘর্ষের ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিশন বৃহস্পতিবার নির্ধারিত সময় অনুযায়ী প্রথম বৈঠক করল। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের দক্ষিণ কলকাতার মূল ক্যাম্পাসে নয়, সল্টলেক ক্যাম্পাসে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বামপন্থী ছাত্র সংগঠনের একাংশ বারবার তদন্ত কমিশনে ছাত্র প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানিয়েছে। তবে এখনও পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সেই দাবি মেনে নেয়নি।
কলকাতা হাইকোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি প্রণব কুমার চট্টোপাধ্যায় তদন্ত কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন। প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ের আইকিউএসি-এর ডিরেক্টর অধ্যাপক সৌমেন্দু চট্টোপাধ্যায় কমিশনের সদস্য। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইক্রো অ্যানালিস্ট সুমন্ত জানা প্রেজেন্টিং অফিসার হিসেবে রয়েছেন।
বৈঠক শুরুর আগে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি প্রণব কুমার চট্টোপাধ্যায় জানান, অভিযোগ গ্রহণের প্রক্রিয়া এবং কীভাবে অভিযোগগুলি গ্রহণ করা হবে, তা আলোচনার মাধ্যমে চূড়ান্ত করা হবে। টার্মস অব রেফারেন্স অনুযায়ী প্রতিটি অভিযোগ ও বিষয় খুঁটিয়ে তদন্ত করা হবে বলেও জানান তিনি।
তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জমা দেওয়া সমস্ত নথি কমিশন খতিয়ে দেখবে। অন্য কোনও পক্ষ তথ্য বা নথি জমা দিতে চাইলে সেগুলিও গ্রহণ করে পরীক্ষা করা হবে।
কমিশনের চেয়ারম্যান জানান, তদন্তে কোনও ধরনের বিলম্বের সম্ভাবনা নেই। যত দ্রুত সম্ভব তদন্তের কাজ শেষ করার চেষ্টা করা হবে। তবে সংশ্লিষ্ট সমস্ত তথ্য এবং যাঁরা নিজেদের বক্তব্য জানাতে চান, তাঁদের কথা শোনার পরই চূড়ান্ত পদক্ষেপ করা হবে।
তিনি আরও জানান, কতগুলি নথি জমা পড়ছে এবং কতজন ব্যক্তি তাঁদের বক্তব্য জানাতে এগিয়ে আসছেন, তার ওপর তদন্তের গতিও নির্ভর করবে। সমস্ত অভিযোগ জমা পড়ার পর সেগুলি খতিয়ে দেখার পরবর্তী প্রক্রিয়া শুরু হবে।
গত ১৯ আগস্ট রাত প্রায় ৮টা নাগাদ যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে ডাকা একটি সাধারণ ছাত্রসভাকে কেন্দ্র করে অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ এবং বামপন্থী ছাত্র সংগঠনের সদস্যদের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। ঘটনার পর থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ক্যাম্পাসে উত্তেজনা রয়েছে।
ঘটনাটি নিয়ে দুই পক্ষের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষও থানায় অভিযোগ দায়ের করেছে। পুলিশ ইতিমধ্যেই ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করেছে।
সমস্ত অভিযোগের তদন্তের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ একটি তদন্ত কমিশন গঠন করে। প্রথমে কমিশনে তিনজন সদস্য ছিলেন। নেতাজি সুভাষ মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য সুভাষ শঙ্কর সরকারকে চেয়ারম্যান করার কথা ছিল। তবে তিনি সেই দায়িত্ব নিতে অস্বীকার করেন।
এরপর সোমবারের বৈঠকে কলকাতা হাইকোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি প্রণব কুমার চট্টোপাধ্যায়কে কমিশনের চেয়ারম্যান করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরবর্তীতে কমিশনের আরও এক সদস্য অরুণাশিস গোস্বামী পদত্যাগ করেন।



















