আগরতলা, ২৬ আগস্ট: নলছড়দ বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত লাখন দীপা এলাকায় অবৈধভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ নিয়ে মাছ ধরার অভিযোগকে কেন্দ্র করে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে এক ব্যক্তির মৃত্যুর ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ঘটনায় পুলিশের বিরুদ্ধে এফআইআর নথিভুক্ত করতে গড়িমসির অভিযোগ তুলে সরব হয়েছে ত্রিপুরা প্রদেশ যুব কংগ্রেস।
জানা গেছে, গত ২০ আগস্ট মানিক মিয়া প্রতিদিনের মতো তাঁর ধানক্ষেতে কাজ করতে যান। অভিযোগ, সেখানে দুই ব্যক্তি মূল বিদ্যুৎ লাইন থেকে অবৈধভাবে সংযোগ নিয়ে বিদ্যুৎ ব্যবহার করে মাছ ধরছিলেন। সেই বৈদ্যুতিক লাইনের সংস্পর্শে এসে মানিক মিয়া বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন এবং ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয় বলে অভিযোগ।
ঘটনার পর আশপাশের লোকজন সাহায্যের জন্য এগিয়ে এসে অবিলম্বে অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার দাবি জানান। অভিযোগ, ঘটনার সঙ্গে যুক্ত এক ব্যক্তি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করলেও পরে অন্য এক ব্যক্তি মানিক মিয়াকে উদ্ধারের চেষ্টা করতে গিয়ে তিনিও বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন।
বুধবার ত্রিপুরা প্রদেশ যুব কংগ্রেসের প্রতিনিধিরা দুই ভুক্তভোগীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন। পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, ঘটনার পর সাত দিন ধরে পুলিশ এফআইআর নথিভুক্ত করতে অস্বীকার করে আসছিল। তাঁদের আরও অভিযোগ, নালছর বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক তথা রাজ্যের উচ্চশিক্ষামন্ত্রী কিশোর বর্মন এলাকায় গেলেও ভুক্তভোগীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করেননি। বরং ফোন করে এফআইআর না করার জন্য বলা হয়েছিল এবং বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মীমাংসা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল বলে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়।
পরিবার সেই প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় পরবর্তীতে বিজেপি কর্মীদের পক্ষ থেকেও আইনি পদক্ষেপ না নেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছিল বলে অভিযোগ করেন তাঁরা।
এরপর যুব কংগ্রেসের নেতৃত্বে ভুক্তভোগীর পরিবারকে মেলাঘর থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে এফআইআর এখনও কেন নথিভুক্ত করা হয়নি, তা নিয়ে পুলিশের কাছে জবাবদিহি দাবি করা হয়। পুলিশ জানায়, থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক (ওসি) তখন উপস্থিত ছিলেন না এবং সন্ধ্যা ৭টার পর তিনি থানায় আসবেন।
এরপর যুব কংগ্রেসের কর্মী-সমর্থকরা থানায় অবস্থান ও বিক্ষোভ শুরু করেন। প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে বিক্ষোভ চলার পর শেষ পর্যন্ত ওসি থানায় আসেন এবং ভুক্তভোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে এফআইআর গ্রহণ করা হয় বলে দাবি করেছে ত্রিপুরা প্রদেশ যুব কংগ্রেস।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা এবং ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি উঠেছে। একই সঙ্গে পুলিশের ভূমিকা এবং এফআইআর নথিভুক্ত করতে বিলম্বের অভিযোগ নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
























