ভোপাল, ২৫ আগস্ট (আইএএনএস): ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর সময় ভারতীয় সেনাবাহিনীর কর্নেল সোফিয়া কুরেশিকে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের ঘটনায় মধ্যপ্রদেশের জনজাতি বিষয়ক মন্ত্রী বিজয় শাহের বিরুদ্ধে মামলা চালানোর অনুমোদন সংক্রান্ত প্রস্তাব মঙ্গলবার রাজ্য মন্ত্রিসভার বৈঠকে আলোচনায় ওঠেনি। সূত্রের খবর, বিষয়টি বৈঠকে তোলার প্রস্তাব থাকলেও তা এজেন্ডায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।
সূত্র জানিয়েছে, মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদবের নেতৃত্বাধীন মধ্যপ্রদেশ সরকার আগামী ৩১ আগস্টের মধ্যে সুপ্রিম কোর্টে এ বিষয়ে হলফনামা জমা দিতে পারে। ওই দিন মামলাটি শুনানির জন্য তালিকাভুক্ত রয়েছে। আদালতের সিদ্ধান্তের পর মন্ত্রিসভা বিষয়টি বিবেচনা করতে পারে বলে জানা গিয়েছে।
মন্ত্রিসভা অনুমোদন দিলে প্রস্তাবটি রাজ্যপালের কাছে পাঠানো হবে।
ঘটনার তদন্তে গঠিত বিশেষ তদন্তকারী দল বা এসআইটি ইতিমধ্যেই তদন্ত শেষ করেছে এবং ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (বিএনএস) ১৯৬(১)(a) ধারায় বিজয় শাহের বিরুদ্ধে মামলা চালানোর অনুমোদন চেয়েছে। কোনও সরকারি কর্মচারীর বিরুদ্ধে মামলা চালানোর ক্ষেত্রে সরকারের অনুমোদন বাধ্যতামূলক হওয়ায় SIT-এর রিপোর্ট জমা পড়ার পরও বিষয়টি আটকে রয়েছে।
২০২৫ সালের মে মাসে ইন্দোরের কাছে মহুতে একটি জনসভায় বিজয় শাহের বক্তব্য ঘিরে বিতর্কের সূত্রপাত। ভারতীয় সেনার ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর সময় সংবাদমাধ্যমকে ব্রিফ করা কর্নেল সোফিয়া কুরেশিকে পাহেলগাঁও হামলায় জড়িত ‘সন্ত্রাসবাদীদের সম্প্রদায়’-এর সঙ্গে যুক্ত করে তাঁর মন্তব্য করা হয়েছিল বলে অভিযোগ ওঠে।
বিজয় শাহ এমন ভাষা ব্যবহার করেছিলেন, যার অর্থ দাঁড়ায়, ওই সম্প্রদায়ের এক ‘বোনকে’ হত্যার প্রতিশোধ নিতে পাঠানো হয়েছিল। তাঁর এই মন্তব্যের পর দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদের সৃষ্টি হয়। তাঁর পদত্যাগের দাবিও ওঠে।
মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্ট স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে মামলাটি গ্রহণ করে এবং মন্তব্যের ভাষাকে অত্যন্ত আপত্তিকর বলে উল্লেখ করে এফআইআর দায়েরের নির্দেশ দেয়।
পরবর্তীতে সুপ্রিম কোর্ট মামলার তদন্তে এসআইটি গঠন করে এবং মামলা চালানোর অনুমোদন দেওয়ার ক্ষেত্রে দেরি করায় মধ্যপ্রদেশ সরকারকে একাধিকবার ভর্ৎসনা করে।
২০২৬ সালের ১৯ জানুয়ারি সুপ্রিম কোর্ট বিজেপি-শাসিত মধ্যপ্রদেশ সরকারকে দুই সপ্তাহের মধ্যে সিদ্ধান্ত নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল। এরপরও কোনও পদক্ষেপ না হওয়ায় মে মাসে আদালত ফের চার সপ্তাহের মধ্যে নির্দেশ পালন করতে বলে। জুলাইয়ের একটি অফিস রিপোর্টেও কোনও নথি জমা না পড়ার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়, যা এই মামলায় সরকারের নিষ্ক্রিয়তার দিকটি তুলে ধরে।
এদিকে, বিজয় শাহ তাঁর মন্তব্যের জন্য ক্ষমা চেয়েছেন। তিনি দাবি করেছিলেন, ‘দেশাত্মবোধের আবেগ’-এর বশে ওই মন্তব্য করেছিলেন এবং কর্নেল সোফিয়া কুরেশি বা ভারতীয় সেনাবাহিনীকে অসম্মান করার কোনও উদ্দেশ্য তাঁর ছিল না। তবে সুপ্রিম কোর্ট আগেই তাঁর ক্ষমা চাওয়ার আন্তরিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল।



















