আগরতলা, ২৫ আগস্ট: আসন্ন ভিলেজ কমিটি নির্বাচনকে সামনে রেখে বিজেপি ও জোটসঙ্গী তিপরা মথা (টিএমপি) মধ্যে আসন সমঝোতা নিয়ে মতপার্থক্যকে তেমন গুরুত্ব দিতে নারাজ মুখ্যমন্ত্রী অধ্যাপক (ড.) মানিক সাহা। তাঁর দাবি, রাজনৈতিক জোটে মতপার্থক্য থাকা স্বাভাবিক এবং শেষ পর্যন্ত উভয় পক্ষের মধ্যে ঐকমত্যের ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
মঙ্গলবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে জোটের সমঝোতা চূড়ান্ত করতে দেরি হওয়া প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, পরিবারের মধ্যেও বিভিন্ন বিষয়ে মতপার্থক্য থাকে। রাজনৈতিক অংশীদারদের মধ্যেও কখনও কোনও বিষয়ে একমত হওয়া, আবার কখনও ভিন্নমত থাকা স্বাভাবিক। তবে শেষ পর্যন্ত আলোচনার মাধ্যমে সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হবে।
তিনি বলেন, বাড়িতেও তো সবসময় কিছু না কিছু সমস্যা থাকে। আমরা রাজনীতিতে অংশীদার। কখনও তারা কিছু চাইছে, আমরা চাইছি না। এই রকম হয়। শেষ পর্যন্ত আমরা সিদ্ধান্তে পৌঁছব। ঐকমত্য হবে। পরে জানানো হবে।
মুখ্যমন্ত্রীকে প্রশ্ন করা হলে তিনি স্পষ্টভাবে জানান, বিষয়টি দ্রুতই মিটে যাবে। জোটের বিষয়ে দ্রুত ঘোষণা আসবে কি না জানতে চাইলে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, হাতে আর বেশি সময় নেই। তাই খুব শীঘ্রই সিদ্ধান্ত প্রকাশ্যে আসবে বলে তিনি জানান।
এদিকে, সিপিআই(এম)-এর জাতীয় সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবির সাম্প্রতিক মন্তব্যেরও তীব্র সমালোচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী। বিজেপি নেতৃত্বাধীন জোট সরকারের আমলে উন্নয়নের অভাব রয়েছে এবং সেই বিষয়কে সামনে রেখে বামপন্থীরা ফের রাজনৈতিক জমি ফিরে পাচ্ছে, বেবির এমন বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় মানিক সাহা বলেন, ওরা তো এসব কথা মুখস্থ করে রেখেছে।
মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, ত্রিপুরার বাইরে থেকে যারা রাজ্যের উন্নয়ন নিয়ে সমালোচনা করছেন, তাঁরা বাস্তব পরিস্থিতি সম্পর্কে সঠিক ধারণা রাখেন না। তাঁর বক্তব্য, বিমানবন্দর থেকে শুরু করে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে গেলে উন্নয়নের পরিবর্তন নিজের চোখেই দেখা যায়।
তিনি বলেন, যারা ত্রিপুরায় আসেন, তাঁরা বাস্তব উন্নয়নের চিত্র সম্পর্কে অনেক সময় অবগত থাকেন না। তবে রাজ্যের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে পরিবর্তন দেখার পর তাঁরাও ব্যক্তিগতভাবে উন্নয়নের বিষয়টি স্বীকার করেন বলে দাবি করেন মুখ্যমন্ত্রী।
মানিক সাহা জোর দিয়ে বলেন, রাজ্যে উন্নয়ন নিয়ে কোনও প্রশ্নই নেই। একই সঙ্গে তিনি সিপিআই(এম)-এর বর্তমান রাজনৈতিক জনভিত্তি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তাঁর দাবি, রাজ্যে বামেদের সমর্থন অনেকটাই কমেছে এবং আগামী বিধানসভা নির্বাচনে তাদের প্রকৃত অবস্থান আরও স্পষ্ট হয়ে যাবে



















