নয়াদিল্লি, ২৫ আগস্ট (আইএএনএস): কংগ্রেসের একাধিক শীর্ষ নেতা লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর ‘ছাত্র কি গুঞ্জন’ কর্মসূচি নিয়ে নিজেদের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে প্রচার করেননি। এর কারণ হিসেবে বিজেপি মঙ্গলবার দাবি করেছে, কংগ্রেস নেতারাও জানেন যে এই কর্মসূচি আসলে একটি ‘নিছক জনসংযোগের কৌশল’ এবং রায়বরেলির সাংসদের সঙ্গে ভারতের যুবসমাজের কোনও সংযোগ নেই।
বিজেপির জাতীয় মুখপাত্র প্রদীপ ভাণ্ডারি সোশ্যাল মিডিয়ায় কংগ্রেস নেতাদের একটি তালিকা প্রকাশ করে দেখান, কারা রাহুল গান্ধীর ‘ছাত্র কি গুঞ্জন’ কর্মসূচি নিয়ে পোস্ট করেছেন এবং কারা করেননি।
ভাণ্ডারি বলেন, “কংগ্রেস নেতারাই রাহুল গান্ধীর ‘ছাত্র কি গুঞ্জন’-এর আসল চিত্র প্রকাশ করছেন। এমনকি কংগ্রেস নেতারাও জানেন যে এটি একটি নিছক জনসংযোগের কৌশল। তাই দলের ৩৫ শতাংশ নেতাও এ নিয়ে পোস্ট করেননি।”
বিজেপি মুখপাত্রের দাবি, কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির (সিডব্লিউসি) ২৪৯ জন নেতার মধ্যে মাত্র ১১৩ জন ‘এক্স’-এ, ৪৮ জন ইনস্টাগ্রামে এই কর্মসূচি নিয়ে পোস্ট করেছেন। ৮৩ জন কোনও সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মেই পোস্ট করেননি।
ভাণ্ডারি বলেন, এই তালিকায় মণীশ তিওয়ারি, চরণজিৎ সিং চান্নি-সহ একাধিক প্রবীণ নেতা রয়েছেন। এমনকি সিডব্লিউসির সদস্য অজয় মাকেনের মতো নেতারাও এই কর্মসূচি নিয়ে পোস্ট করেননি বলে তিনি দাবি করেন। তাঁর কথায়, “সংবাদমাধ্যমের কেউ কেউ হয়তো খুব উৎসাহ দেখাচ্ছেন, কিন্তু কংগ্রেসের প্রবীণ নেতারাও জানেন—রাহুলের সঙ্গে ভারতের যুবসমাজের কোনও সংযোগ নেই।”
‘ছাত্র কি গুঞ্জন’ হল রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে দেশজুড়ে ছাত্রদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং তাদের বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরার একটি কর্মসূচি। এর মাধ্যমে প্রশ্নপত্র ফাঁস, পরীক্ষায় অনিয়ম, শিক্ষার ক্রমবর্ধমান খরচ, ছাত্রছাত্রীদের নিরাপত্তা এবং নারীদের অধিকার-সহ বিভিন্ন বিষয় সামনে আনা হচ্ছে।
গত ২২ আগস্ট মহারাষ্ট্রের পুণেতে এই কর্মসূচির একটি বড় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে বিপুল সংখ্যক ছাত্রছাত্রী ও তরুণী নেতৃত্বের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় করেন।
অনুষ্ঠানের কেন্দ্রীয় বিষয় ছিল ‘পিঞ্জরা তোড়ো’ বা ‘খাঁচা ভাঙো’। সেখানে রাহুল গান্ধী নারীদের ক্ষমতায়নের পক্ষে জোরালো সওয়াল করেন এবং মনুস্মৃতির মতাদর্শের সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, নারীরা কারও অধীন নন এবং সমাজে তাঁদের পরিচয় নিজেদের মতো করে প্রতিষ্ঠা করার অধিকার রয়েছে।
জেন জি-র ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে কথা বলার সময় রাহুল গান্ধী বলেন, “আমি আজ এখানে রাজনীতি নিয়ে কথা বলতে আসিনি।”
ভারতের সবচেয়ে বড় শক্তি কী—এই প্রশ্নের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, অনেকে অর্থনীতি, সামরিক শক্তি, স্বাস্থ্য পরিষেবা কিংবা দেশের জনসংখ্যাকে ভারতের প্রধান শক্তি হিসেবে দেখেন। তবে তাঁর মতে, “ভারতের ৭০ কোটি নারীই দেশের সবচেয়ে বড় শক্তি।”
রাহুল গান্ধী তরুণীদের সামাজিক বিধিনিষেধ ভেঙে নিজেদের স্বাধীন পরিচয় প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানান।
–আইএএনএস



















