গুয়াহাটি, ২৪ আগস্ট (আইএএনএস): অসম প্রিমিয়ার লিগের (এপিএল) প্রথম মরশুম রবিবার শেষ হল। ফাইনালে গুয়াহাটি রয়্যালসকে পাঁচ উইকেটে হারিয়ে প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়ন হল বরপেটা ব্রেভস। প্রতিষ্ঠিত ক্রিকেটারদের পাশাপাশি রাজ্যের উদীয়মান প্রতিভাদের জন্যও এই প্রতিযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ হিসেবে উঠে এসেছে।
প্রথম মরশুমেই একাধিক তরুণ ক্রিকেটার নজর কেড়েছেন। ডেনিশ দাস দুলীপ ট্রফির দলে জায়গা করে নিয়েছেন এবং এপিএল ছাড়ার আগে একটি শতরানও করেছেন। এছাড়া রোহিত সেন, বাস্তব রায়, শুভম কুমার গুপ্ত এবং আয়ুষ্মান মালাকারও টুর্নামেন্টে উল্লেখযোগ্য পারফরম্যান্স করেছেন। আটটি দলের হয়ে অসমের মোট ১৫০ জন ক্রিকেটার এই প্রতিযোগিতায় নিজেদের প্রতিভা তুলে ধরার সুযোগ পান।
এপিএল ঘিরে দেশের ক্রিকেট মহলেও আগ্রহ তৈরি হয়েছে। আইপিএলের দুই ফ্র্যাঞ্চাইজি কলকাতা নাইট রাইডার্স ও রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর স্কাউটরা প্রতিটি ম্যাচে উপস্থিত ছিলেন। বিসিসিআই সভাপতি মিঠুন মানহাসও টুর্নামেন্টের ম্যাচে উপস্থিত ছিলেন। ফলে অসম থেকে উঠে আসা ক্রিকেট প্রতিভার প্রতি জাতীয় স্তরের নজর আরও বেড়েছে।
প্রথম মরশুমে প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটের পাশাপাশি একাধিক ২০০-র বেশি রান, সফল রান তাড়া এবং শেষ ওভারে রুদ্ধশ্বাস ম্যাচ দেখা গেছে। ফাইনাল দেখতে মাঠে উপস্থিত ছিলেন ২৫ হাজারেরও বেশি দর্শক। এতে অসমের ক্রিকেটপ্রেমীদের মধ্যে লিগটির জনপ্রিয়তার প্রমাণ মিলেছে।
অসম ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি তরঙ্গ গোস্বামী বলেন, অসমে ক্রিকেটের বিকাশের ক্ষেত্রে এপিএল একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ। এই মরশুমে ক্রিকেটারদের পারফরম্যান্স রাজ্যজুড়ে থাকা প্রতিভার পরিচয় দিয়েছে। নিয়মিত প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটের সুযোগ ক্রিকেটারদের উন্নতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেও জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, রাজ্যস্তরের প্রতিযোগিতাগুলির গুরুত্ব ক্রমশ বাড়ছে। দেশের প্রচলিত ক্রিকেট কেন্দ্রগুলির বাইরেও প্রতিভা উঠে আসায় এই ধরনের লিগ ভারতীয় ক্রিকেটের পরিসর আরও বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।
স্টেডিয়ামের বাইরেও এপিএলের প্রভাব দেখা গেছে। টুর্নামেন্ট চলাকালীন সোশ্যাল মিডিয়ায় ১০ কোটিরও বেশি অর্গানিক ভিউ পেয়েছে লিগটি। এর জন্য কোনও মিডিয়া স্পেন্ড, ইনফ্লুয়েন্সার ক্যাম্পেন বা বিপুল সোশ্যাল মিডিয়া ফলোয়ার থাকা ক্রিকেটারদের উপর নির্ভর করতে হয়নি। স্থানীয় ক্রিকেটের প্রতি মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত আগ্রহ থেকেই এই বিপুল পৌঁছনো সম্ভব হয়েছে বলে আয়োজকদের দাবি।
বাণিজ্যিক দিক থেকেও প্রথম মরশুমে ভালো সাড়া মিলেছে। বিভিন্ন ক্ষেত্রের মোট ১৪টি স্পনসর ও পার্টনার এপিএলের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। এই অংশীদারিত্ব ভবিষ্যতে লিগটির বাণিজ্যিক সম্প্রসারণের জন্য ইতিবাচক ভিত্তি তৈরি করেছে।
—আইএএনএস



















