তিরুবনন্তপুরম, ২৪ আগস্ট (আইএএনএস): সৌদি আরব থেকে কেরলে ফিরে আসা অভিবাসীদের মধ্যে নারীর বিরুদ্ধে লিঙ্গভিত্তিক হিংসা নিয়ে তুলনামূলকভাবে বেশি রক্ষণশীল মনোভাব এবং নারীদের শারীরিক নির্যাতন সম্পর্কে আরও চরম দৃষ্টিভঙ্গি দেখা গিয়েছে—বিশ্বব্যাঙ্কের একটি গবেষণার এমন তথ্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করলেন কংগ্রেস নেতা তথা তিরুবনন্তপুরমের সাংসদ শশী থারুর।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওই গবেষণার তথ্য তুলে ধরা একটি পোস্টের জবাবে থারুর বলেন, “এই রিপোর্টগুলি উদ্বেগজনক।” বিদেশে থাকার সময় অর্জিত রক্ষণশীল সামাজিক মনোভাব দেশে ফিরে আসার পর কতটা প্রভাব ফেলছে, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
থারুর বলেন, কেরল দীর্ঘদিন ধরে ইসলামের একটি উদার ও প্রগতিশীল চর্চার জন্য পরিচিত। তাঁর মতে, এই চর্চা রাজ্যের বহুত্ববাদী সহাবস্থান ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির সঙ্গে সম্পূর্ণ সামঞ্জস্যপূর্ণ।
কেরলে মুসলিম কন্যা ও মহিলাদের শিক্ষার ক্ষেত্রেও দীর্ঘদিন ধরে অগ্রগতি হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। ছেলে ও পুরুষদের মতোই মুসলিম মেয়েদের ও মহিলাদের শিক্ষার সুযোগ দেওয়ার ক্ষেত্রে রাজ্যের রেকর্ডের কথাও তুলে ধরেন কংগ্রেস নেতা।
থারুর বলেন, বিদেশ থেকে রক্ষণশীল, এমনকি প্রতিক্রিয়াশীল মনোভাব ও রীতিনীতির আমদানি, ওই গবেষণায় যে প্রবণতার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে, তা কেরলের দীর্ঘদিনের সামাজিক মূল্যবোধের সঙ্গে মৌলিকভাবে অসঙ্গত। বিষয়টি নিয়ে মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে গুরুত্ব সহকারে আত্মসমালোচনা ও অভ্যন্তরীণ আলোচনা হওয়া প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
থারুর যে পোস্টটির প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন, সেখানে বিশ্বব্যাঙ্কের একটি গবেষণার ফলাফল তুলে ধরা হয়েছিল। সৌদি আরব এবং অন্যান্য উপসাগরীয় দেশে অভিবাসনের অভিজ্ঞতা কেরলের ফিরে আসা অভিবাসীদের লিঙ্গ সম্পর্কিত সামাজিক ধারণায় প্রভাব ফেলেছে কি না, তা নিয়ে ওই গবেষণা করা হয়।
গবেষণায় দেখা গেছে, সৌদি আরব থেকে ফিরে আসা অভিবাসীদের মনোভাব উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে ফিরে আসা অভিবাসীদের সামগ্রিক প্রবণতার তুলনায় আলাদা। কোনও অভিবাসন অভিজ্ঞতা নেই এমন ব্যক্তিদের তুলনায় সৌদি আরব ফেরতদের মধ্যে লিঙ্গভিত্তিক হিংসা সম্পর্কে মনোভাব তিন স্ট্যান্ডার্ড ডেভিয়েশন পর্যন্ত বেশি রক্ষণশীল ছিল।
নারীদের বিরুদ্ধে শারীরিক হিংসা সংঘটনের বিষয়ে সৌদি আরব ফেরতদের মধ্যেও তুলনামূলকভাবে বেশি রক্ষণশীল মনোভাবের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
তবে উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে ফিরে আসা অভিবাসীদের সামগ্রিক গোষ্ঠীর ক্ষেত্রে গবেষণায় বিপরীত প্রবণতা দেখা গেছে।
বিশ্বব্যাঙ্কের সোশ্যাল সাসটেইনেবিলিটি অ্যান্ড ইনক্লুশন গ্লোবাল প্র্যাকটিসের আওতায় গবেষণাটি পরিচালিত হয়। উপসাগরীয় দেশগুলি থেকে আসা রেমিট্যান্সের উল্লেখযোগ্য অর্থনৈতিক সুবিধার পাশাপাশি অভিবাসনের সামাজিক প্রভাবও এই গবেষণায় খতিয়ে দেখা হয়েছে।
গবেষকরা অবশ্য সতর্ক করে বলেছেন, গবেষণার ফলাফল শুধুমাত্র একটি সম্পর্ক বা প্রবণতা নির্দেশ করে; সৌদি আরবে অভিবাসনের কারণেই রক্ষণশীল মনোভাব তৈরি হয়েছে—এমন সরাসরি কারণ-ফল সম্পর্ক প্রমাণ করে না এই গবেষণা।
তবে গবেষণার ফলাফল এবং তা নিয়ে শশী থারুরের মন্তব্য কেরলে উপসাগরীয় অভিবাসনের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রভাব নিয়ে নতুন করে সংবেদনশীল আলোচনার সূত্রপাত করেছে। বিদেশে অর্জিত সামাজিক মনোভাব দেশে ফিরে কেরলের সমাজে কতটা প্রভাব ফেলছে, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
—আইএএনএস
























