কলকাতা, ২৩ আগস্ট (আইএএনএস): প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে আত্মনির্ভরতা ভারতের সামরিক সক্ষমতাকে বহুগুণ বাড়িয়ে তুলবে বলে জানালেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। একইসঙ্গে পশ্চিমবঙ্গে শিল্পের পুনরুত্থানের আহ্বান জানিয়ে ভারতকে বিশ্বের অন্যতম বড় জাহাজ নির্মাণ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার রূপরেখাও তুলে ধরেন তিনি।
রবিবার কলকাতায় গার্ডেন রিচ শিপবিল্ডার্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেড এবং যন্ত্র ইন্ডিয়া লিমিটেড-এর পাঁচটি ব্রাউনফিল্ড সম্প্রসারণ প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী। পাঁচটি প্রকল্পে মোট ৩,৪২০ কোটি টাকা বিনিয়োগ হবে।
অপারেশন সিঁদুরে দেশীয় অস্ত্র ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সফলভাবে ব্যবহারের প্রসঙ্গ তুলে ধরে রাজনাথ সিং বলেন, “আত্মনির্ভরতা যুদ্ধক্ষেত্রে সামরিক সক্ষমতার গুণক হিসেবে কাজ করে। প্রধানমন্ত্রী স্বাধীনতা দিবসের ভাষণেও আত্মনির্ভরতার কথা বলেছেন। দেশকে বিকশিত ভারতে পরিণত করার সময়সীমার মধ্যে প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ আত্মনির্ভর হতে হবে।”
প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে আত্মনির্ভরতা অর্জনে জিআরএসই এবং ওয়াইআইএল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে বলে জানান তিনি। রাজনাথ বলেন, জিআরএসই-র তৈরি করা নেক্সট জেনারেশন অফশোর পেট্রোল ভেসেল-এ প্রায় ৮০ শতাংশ দেশীয় উপাদান থাকবে। অন্যদিকে ওয়াইআইএল-এর মেটাল অ্যান্ড স্টিল ফ্যাক্টরি অস্ত্র ব্যবস্থার জন্য উচ্চমানের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ তৈরি করছে।
তিনি বলেন, “এই কারখানায় উৎপাদিত ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়ামের মূল্য সোনার সমান।”
জাহাজ নির্মাণে নকশা থেকে সরবরাহ পর্যন্ত দীর্ঘ সময় লাগে বলেও উল্লেখ করেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী। তাঁর মতে, একটি যুদ্ধজাহাজ তৈরি করতে পাঁচ থেকে দশ বছর এবং বড় বাণিজ্যিক জাহাজ তৈরি করতে ১৫ থেকে ২০ বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।
রাজনাথ বলেন, “একটি জাহাজ সরবরাহের জন্য প্রস্তুত হওয়ার সময় প্রযুক্তি অনেকটাই এগিয়ে যেতে পারে। তাই জাহাজ নির্মাণের গোটা প্রক্রিয়াতেই এই বিষয়টি বিবেচনায় রাখতে হবে, যাতে সরবরাহের সময় জাহাজটি সত্যিই অত্যাধুনিক থাকে।”
বিশ্বের জাহাজ নির্মাণ ক্ষেত্রে বর্তমানে যে শূন্যস্থান তৈরি হয়েছে, ভারতকে তার সুযোগ নিতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। জাহাজের নকশা, নির্মাণ এবং রক্ষণাবেক্ষণ, মেরামত ও ওভারহল পরিষেবা পরিকাঠামো গড়ে তোলার উপর জোর দেন তিনি।
এমআরও-কে ‘সহজে কাজে লাগানো যায় এমন সুযোগ’ হিসেবে উল্লেখ করে রাজনাথ বলেন, এতে তুলনামূলক কম বিনিয়োগের মাধ্যমে ভালো আয় করা সম্ভব। বিভিন্ন দেশ যুদ্ধজাহাজ ও বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য এই পরিষেবা খুঁজছে এবং জিআরএসই ইতিমধ্যেই সেই সুযোগ খতিয়ে দেখা শুরু করেছে বলে জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর স্বাধীনতা দিবসের ভাষণের উল্লেখ করে প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, ভারতীয় জাহাজ নির্মাতাদের প্রতিযোগিতামূলক দামে মানসম্পন্ন পণ্য সরবরাহ করতে হবে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে আগ্রাসীভাবে দরপত্রে অংশ নিতে হবে। শুরুতে লাভের পরিমাণ কম হলেও বেশি পরিমাণে কাজ পাওয়ার মাধ্যমে তা পূরণ করা সম্ভব হবে বলে জানান তিনি।
জিআরএসই-র মতো জাহাজ নির্মাণ সংস্থাগুলির মানসম্পন্ন স্পেয়ার পার্টস ও যন্ত্রাংশ সংগ্রহের সমস্যার কথাও স্বীকার করেন রাজনাথ। প্রয়োজন অনুযায়ী এখনও বেসরকারি ক্ষেত্রের অংশগ্রহণ হয়নি বলে তিনি জানান। অনুষ্ঠানে উপস্থিত শিল্পপতিদের এই উদ্যোগে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এর মাধ্যমে ব্যবসায়িক লাভের সুযোগও তৈরি হবে।
জাহাজ নির্মাণ সংস্থাগুলিকে এই ক্ষেত্রে সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহায়তার আশ্বাস দেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী। পশ্চিমবঙ্গে ৩,৪২০ কোটি টাকার বিনিয়োগ কর্মসংস্থান এবং শিল্পোন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেও জানান তিনি।
জিআরএসই ভবিষ্যতে ভারতীয় নৌবাহিনীর প্রস্তাবিত নেক্সট জেনারেশন ডেস্ট্রয়ার নির্মাণের দরপত্রেও অংশ নিতে পারবে বলে জানান রাজনাথ।
পশ্চিমবঙ্গে শিল্পের পুনরুত্থানের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “আমরা পশ্চিমবঙ্গে শিল্পের পুনর্জাগরণ দেখতে চাই। রাজ্যে নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর পরিস্থিতির পরিবর্তন হচ্ছে।”
সীমান্ত নিরাপত্তার প্রসঙ্গে রাজনাথ বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সীমান্তরক্ষী বাহিনী সীমান্তে চৌকি তৈরি ও বেড়া দেওয়ার জন্য রাজ্য সরকারের কাছে জমি চেয়ে আসছিল। কিন্তু আগের সরকার সাড়া দেয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
রাজনাথের দাবি, নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার মাত্র ৪৫ দিনের মধ্যে দেশের সীমান্ত সুরক্ষার গুরুত্বপূর্ণ কাজের জন্য ১,১০০ একর জমি বরাদ্দ করেছে। তিনি বলেন, “এখন রাজ্যে একজন গতিশীল মুখ্যমন্ত্রী রয়েছেন। পশ্চিমবঙ্গে পরিবর্তন আসবে।”



















