নয়াদিল্লি, ২৩ আগস্ট (আইএএনএস): লোকসভায় বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী মহিলাদের দেশের ‘সবচেয়ে বড় সম্পদ’ বলে মন্তব্য করার একদিন পরেই তাঁকে নিশানা করলেন বিজেপির জাতীয় সাধারণ সম্পাদক স্মৃতি ইরানি। নাম না করে তিনি রাহুল গান্ধীর কাছে সংসদ ও বিধানসভায় মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণের ‘নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম’-এর দ্রুত বাস্তবায়নে সমর্থন জানানোর আবেদন করেন। পাশাপাশি কংগ্রেস সদর দফতরে জাতীয় সঙ্গীত ‘বন্দে মাতরম’-এর পূর্ণাঙ্গ সংস্করণ গাওয়ার পক্ষেও সওয়াল করেন তিনি।
বিজেপির নতুন নিযুক্ত পদাধিকারী, রাজ্য প্রভারী ও রাজ্য সভাপতিদের নিয়ে বিজেপি সভাপতি নিতিন নবীন-এর নেতৃত্বে আয়োজিত বৈঠকের দ্বিতীয় দিনে যোগ দেওয়ার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় স্মৃতি ইরানি এই মন্তব্য করেন।
শনিবার পুনেতে ‘ছাত্রোঁ কি গুঞ্জ’ অনুষ্ঠানে রাহুল গান্ধী বলেছিলেন, দেশের সবচেয়ে বড় শক্তি হলেন মহিলারা। তাঁরা কারও সম্পত্তি নন, নিজেদের স্বাধীন সত্তা রয়েছে—এই বার্তা দিয়ে তরুণীদের ‘খাঁচা ভেঙে বেরিয়ে আসার’ আহ্বান জানান তিনি।
পাশাপাশি পিতৃতান্ত্রিক কাঠামোর তীব্র সমালোচনা করে রাহুল গান্ধী বলেছিলেন, মহিলাদের নির্ভরশীল করে রাখা ‘মনুস্মৃতি মানসিকতার’ অংশ।
রাহুলের এই মন্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে স্মৃতি ইরানি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সংসদ ও রাজ্য বিধানসভায় মহিলাদের ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণের প্রস্তাব এনেছেন এবং আইন পাশ করিয়েছেন। এর ফলে দেশের আইনসভায় মহিলাদের প্রতিনিধিত্ব ও মর্যাদা বৃদ্ধি পাবে। প্রধানমন্ত্রী সব রাজনৈতিক দলকে দ্রুত এই মহিলা সংরক্ষণ কার্যকর করার আহ্বানও জানিয়েছেন।”
তিনি বলেন, কংগ্রেসের একজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা যখন মহিলাদের এবং মহিলা নেতৃত্বের পক্ষে কথা বলছেন, তখন তাঁর কাছে অনুরোধ, প্রধানমন্ত্রী মোদির এই উদ্যোগকে সমর্থন করুন এবং দ্রুত মহিলা সংরক্ষণ আইন কার্যকর করার পক্ষে দাঁড়ান।
‘বন্দে মাতরম’ নিয়ে বিতর্কের প্রসঙ্গেও রাহুল গান্ধীকে নিশানা করেন বিজেপি নেত্রী। তিনি বলেন, রাহুল গান্ধীর অনুষ্ঠানে হিন্দু ধর্ম নিয়ে মন্তব্য করা হয়েছিল এবং হিন্দুরা ভগবতী, লক্ষ্মী ও সরস্বতীর উপাসনা করেন।
এরপর স্মৃতি ইরানি বলেন, “‘বন্দে মাতরম’-এর যে স্তবকগুলি কংগ্রেস সদর দফতরে গাওয়া বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, সেখানে মা দুর্গার উল্লেখ রয়েছে। আমরা মা দুর্গাকে ঐশ্বরিক শক্তির প্রতীক হিসেবে উপাসনা করি। তাই মা দুর্গার সেই বন্দনা এবং ‘বন্দে মাতরম’-এর পূর্ণাঙ্গ পরিবেশন কংগ্রেস সদর দফতরে হওয়া উচিত।”
তিনি আরও বলেন, মহিলাদের পক্ষে কথা বলার পাশাপাশি এই দুটি পদক্ষেপ গ্রহণ করলে সংশ্লিষ্ট কংগ্রেস নেতা তাঁর বক্তব্যকে বাস্তবে রূপ দিতে পারবেন।
স্বাধীনতা দিবসে কংগ্রেস সদর দফতরে ‘বন্দে মাতরম’ পরিবেশনের সময় দলের শীর্ষ নেতাদের ভূমিকা এবং পরে কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটি-র দলীয় কর্মসূচিতে জাতীয় সঙ্গীতটির প্রথম দুটি স্তবকই পরিবেশনের সিদ্ধান্ত ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
সিডব্লিউসি-র সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে স্মৃতি ইরানি বলেন, “কোনও রাজনৈতিক দল দেশের সংসদের চেয়ে বড় হতে পারে না। কোনও রাজনৈতিক দলের বক্তব্যও দেশের সংসদের চেয়ে বড় নয়।”



















