হরিদ্বার, ২৩ আগস্ট (আইএএনএস): ‘বন্দে মাতরম’-এর পূর্ণাঙ্গ সংস্করণ গাওয়া নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই রবিবার যোগগুরু বাবা রামদেব দাবি করলেন, জাতীয় সঙ্গীতের এই গান কোনও হিন্দু দেবদেবীর সরাসরি উপাসনা নয়, বরং ‘ভারতমাতার বন্দনা’কে তুলে ধরে।
উত্তরাখণ্ডের হরিদ্বারে একটি অনুষ্ঠানের ফাঁকে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে রামদেব বলেন, “আমরা ভারতমাতাকে দুর্গা, লক্ষ্মী হিসেবে দেখি। তিনি আমাদের বিশ্বাস, জ্ঞান, মন্দির এবং যিনি আমাদের রক্ষা ও শক্তি দেন। তিনি আমাদের কাছে সর্বোচ্চ এবং ভক্তি ও আকাঙ্ক্ষার চূড়ান্ত প্রতীক।”
‘বন্দে মাতরম’-এ দেবদেবী, মঠ বা মন্দিরের উল্লেখ রয়েছে বলে যারা মনে করেন, তাদের সংস্কৃত সম্পর্কে আরও পড়াশোনা করা উচিত বলে মন্তব্য করেন রামদেব। তাঁর কথায়, ভারতমাতাই জ্ঞান, বিশ্বাস, মন্দির, উপাসনা, কর্তব্য, লক্ষ্য, গন্তব্য, ধর্ম এবং সবকিছু—‘বন্দে মাতরম’-এর মূল অর্থ এটাই।
যোগগুরু বলেন, ‘বন্দে মাতরম’-এ ভারতমাতার বন্দনাকে নির্দিষ্ট দেবদেবী বা মন্দিরের উপাসনার সঙ্গে যুক্ত করে কোনও বিশেষ ধর্মের বিরোধী বলে চিহ্নিত করা “বুদ্ধিবৃত্তিক দেউলিয়াপনা”।
ছাত্রদের বিভিন্ন প্রতিবাদ নিয়ে প্রশ্নের উত্তরে রামদেব বলেন, কেন্দ্র সরকার শিক্ষা ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থা, অর্থনীতি, কৃষি এবং গণতন্ত্রের বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংস্কারের কাজ করছে। কিন্তু কিছু মানুষ মনে করছেন দেশে কোনও ভালো কাজই হচ্ছে না।
তিনি অভিযোগ করেন, এমনকি পাঁচ, সাত বা দশ বছরের শিশুদেরও প্রতিবাদে সামিল করা হচ্ছে এবং তাদের থানায় ঘেরাও, পুলিশ সুপার বা জেলাশাসকের দফতর ঘেরাও করে রাস্তায় দাঁড়াতে বলা হচ্ছে। তাঁর মতে, অপ্রাপ্তবয়স্কদের কোনওভাবেই প্রতিবাদে ঠেলে দেওয়া উচিত নয়।
তবে ১৮ বছরের বেশি বয়সী কেউ যদি মনে করেন তাঁর সঙ্গে অন্যায় হচ্ছে, তাহলে তাঁর অবশ্যই প্রতিবাদে এগিয়ে আসা উচিত বলে জানান রামদেব। ছাত্র, রোগী, কৃষক, তফসিলি জাতি-উপজাতি কিংবা ব্রাহ্মণ—যে কারও সঙ্গে অন্যায় হলে তার বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
রামদেব বলেন, কোনও তফসিলি জাতি বা উপজাতির ব্যক্তিকে অপমান করা যেমন সংবিধানবিরোধী, তেমনই ব্রাহ্মণদের অপমান করাও গণতন্ত্রবিরোধী। কোনও ব্যক্তিকে তাঁর জাতির ভিত্তিতে গালিগালাজ করা উচিত নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
দেশে ঘৃণার প্রাচীর তৈরি হতে দেবেন না বলে জানিয়ে উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামির প্রশংসা করেন রামদেব। রাজ্যে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি কার্যকর করার উদ্যোগেরও প্রশংসা করেন তিনি।
তিনি বলেন, “দেশের প্রতিটি মানুষের জন্য একই ধরনের স্বাস্থ্য পরিষেবা, শিক্ষা এবং একই সাংবিধানিক অধিকার নিশ্চিত হওয়া উচিত।”
এদিকে, কয়েকদিন আগে বিজেপি সাংসদ কঙ্গনা রানাউত রামদেবকে তাঁর যৌবন বা ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে মন্তব্য না করার পরামর্শ দিয়েছিলেন। সেই প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে যোগগুরু বলেন, “স্বামী রামদেব কে এবং দেশের জন্য তাঁর অবদান কী, তা দেশের মানুষ জানেন। তাই এমন মর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের সম্পর্কে আমি কোনও মন্তব্য করতে চাই না।”
______



















