কলকাতা, ২৩ আগস্ট (আইএএনএস): আগামী দিনে পশ্চিমবঙ্গে আরও বিনিয়োগ করা হবে বলে প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং তাঁকে আশ্বাস দিয়েছেন বলে জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রবিবার কলকাতার গার্ডেন রিচ শিপবিল্ডার্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেডে এক অনুষ্ঠানে এই কথা জানান তিনি।
এদিন জিআরএসই-তে পাঁচটি ব্রাউনফিল্ড সম্প্রসারণ প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। প্রকল্পগুলির মোট মূল্য ৩,৪২০ কোটি টাকা। এর মধ্যে তিনটি প্রকল্প জিআরএসই-র এবং দুটি প্রকল্প ইশাপুরের মেটাল অ্যান্ড স্টিল ফ্যাক্টরি-র, যা যন্ত্র ইন্ডিয়া লিমিটেড-এর একটি ইউনিট।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “বিমানবন্দর থেকে প্রতিরক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে আসার সময় তিনি আমাকে পশ্চিমবঙ্গে আরও বিনিয়োগের আশ্বাস দিয়েছেন। আমি উত্তরপ্রদেশের মতো রাজ্যগুলিকে যে ধরনের সহায়তা দেওয়া হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গের জন্যও সেই ধরনের সহযোগিতা চেয়েছি। রাজ্যে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পরই, ৪ মে, রাজনাথ সিংজি আমাকে বলেছিলেন যে তিনি বিনিয়োগ নিয়ে পশ্চিমবঙ্গে আসবেন। তিনি তাঁর প্রতিশ্রুতি রেখেছেন।”
অধিকারী অভিযোগ করেন, আগের রাজ্য সরকারগুলি পশ্চিমবঙ্গের উন্নয়নের জন্য কেন্দ্রের সঙ্গে যথাযথ সহযোগিতা ও সমন্বয় করেনি। এমনকি কেন্দ্রের সরকারি কর্মসূচিতেও আগের মুখ্যমন্ত্রীরা আমন্ত্রণ পাওয়ার পর উপস্থিত হতেন না বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি বলেন, “৪৯ বছরের এই নেতিবাচক মনোভাবের ফলে রাজ্যে শিল্পের সম্পূর্ণ পতন হয়েছে। বেকারত্ব রয়েছে। কিন্তু আমাদের বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার মাত্র ১০৬ দিনের মধ্যেই পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করেছে।”
জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়েও আগের তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের বিরুদ্ধে উদাসীনতার অভিযোগ তোলেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, ২০১৬ সালে তৎকালীন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে অতিরিক্ত বিএসএফ চৌকি তৈরি এবং সীমান্তে বেড়া দেওয়ার জন্য রাজ্য সরকারের কাছে জমি চেয়েছিলেন। কিন্তু সেই সময় কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
অধিকারী বলেন, “এর সঙ্গে রাজনীতির কোনও সম্পর্ক নেই। আমরা ক্ষমতায় আসার কয়েক দিনের মধ্যেই বিএসএফকে ৯০ শতাংশ জমি দিয়ে দিয়েছি।”
জিআরএসই-কে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, শিল্পের জন্য যখনই জমির প্রয়োজন হবে, রাজ্য সরকার তা দেওয়ার ব্যবস্থা করবে।
জিআরএসই-র কলকাতা, হাওড়ার শালিমার এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনার রায়চকে তিনটি সম্প্রসারণ প্রকল্পের মাধ্যমে সংস্থাটির জাহাজ নির্মাণ ও মেরামতির সক্ষমতা আরও বাড়বে। নতুন পরিকাঠামো তৈরি হলে জিআরএসই আরও বড় আকারের যুদ্ধজাহাজ এবং বাণিজ্যিক জাহাজ নির্মাণ ও মেরামত করতে পারবে।
জিআরএসই-র চেয়ারম্যান ও ম্যানেজিং ডিরেক্টর কমোডর পি.আর. হরি (অবসরপ্রাপ্ত) বলেন, সংস্থাটি পশ্চিমবঙ্গের বৃহত্তম হেভি ইঞ্জিনিয়ারিং ইউনিট। প্রতিরক্ষামন্ত্রী সবসময় সংস্থার পাশে দাঁড়িয়েছেন বলেও তিনি কৃতজ্ঞতা জানান।
তিনি বলেন, “২০১৯ সাল থেকে জিআরএসই ২৪টি যুদ্ধজাহাজ নির্মাণ করে জলে নামিয়েছে এবং এর মধ্যে ২২টি হস্তান্তর করা হয়েছে। বর্তমানে আমরা একই সঙ্গে বিভিন্ন শ্রেণির ২৮টি জাহাজ নির্মাণের সক্ষমতা রাখি।”
নতুন পরিকাঠামো তৈরি হলে জিআরএসই-র একসঙ্গে ৩২টি প্ল্যাটফর্ম নির্মাণের সক্ষমতা হবে। পাশাপাশি সর্বোচ্চ ২০০ মিটার দৈর্ঘ্যের যুদ্ধজাহাজ এবং ৬০,০০০ গ্রস টন পর্যন্ত বাণিজ্যিক জাহাজ নির্মাণের ক্ষমতাও তৈরি হবে।



















