নয়াদিল্লি, ২৩ আগস্ট (আইএএনএস): জাতীয় মহাকাশ দিবসে রবিবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেছেন, মহাকাশ ক্ষেত্রে ভারতের বিশ্বব্যাপী উত্থান, বিশেষ করে বেসরকারি মহাকাশ ক্ষেত্রের অগ্রগতি, দেশটিকে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের কাছে একটি ‘আকর্ষণের কেন্দ্র’ করে তুলেছে।
প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তৃতার একটি ভিডিও শেয়ার করে বলেন, ভারতের মহাকাশ কর্মসূচি বিশ্ব মঞ্চে দেশের ক্রমবর্ধমান উপস্থিতির স্পষ্ট প্রতিফলন। অযোধ্যায় তাঁর বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, এটি পরিবর্তনের একটি নতুন চক্রের সূচনা এবং এই নতুন পর্যায়ে ভারত মহাকাশ ক্ষেত্রে বিশ্বব্যবস্থায় নিজের অবস্থান ক্রমশ শক্তিশালী করছে।
তিনি বলেন, ২০৪৭ সালের মধ্যে ভারতকে একটি উন্নত দেশে পরিণত করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে এবং এই লক্ষ্য পূরণে মহাকাশ ক্ষেত্র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
দেশের বেসরকারি মহাকাশ ক্ষেত্রের প্রশংসা করে মোদি বলেন, ভারতের বেসরকারি মহাকাশ প্রতিভা বিশ্বে নিজেদের পরিচয় তৈরি করছে। আজ ভারতের মহাকাশ ক্ষেত্র বিশ্বজুড়ে বিনিয়োগকারীদের কাছে আকর্ষণের কেন্দ্র হয়ে উঠেছে।
দেশের তরুণ প্রজন্মের প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জেন জি’-র ইঞ্জিনিয়ার, ডিজাইনার, কোডার ও বিজ্ঞানীরা নতুন প্রযুক্তি তৈরি করছেন। প্রপালশন সিস্টেম, কম্পোজিট উপাদান, রকেট স্টেজ থেকে শুরু করে স্যাটেলাইট প্ল্যাটফর্ম—এমন বহু ক্ষেত্রে ভারতের তরুণরা কাজ করছেন, যা কয়েক বছর আগেও কল্পনা করা কঠিন ছিল।
তিনি বলেন, ইসরোর সাফল্য দেশের পরবর্তী প্রজন্মের বিজ্ঞানীদের অনুপ্রাণিত করছে। ইসরোর সাফল্য দেখে বহু শিশু ভবিষ্যতে বিজ্ঞানী হওয়ার স্বপ্ন দেখছে বলেও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।
ভারতে প্রতি বছর ২৩ আগস্ট জাতীয় মহাকাশ দিবস পালিত হয়। ২০২৩ সালের এই দিনে চন্দ্রযান-৩-এর বিক্রম ল্যান্ডার চাঁদের দক্ষিণ মেরুর কাছে সফলভাবে অবতরণ করেছিল। এর মাধ্যমে ওই অঞ্চলে সফলভাবে অবতরণকারী বিশ্বের প্রথম দেশ হয়ে ওঠে ভারত। এই সাফল্য ভারতের মহাকাশ কর্মসূচির এক ঐতিহাসিক মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হয় এবং দেশের বৈজ্ঞানিক ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতার অগ্রগতি তুলে ধরে।
জাতীয় মহাকাশ দিবস ২০২৬ উপলক্ষে ইসরোর চেয়ারম্যান তথা মহাকাশ দফতরের সচিব ড. ভি. নারায়ণনও ভারতকে মহাকাশ ক্ষেত্রে বিশ্বনেতৃত্বের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে আরও বেশি উদ্ভাবন, সহযোগিতা ও উচ্চাকাঙ্ক্ষার আহ্বান জানিয়েছেন।
২০২৬ সালের জাতীয় মহাকাশ দিবসের মূল ভাবনা, ‘বিক্ষিত ভারতের পথে: উদ্ভাবন, সহযোগিতা এবং বৈশ্বিক মহাকাশ নেতৃত্বে আকাঙ্ক্ষা’। এই ভাবনার মাধ্যমে বৈজ্ঞানিক ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি উদ্ভাবন, অংশীদারিত্ব এবং আন্তর্জাতিক মহাকাশ ক্ষেত্রে ভারতের অংশগ্রহণ বাড়ানোর লক্ষ্যের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
জাতীয় মহাকাশ দিবস ২০২৬-এর বার্তায় ড. ভি. নারায়ণন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সীমানা আরও প্রসারিত করার পাশাপাশি ভারতের মহাকাশ বাস্তুতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে বিভিন্ন অংশীদারের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়ানোর গুরুত্ব তুলে ধরেছেন।



















