জয়পুর, ২২ আগস্ট (আইএএনএস): রাজস্থানের একটি গ্রামের সরকারি স্কুলের বেহাল দশা নিয়ে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-র কর্মী ও গ্রামবাসীদের মধ্যে সংঘর্ষ ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগের মধ্যে মূল প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে—গ্রামের পড়ুয়াদের জন্য কবে তৈরি হবে নিরাপদ ও উপযুক্ত স্কুল ভবন?
বাগরু বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত রামপুরা-কানওয়ারপুরা গ্রামের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি গত এক থেকে দুই বছর ধরে জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। গ্রামবাসীদের দাবি, নতুন স্কুল ভবন নির্মাণের জন্য সরকার প্রায় ১২ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করেছে। তা সত্ত্বেও পড়ুয়াদের এখনও অস্থায়ী জায়গায় পড়াশোনা করতে হচ্ছে বলে প্রশ্ন উঠেছে।
শুক্রবার বিষয়টি নতুন করে সামনে আসে। স্কুলের পরিস্থিতি পরিদর্শনে সিজেপি-র একটি দল গ্রামে পৌঁছলে গ্রামবাসীদের সঙ্গে তাদের বচসা ও সংঘর্ষ বাধে। সিজেপি কর্মীদের অভিযোগ, তাঁদের মারধর করা হয় এবং স্কুল পরিদর্শনে বাধা দেওয়া হয়। অন্যদিকে গ্রামবাসীদের বক্তব্য, কোনও রাজনৈতিক সংগঠনকে স্কুলকে সংঘর্ষের জায়গায় পরিণত করতে দেওয়া উচিত নয়। তাঁদের দাবি, তাঁরাও স্কুলটির পুনর্নির্মাণ চান।
পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যখন বিক্ষোভকারীরা ট্রাক্টর-ট্রলি দিয়ে রাস্তা অবরোধ করেন। পরে সিজেপি-র মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কাকে সঙ্গে নিয়ে দলটি ফের এলাকায় গেলে দ্বিতীয় দফায় সংঘর্ষের পরিস্থিতি তৈরি হয়।
এরপর সিজেপি রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী মদন দিলাওয়ারের বিরুদ্ধে ঘটনার পিছনে ইন্ধন দেওয়ার অভিযোগ তোলে এবং ৪৮ ঘণ্টার সময়সীমা দিয়ে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া ও স্কুল পরিদর্শনের উপর আরোপিত বিধিনিষেধ প্রত্যাহারের দাবি জানায়।
তবে দিলাওয়ার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে গ্রামবাসীদের পাশে দাঁড়ান। তাঁর বক্তব্য, স্কুলের নিরাপত্তা বজায় রাখা জরুরি এবং কোনও ব্যক্তি বা সংগঠনকে স্কুলে প্রবেশের আগে প্রধান শিক্ষকের অনুমতি নিতে হবে।
রাজনৈতিক চাপানউতোরের মধ্যেই স্কুল ভবন নির্মাণের মূল বিষয়টি আড়ালে চলে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। গ্রামবাসীদের দাবি, নতুন ভবনের জন্য প্রায় ১২ লক্ষ টাকা ইতিমধ্যেই অনুমোদিত হয়েছে। তা হলে এখন রাজনৈতিক সংঘাতের বদলে প্রকল্প বাস্তবায়নের দিকে নজর দেওয়া প্রয়োজন।
জানা গিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে বেহাল স্কুলটির পড়ুয়ারা একটি ব্যক্তিগত বাড়িতে বসে পড়াশোনা করছে। ওই জায়গার জন্য ভাড়া দেওয়া নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
ফলে একাধিক বাস্তব প্রশ্ন সামনে এসেছে—নতুন ভবনের নির্মাণ কবে শুরু হবে? নির্মাণ শেষ না হওয়া পর্যন্ত পড়ুয়ারা কোথায় পড়াশোনা করবে? নির্মাণকাজের গুণমান ও অগ্রগতি কে পর্যবেক্ষণ করবে? নতুন ভবনে পড়ুয়াদের প্রয়োজনীয় মৌলিক পরিকাঠামো নিশ্চিত করা হবে কি না?
গ্রামবাসীদের মধ্যেও স্কুলের বেহাল দশা নিয়ে প্রায় কোনও মতবিরোধ নেই। স্থানীয় বাসিন্দা ছোটাদেবী শর্মা বলেন, স্কুলটি জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে এবং এর উন্নয়ন প্রয়োজন। তাঁর মতে, সংঘর্ষে উভয় পক্ষের ভূমিকা থাকলেও শিশুদের জন্য স্কুলের পরিকাঠামো উন্নত করাই অগ্রাধিকার হওয়া উচিত।
অন্যান্য গ্রামবাসীরাও জানিয়েছেন, তাঁরা চান অনুমোদিত অর্থ স্কুল ভবন নির্মাণে ব্যবহার করা হোক এবং বিষয়টি রাজনৈতিক সংঘাতে পরিণত না হোক।
অন্যদিকে সিজেপি-র দাবি, রামপুরা-কানওয়ারপুরার ঘটনা সরকারি স্কুলগুলির বেহাল অবস্থা নিয়ে তাদের বৃহত্তর প্রচারেরই অংশ। সংগঠনটির বক্তব্য, গ্রামবাসীদের অভিযোগের ভিত্তিতে তারা বিভিন্ন স্কুল পরিদর্শন করে সমস্যাগুলি সামনে আনছে। স্কুল পরিদর্শনে বিধিনিষেধ নিয়েও তারা প্রশ্ন তুলেছে এবং দাবি পূরণ না হলে আরও আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছে।
ফলে স্কুল ভবনের মূল সমস্যা এখন রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ, স্কুলের নিরাপত্তা এবং বাইরের সংগঠনের সরকারি প্রতিষ্ঠান পরিদর্শনের অধিকার নিয়ে বিতর্কে রূপ নিয়েছে। রাজনৈতিক সংঘাত হয়তো আরও চলবে। সিজেপি তাদের প্রচার আরও জোরদার করতে পারে, সরকারও অনুমতি ছাড়া স্কুলে প্রবেশের বিরোধিতা করতে পারে এবং গ্রামবাসীরা রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে পারেন।
কিন্তু এসব বিতর্কের মধ্যেও স্কুলটির বেহাল দশা বদলায়নি। রামপুরা-কানওয়ারপুরার পড়ুয়াদের প্রয়োজন খুবই স্পষ্ট—নিরাপদ স্কুল ভবন, কার্যকর শ্রেণিকক্ষ এবং পড়াশোনার উপযুক্ত মৌলিক পরিকাঠামো। নতুন ভবনের জন্য অর্থ অনুমোদিত হয়ে থাকলে এখন মূল প্রশ্ন, সেই অর্থ বাস্তবে কত দ্রুত কাজে লাগানো হবে।



















