জয়পুর, ২২ আগস্ট (আইএএনএস): রাজস্থানের সরকারি স্কুলগুলির পরিকাঠামোর বেহাল দশা নিয়ে সরকারের জবাবদিহি দাবি করল সিজেপি। সংগঠনের মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা শনিবার জানিয়েছেন, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে স্কুল পরিদর্শন করে সেগুলির দুরবস্থা তুলে ধরার কাজ চালিয়ে যাবে সংগঠন। একইসঙ্গে ‘স্কুল ঠিক করো’ প্রচারাভিযানের পিছনে কোনও নির্বাচনী বা রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নেই বলেও স্পষ্ট করেছেন তিনি।
আইএএনএস-কে রাঙ্কা বলেন, “আমরা কোনও কথা বলব না, শুধু স্কুল পরিদর্শন করব। আপনারা যা খুশি করতে পারেন। আমরা ভয় পাই না। আমরা আমাদের স্কুলগুলি মেরামত করাব। আমরা সরকারের কাছে জবাবদিহি চাইছি।”
সরকারি স্কুলগুলির বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, আলোচনার বিষয় হওয়া উচিত সিজেপি ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কী করবে তা নয়, বরং সরকার কবে স্কুলগুলির পরিকাঠামোগত সংকট সমাধান করবে।
রাঙ্কার প্রশ্ন, “সিজেপি ৪৮ ঘণ্টায় কী করবে, সেটা প্রশ্ন নয়। প্রশ্ন হল, সরকার কবে এই স্কুলগুলি মেরামত করবে? রাজস্থানে যে ৬০০টি স্কুল ভবন ছাড়াই চলছে, সেগুলি কবে মেরামত হবে? খারাপ অবস্থায় থাকা ৮৫ হাজার শ্রেণিকক্ষ কবে সংস্কার করা হবে? এই প্রশ্নগুলি রাজস্থান সরকারকে করা উচিত।”
রাজস্থানের একটি গ্রামে কথিত হামলার ঘটনা নিয়েও মন্তব্য করেন সিজেপি মুখপাত্র। তাঁর দাবি, ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে এবং সেগুলি পুলিশের কাছেও জমা দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, “গতকাল যা ঘটেছে, তার ভিডিও এক্স, ইনস্টাগ্রাম এবং অন্যান্য সামাজিক মাধ্যমে রয়েছে। আমরা সেই ভিডিও পুলিশের কাছেও দিয়েছি। এগুলি সম্পাদিত নয়, আমাদের কোনও বয়ানও নেই।”
রাঙ্কার দাবি, ভিডিওগুলিতে হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের মুখ স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে এবং তাঁদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করা সম্ভব। একইসঙ্গে সিজেপি-র সদস্যদের বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগের পক্ষে প্রমাণ থাকলে সেগুলিও প্রকাশ্যে আনার দাবি জানিয়েছেন তিনি।
বিজেপির বিরুদ্ধে রাজনৈতিক কর্মসূচি চালানোর অভিযোগও সরাসরি খারিজ করেছেন রাঙ্কা। তাঁর দাবি, একটি স্কুল গত আড়াই বছর ধরে একটি মহিষের গোয়ালঘরে চলছিল বলে অভিযোগ পাওয়ার পরই সংগঠনের প্রতিনিধিরা ওই এলাকায় গিয়েছিলেন।
তিনি বলেন, “আমরা ভোট চাইতে আসিনি। আমরা বিজেপির বিরুদ্ধে রাজনীতি করছি না।” রাঙ্কা জানান, তিনি নিজে গত বছর ওই স্কুলটি পরিদর্শন করেছিলেন এবং সেখানকার পরিস্থিতির একটি ভিডিওও প্রকাশ করেছিলেন।
তাঁর বক্তব্য, শিশুদের এমন পরিবেশে পড়াশোনা করতে বাধ্য করা কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। স্কুলগুলির পরিকাঠামো ঠিক না হওয়া পর্যন্ত ‘স্কুল ঠিক করো’ প্রচারাভিযান চালিয়ে যাওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি।
রাজস্থানের শিক্ষামন্ত্রী মদন দিলাওয়ারকে উদ্দেশ করে রাঙ্কা প্রশ্ন করেন, প্রশাসন আসলে কোন স্কুলকে রক্ষা করার চেষ্টা করছে। কথিত মহিষের গোয়ালঘরে চলা স্কুলটির প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, টিনের কাঠামোটি যে কোনও সময় ভেঙে পড়তে পারে এবং আশপাশে মহিষ ও পশুখাদ্যও রয়েছে।
























