News Flash

  • Home
  • দেশ
  • ‘ছব্বান্নি’ কটাক্ষ ঘিরে অখিলেশ-জয়ন্ত সংঘাত তীব্র, ক্ষমা চাওয়ার দাবি মায়াবতীর
Image

‘ছব্বান্নি’ কটাক্ষ ঘিরে অখিলেশ-জয়ন্ত সংঘাত তীব্র, ক্ষমা চাওয়ার দাবি মায়াবতীর

লখনউ, ২২ আগস্ট (আইএএনএস): উত্তরপ্রদেশে ‘ছব্বান্নি’ কটাক্ষকে কেন্দ্র করে সমাজবাদী পার্টি (এসপি) প্রধান অখিলেশ যাদব এবং রাষ্ট্রীয় লোক দল (আরএলডি) সভাপতি জয়ন্ত চৌধুরীর মধ্যে রাজনৈতিক সংঘাত আরও তীব্র হয়েছে। এর মধ্যেই এসপি প্রধানের মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করে তাঁর ক্ষমা চাওয়ার দাবি তুলেছেন বহুজন সমাজ পার্টি (বিএসপি) প্রধান মায়াবতী।

সম্প্রতি একটি অনুষ্ঠানে অখিলেশ যাদব বলেন, “জানে কোথা কোথা থেকে লোকেরা জোট করতে এসেছিল। আমরা ছব্বান্নিকে এক টাকা বানিয়ে দিয়েছিলাম, তারপরও তারা আমাদের ছেড়ে চলে গিয়েছে।” তাঁর এই মন্তব্যকে জয়ন্ত চৌধুরীর দিকে ইঙ্গিতপূর্ণ কটাক্ষ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

অখিলেশের বক্তব্য অনুযায়ী, জোটে আসা বেশ কিছু নেতা ও দল সমাজবাদী পার্টির সঙ্গে থাকার ফলে নিজেদের রাজনৈতিক গুরুত্ব বাড়াতে পেরেছিলেন। তিনি বলেন, “আমরা তাঁদের মূল্য ২৫ পয়সা থেকে এক টাকা করে দিয়েছিলাম, তবুও তাঁরা আমাদের ছেড়ে চলে গিয়েছেন।” এখন এসপি সাধারণ মানুষের সঙ্গে জোট, সামাজিক ন্যায়, মানুষের উপর আস্থা এবং তাঁদের সম্মান দেওয়ার নীতিতে এগিয়ে যাবে বলেও জানান তিনি।

অখিলেশ সরাসরি জয়ন্ত চৌধুরীর নাম না নিলেও তাঁর ‘ছব্বান্নি’ মন্তব্যটি ২০২২ সালের বিধানসভা নির্বাচনের সময় জয়ন্তের একটি মন্তব্যের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হচ্ছে। সেই সময় এসপি-র সঙ্গে জোটে থাকা জয়ন্ত বিজেপির রাজনৈতিক প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে বলেছিলেন, তিনি এমন ‘ছব্বান্নি’ নন যাঁকে সহজেই ‘উল্টে দেওয়া’ যায়।

এবার অখিলেশের মন্তব্যের জবাবে পরোক্ষভাবে তাঁকে নিশানা করেন জয়ন্ত চৌধুরী। তিনি বলেন, রাজনীতির লড়াইয়ে যদি ‘সস্তা’ কথা বলতেই হয়, তাহলে সরাসরি তাঁর নাম নেওয়া যেত।

জয়ন্ত বলেন, “রাজনীতির লড়াইয়ে যদি কিছু সস্তা কথা বলতেই হতো, তাহলে অন্তত আমার নাম নিতে পারতেন। তাতে কোনও সমস্যা হতো না। জাট সম্প্রদায়কে নিশানা করে বলা, ‘আমরা এবিসিডি শিখিয়েছি’? এই অহংকার আমি খুব কাছ থেকে দেখেছি। আর আমি বিশ্বাস করি, এই ধরনের আচরণ শেষ পর্যন্ত পতন ডেকে আনে।”

একসময় উত্তরপ্রদেশে অখিলেশ ও জয়ন্তের দল জোটসঙ্গী ছিল। ২০২২ সালের বিধানসভা নির্বাচনে এসপি এবং আরএলডি একসঙ্গে লড়েছিল। পরে সেই জোট ভেঙে যায় এবং আরএলডি বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ-র দিকে চলে যায়। ফলে দুই নেতার মধ্যে রাজনৈতিক দূরত্ব ক্রমশ বাড়তে থাকে।

এই বিতর্কে শনিবার যোগ দেন বিএসপি প্রধান মায়াবতীও। একাধিক এক্স পোস্টে অখিলেশের ‘২৫ পয়সার মুদ্রাকে এক টাকা বানিয়ে দিয়েছিলাম’ মন্তব্যকে ‘অত্যন্ত অশালীন, অনুপযুক্ত এবং লজ্জাজনক’ বলে অভিহিত করেন তিনি।

মায়াবতী বলেন, এই ধরনের অহংকারী ও অগণতান্ত্রিক মন্তব্যের জন্য অখিলেশ যাদবের অবিলম্বে আরএলডি ও তার নেতা জয়ন্ত চৌধুরীর কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত। একইসঙ্গে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী চৌধুরী চরণ সিংয়ের পরিবারকে অপমান করার অভিযোগ তুলে গোটা জাট সম্প্রদায়ের কাছেও ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানান তিনি।

বিএসপি প্রধান অভিযোগ করেন, এসপি বারবার জোটসঙ্গী ও রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের প্রতি সংকীর্ণ মানসিকতা এবং জাতপাতভিত্তিক বিদ্বেষ প্রদর্শন করেছে। তাঁর দাবি, এই ধরনের পরিস্থিতির রাজনৈতিক সুবিধা বিজেপি পেয়েছে এবং ‘ধর্মনিরপেক্ষ শক্তি’ দুর্বল হয়েছে।

মায়াবতী ১৯৯৩ সালের এসপি-বিএসপি জোট এবং পরবর্তীতে ১৯৯৫ সালের ২ জুন লখনউ স্টেট গেস্ট হাউসের ঘটনা স্মরণ করেন। অখিলেশ যাদবের সময় লোকসভা নির্বাচনকে ঘিরে গড়ে ওঠা এসপি-বিএসপি জোট পরবর্তীতে ভেঙে যাওয়ার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, এরপর এসপি বিএসপির প্রতি ‘অহংকারী ও স্বার্থপর’ আচরণ করেছে।

বিএসপির আদর্শের প্রসঙ্গে মায়াবতী বলেন, দল কখনও আম্বেদকরবাদী ‘সর্বজন হিতায়, সর্বজন সুখায়’ নীতি থেকে সরে যাবে না। তাঁর দাবি, এই নীতির লক্ষ্য সমাজের সমস্ত অংশের কল্যাণ ও সুখ নিশ্চিত করা।

এসপির বিরুদ্ধে জোটকে নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করার অভিযোগও তোলেন মায়াবতী। তাঁর দাবি, নিজেদের স্বার্থ পূরণ হয়ে গেলে এসপি ‘গিরগিটির মতো রং বদলে’ প্রাক্তন জোটসঙ্গীদের বিরুদ্ধে অপমানজনক ভাষা ব্যবহার করে।

অখিলেশের ‘পিডিএ’ রাজনৈতিক সমীকরণ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন বিএসপি প্রধান। তাঁর অভিযোগ, নিজেদের জাতিগোষ্ঠী, সংখ্যালঘু এবং উচ্চবর্ণের নির্দিষ্ট অংশ, বিশেষ করে ব্রাহ্মণদের বাইরে পিছিয়ে পড়া শ্রেণির জন্য এসপি যথেষ্ট কাজ করেনি।

মায়াবতী আরও অভিযোগ করেন, এসপি সরকারের আমলে দলিত, অনগ্রসর শ্রেণি, সংখ্যালঘু এবং উচ্চবর্ণের মানুষের ‘শোষণ ও নিপীড়ন’ হয়েছে এবং ‘দুষ্কৃতী, অপরাধী, মাফিয়া ও অন্যান্য নৈরাজ্যবাদী উপাদান’ সুবিধা পেয়েছে।

আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে উত্তরপ্রদেশের ভোটারদের এসপিকে ক্ষমতায় ফেরানো থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান মায়াবতী। তাঁর দাবি, রাজ্যের মানুষের স্বার্থেই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।

–আইএএনএস

Releated Posts

‘মানুষ নেতা বেছে নেয়, কিন্তু এস আই আর-এ ঠিক উল্টোটা হচ্ছে’: বিজেডি সাংসদ সুলতা দেও

নয়াদিল্লি, ৬ অক্টোবর (আইএএনএস): নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ইন্ডিয়া জোটের প্রতিবাদের মধ্যেই বিজু জনতা দল (বিজেডি)-র সাংসদ সুলতা দেও…

ByByNews Desk Oct 6, 2026

২১ কিলোমিটার উচ্চতায় দেশীয় হাই-অল্টিটিউড এয়ারশিপের সফল পরীক্ষা ডিআরডিও-র

নয়াদিল্লি, ৬ অক্টোবর (আইএএনএস): দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি হাই-অল্টিটিউড প্ল্যাটফর্ম সিস্টেম (এইচএপিএস)-এর সফল উড়ান পরীক্ষা করল প্রতিরক্ষা গবেষণা ও…

ByByNews Desk Oct 6, 2026

নবজাতকের সোনার আংটি প্রকল্পের পর তামিলনাড়ুতে সোনার ঋণের সীমা বাড়ল

চেন্নাই, ৬ অক্টোবর (আইএএনএস): অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল মানুষদের প্রাতিষ্ঠানিক ঋণের সুযোগ আরও সহজ করতে তামিলনাড়ুর সমবায় ব্যাঙ্ক ও সমিতিগুলিতে…

ByByNews Desk Oct 6, 2026

ভারতীয় জাহাজ নির্মাণ শিল্পকে বিশ্বমানের প্রতিযোগিতায় এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান রাজনাথের

বিশাখাপত্তনম, ৬ অক্টোবর (আইএএনএস): ভারতীয় জাহাজ নির্মাণ শিল্পকে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতামূলক করে তোলার আহ্বান জানালেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং।…

ByByNews Desk Oct 6, 2026
Scroll to Top