অমরাবতী, ১৭ আগস্ট (আইএএনএস): কর্মরত শিক্ষকদের শিক্ষক যোগ্যতা পরীক্ষা (টেট) থেকে অব্যাহতির দাবিতে কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতিনিধিদের সঙ্গে দেখা করার অভিযোগে পাঁচ শিক্ষককে সাসপেন্ড করায় অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী এন. চন্দ্রবাবু নাইডুকে তীব্র আক্রমণ করলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা ওয়াইএসআর কংগ্রেস পার্টির সভাপতি ওয়াই. এস. জগন মোহন রেড্ডি।
সোমবার সোশ্যাল মিডিয়ায় মুখ্যমন্ত্রীকে নিশানা করে জগন প্রশ্ন তোলেন, সরকারি কর্মচারী, বিশেষ করে শিক্ষকদের বিরুদ্ধে কেন এমন প্রতিহিংসামূলক আচরণ করা হচ্ছে। তিনি জানান, প্রথম দিন ওয়াইএসআর কডপ্পা জেলার শিক্ষক সংগঠনের সদস্যদের সাসপেন্ড করা হয় এবং পরের দিন অনন্তপুর ও শ্রী সত্য সাই জেলার শিক্ষকদের বিরুদ্ধে একই পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
জগন প্রশ্ন করেন, “এই পাঁচ শিক্ষককে কেন সাসপেন্ড করা হল? তাঁরা কী অপরাধ করেছেন?” তাঁর দাবি, এক লক্ষেরও বেশি প্রবীণ শিক্ষক বর্তমানে সমস্যায় পড়েছেন। বহু বছর চাকরি করার পর তাঁদের এখন টেট পরীক্ষায় বসতে বলা হচ্ছে, অথচ তাঁরা যখন চাকরিতে যোগ দিয়েছিলেন, তখন এই পরীক্ষার কোনও বাধ্যবাধকতা ছিল না।
কেন্দ্রের কাছে এই নিয়ম থেকে অব্যাহতি চেয়ে সাংসদদের সমর্থনে আবেদন জানানোকে কীভাবে অপরাধ হিসেবে দেখা হচ্ছে, সেই প্রশ্নও তোলেন জগন। তিনি অবিলম্বে পাঁচ শিক্ষকের সাসপেনশন প্রত্যাহার এবং তাঁদের কাছে মুখ্যমন্ত্রীকে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানান। একই সঙ্গে ওয়াইএসআরসিপি এই বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখবে এবং সাসপেনশনকে চ্যালেঞ্জ করার ক্ষেত্রে শিক্ষকদের সম্পূর্ণ আইনি সহায়তা দেওয়া হবে বলে জানান।
চন্দ্রবাবু নাইডুর সরকারকে আক্রমণ করে জগন বলেন, তাঁর অভিযোগ অনুযায়ী ‘রেড বুক-চালিত জঙ্গলরাজ’ এখন সরকারি শিক্ষকদেরও রেহাই দিচ্ছে না। তাঁর প্রশ্ন, এনডিএ-র শরিক হিসেবে চন্দ্রবাবুরই কি কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে কর্মরত শিক্ষকদের টেট-এর বাধ্যবাধকতা প্রত্যাহারের দাবি জানানো উচিত ছিল না?
জগনের অভিযোগ, মুখ্যমন্ত্রী বিধানসভায় প্রস্তাব এনে এবং কেন্দ্রের ওপর চাপ সৃষ্টি করে সমস্যার সমাধানের চেষ্টা করেননি। কিন্তু তাঁর দলের সাংসদদের সহযোগিতায় শিক্ষকেরা নিজেরাই যখন কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে সমস্যার কথা তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন, তখন তাঁদের ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে সাসপেন্ড করা হয়েছে।
প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী প্রশ্ন করেন, “তাঁদের একমাত্র অপরাধ কি এই যে, তাঁরা এমন কাজ করার চেষ্টা করেছেন যা আপনার করার কথা ছিল? আবেদনপত্র জমা দেওয়া কি অপরাধ? তার জন্য কি সাসপেনশন প্রাপ্য?”
জগনের অভিযোগ, একটি সমস্যার সমাধান করার পরিবর্তে সরকার গোটা বিষয়টিকে রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখছে এবং শিক্ষকদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে বলে অভিযোগ করছে। তিনি এই আচরণকে অত্যন্ত নিন্দনীয় বলে মন্তব্য করেন।
এর পাশাপাশি কর্মীদের জন্য দলের ইস্তাহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণ না করার অভিযোগও চন্দ্রবাবু সরকারের বিরুদ্ধে তোলেন জগন। তাঁর দাবি, সরকার তৃতীয় বছরে প্রবেশ করলেও কর্মীদের জন্য অন্তর্বর্তী আর্থিক সুবিধা এবং পে রিভিশন কমিশনের প্রতিশ্রুতি পূরণ করা হয়নি। পাঁচটি মহার্ঘ ভাতা বা ডিএ-ও এখনও বকেয়া রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
জগন আরও বলেন, ক্ষমতার অহংকারে সরকার যেভাবে কাজ করছে এবং ‘একনায়কতান্ত্রিক নীতি’ অনুসরণ করছে, তা মানুষ দেখছে। চন্দ্রবাবু নাইডু এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছেন যেখানে নিজের ছায়াকেও সহ্য করতে পারছেন না বলেও কটাক্ষ করেন তিনি।
_______



















