কলকাতা, ১৭ আগস্ট (আইএএনএস): পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার তারাপীঠে পাঁচতলা একটি হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার ভোরে ‘হোটেল বিদেশিনী’-তে এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ঘটনায় বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
আহতদের কাছাকাছি রামপুরহাট সরকারি মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসকদের আশঙ্কা, হাসপাতালে ভর্তি কয়েকজনের অবস্থা অত্যন্ত সংকটজনক হওয়ায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
জানা গিয়েছে, তারাপীঠ থানার খুব কাছেই একটি পুকুরের পাশে অবস্থিত হোটেলটিতে ভোর ৫টা নাগাদ আগুন লাগে। প্রাথমিক তদন্তে অনুমান, শর্ট সার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত। মুহূর্তের মধ্যে আগুন হোটেলের বিভিন্ন ঘরে ছড়িয়ে পড়ে। সেই সময় অধিকাংশ অতিথি ঘুমিয়ে ছিলেন। হোটেলে বেশ কয়েকজন শিশুও ছিল।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, কয়েক মিনিটের মধ্যেই গোটা এলাকা ঘন ধোঁয়ায় ঢেকে যায়। হোটেলের ভিতরে বেশ কয়েকজন আটকে পড়েন। আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে হোটেলের অতিথি এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে।
হোটেলটি থানার কাছে হওয়ায় দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ। খবর পেয়ে একাধিক দমকলের ইঞ্জিন সেখানে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে ততক্ষণে হোটেলের নিচতলার বড় অংশ পুড়ে যায়। আগুনে কয়েকজন হোটেল অতিথির দেহ ঝলসে যায়। ধোঁয়ায় অসুস্থ হয়ে পড়েন আরও কয়েকজন। আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো হয়।
হোটেলের মালিক কল্যাণ পাল সংবাদমাধ্যমকে জানান, আগুন লাগার পর রাতের প্রহরী দ্রুত বিষয়টি বুঝতে পেরে ফায়ার এক্সটিংগুইশার ব্যবহার করেন। বিদ্যুৎ সংযোগও বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ততক্ষণে হোটেলের আসবাবপত্রে থাকা ফাইবারজাত সামগ্রীতে আগুন ছড়িয়ে পড়ে।
কল্যাণ পাল বলেন, দমকলকর্মীরা দ্রুত এসে আগুন নিভিয়ে দেন। আগুন মূলত নিচতলায় সীমাবদ্ধ থাকলেও ধোঁয়া পাঁচতলা পর্যন্ত উঠে যায়। আতঙ্কে অতিথিরা ঘর থেকে বেরিয়ে আসতে শুরু করেন। হোটেলের পিছনে একটি বেরোনোর দরজা থাকলেও আতঙ্কের কারণে অনেকেই সেটি খুঁজে পাননি। ফলে তাঁরা রিসেপশনের দিক দিয়ে বেরোনোর চেষ্টা করেন এবং সেই সময়ই অনেকে আগুনে ঝলসে যান।
ঘটনার পর অগ্নিকাণ্ডের কারণ এবং হোটেলের অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে প্রশাসন।


















