চেন্নাই, ১৬ আগস্ট (আইএএনএস): প্রযুক্তি শিক্ষায় উত্তীর্ণ তরুণদের তাঁদের জ্ঞান, দক্ষতা ও উদ্ভাবনী ক্ষমতাকে দেশ গঠনের কাজে ব্যবহার করার আহ্বান জানালেন উপরাষ্ট্রপতি সি.পি. রাধাকৃষ্ণন। ‘নেশন ফার্স্ট—রাষ্ট্র প্রথম’ নীতিকে সামনে রেখে কাজ করার জন্য বি.টেক পড়ুয়াদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
রবিবার চেন্নাইয়ের কাছে চেঙ্গলপট্টুর কাট্টানকুলাথুরে এসআরএম ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি-এর ২২তম সমাবর্তনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে উপরাষ্ট্রপতি বলেন, ভারতের সবচেয়ে বড় শক্তি তার মানুষ, বিশেষ করে দেশের যুবসমাজ। তরুণ স্নাতকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “শুধু ভবিষ্যতের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করবেন না, ভবিষ্যৎকে গড়ে তোলার জন্য নিজেকে প্রস্তুত করুন।”
গবেষণার গুরুত্ব তুলে ধরে রাধাকৃষ্ণন বলেন, গবেষণা তখনই প্রকৃত অর্থে প্রশংসনীয় হয়ে ওঠে, যখন তা সঠিক ফলাফল দেয়, সমাজে অর্থবহ প্রভাব ফেলে এবং মানুষের জন্য বাস্তব উপকারে পরিণত হয়।
করোনা মহামারির সময় ভারতের ভূমিকার কথা স্মরণ করে উপরাষ্ট্রপতি বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে ভারত ১০০টিরও বেশি দেশকে টিকা সরবরাহ করেছিল। মানবিক সহায়তাকে বাণিজ্যিকীকরণের চেষ্টা ভারত করেনি বলেও তিনি জানান।
সম্প্রতি কেনিয়ার স্পিকারের সঙ্গে তাঁর কথোপকথনের কথা উল্লেখ করে রাধাকৃষ্ণন বলেন, কেনিয়ার স্পিকার ভারতের টিকা সহায়তার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছিলেন। তাঁর দাবি, অনেক পশ্চিমী দেশ দরিদ্র দেশগুলিকে একই ধরনের সহায়তা দেয়নি। ভারতের এই উদ্যোগ মানবতার সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। ভারত শান্তি, উন্নয়ন এবং মানবকল্যাণের পক্ষে রয়েছে বলেও তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন।
সমাবর্তন শুধুমাত্র ডিগ্রি প্রদানের অনুষ্ঠান নয় উল্লেখ করে উপরাষ্ট্রপতি বলেন, এটি বছরের পর বছর ধরে অধ্যবসায়, শৃঙ্খলা ও শিক্ষার উদযাপন এবং একই সঙ্গে দায়িত্ব ও সেবার আজীবন যাত্রার সূচনা।
আন্তঃবিষয়ক শিক্ষা, সৃজনশীলতা, উদ্যোগ এবং সমালোচনামূলক চিন্তাভাবনাকে উৎসাহিত করে একটি শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলার জন্য তিনি এসআরএম ইনস্টিটিউটের প্রশংসা করেন। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, কোয়ান্টাম প্রযুক্তি, সেমিকন্ডাক্টর গবেষণা, রোবোটিক্স, বায়োটেকনোলজি এবং টেকসই উন্নয়নের মতো ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানের ক্রমবর্ধমান গুরুত্বের কথাও উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর মতে, এই ক্ষেত্রগুলিই ভবিষ্যতের অর্থনীতি ও সমাজের গতিপথ নির্ধারণ করবে।
গবেষণাকে বাস্তব সমাধানে রূপান্তরিত করে মানুষের জীবনযাত্রার উন্নতি, শিল্পের বিকাশ এবং টেকসই উন্নয়নে অবদান রাখার ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বেরও প্রশংসা করেন উপরাষ্ট্রপতি।
২০১৪ সালের পর দেশে উচ্চশিক্ষার সম্প্রসারণের কথাও তুলে ধরেন রাধাকৃষ্ণন। তিনি জানান, এই সময়ে ১৬টি আইআইআইটি, ৮টি কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়, ৮টি আইআইএম, ৭টি আইআইটি, ২টি আইআইএসইআর, একটি এনআইটি এবং ১২টি এইমস প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
তিনি বলেন, বর্তমানে ভারতে ১,৪২৫টিরও বেশি বিশ্ববিদ্যালয়, ৫৪,০০০ কলেজ এবং ১৬,৮৫০টি স্বতন্ত্র উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে।
উচ্চশিক্ষায় মহিলাদের অংশগ্রহণের উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধির কথাও তুলে ধরেন উপরাষ্ট্রপতি। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০১৪-১৫ সালে উচ্চশিক্ষায় মহিলা শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ১.৫৭ কোটি, যা ২০২৩-২৪ সালে বেড়ে ২.২৪ কোটিতে পৌঁছেছে—অর্থাৎ বৃদ্ধি হয়েছে ৪২.২ শতাংশ। সমাবর্তন অনুষ্ঠানে ক্রমবর্ধমান সংখ্যায় মহিলাদের ডিগ্রি ও পদক অর্জনকে স্বাগত জানান তিনি।



















