আগরতলা, ১৬ আগস্ট: সিমনার ব্রহ্মকুণ্ড পর্যটনকেন্দ্রে নির্মাণসামগ্রী সরানো ও বিক্রির অভিযোগকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। পর্যটন দপ্তরের উদ্যোগে পর্যটনকেন্দ্রের উন্নয়নমূলক নির্মাণকাজ চলাকালীন বিপুল পরিমাণ ইট ও রড অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বাসিন্দা ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃত্বের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
অভিযোগ, নির্মাণকাজের জায়গা থেকে প্রায় আট গাড়ি ইট অন্যত্র বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে গত ১৫ আগস্ট ব্রহ্মকুণ্ড শিববাড়ি মেলার মাঠে নির্মাণকাজে নিযুক্ত শ্যাম ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানির ম্যানেজার কল্যাণ কুমার বন্দ্যোপাধ্যায় উপস্থিত হয়ে বক্তব্য রাখেন। তাঁর দাবি, নির্মাণস্থল থেকে ইট সরিয়ে বিক্রি করার অনুমতি তিনিই দিয়েছিলেন।
ম্যানেজারের বক্তব্য অনুযায়ী, নির্মাণকাজের দৈনন্দিন তদারকি ও বিভিন্ন ত্রুটি-বিচ্যুতি দেখভালের সঙ্গে যুক্ত অঞ্জন পাল তাঁর কাছে ইট দেওয়ার অনুরোধ করেছিলেন। সেই অনুরোধের ভিত্তিতেই প্রায় আট হাজার ইট অঞ্জন পালকে দেওয়া হয়েছিল বলে জানান তিনি। একইসঙ্গে ইট সরানোর ঘটনায় অঞ্জন পালের কোনও দোষ নেই বলেও দাবি করেন ম্যানেজার।
এরই মধ্যে নতুন করে কয়েক টন রড অন্যত্র মজুত থাকার অভিযোগ সামনে আসে। অভিযোগ, নাগরপাড়ার একটি বাড়িতে বিপুল পরিমাণ রড দেখতে পান তিপ্রা মথার স্থানীয় নেতৃত্ব। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর তাঁরা শ্যাম ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ম্যানেজার কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সুন্দরটিলা ফাঁড়ির পুলিশকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে ওই বাড়িতে যান।
সেখানে বাড়ির মালিক জানান, অঞ্জন পাল ওই রডগুলি সেখানে রেখে গিয়েছেন। পরিদর্শনের সময় ম্যানেজারও রডগুলি তাঁদের নির্মাণকাজের বলে স্বীকার করেন। তবে তাঁর দাবি, ইট সরানোর অনুমতি দেওয়া হলেও রড সরানোর কোনও অনুমতি তিনি দেননি। এরপর অঞ্জন পালের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান তিনি।
পরবর্তীতে অঞ্জন পালের বিরুদ্ধে সুন্দরটিলা থানায় একটি জিডি এন্ট্রি করা হয়েছে বলে জানা গেছে। পাশাপাশি তাঁকে আর নির্মাণকাজের জায়গায় রাখা হবে না বলেও জানিয়েছেন কোম্পানির ম্যানেজার।
তবে গোটা ঘটনায় একাধিক প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। তাঁদের বক্তব্য, নির্মাণস্থলে দায়িত্বপ্রাপ্ত স্টোরকিপার, সাইট ইঞ্জিনিয়ার এবং নাইট গার্ড থাকা সত্ত্বেও কীভাবে এত বিপুল পরিমাণ রড নির্মাণস্থল থেকে অন্যত্র চলে গেল, তা তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন। এত পরিমাণ রড একা একজনের পক্ষে কোনও যানবাহন ছাড়া সরিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব কি না, সেই প্রশ্নও উঠছে।
স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, একজনকে সামনে রেখে নির্মাণসামগ্রী সরানোর পেছনে কোনও বৃহত্তর চক্র কাজ করছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা দরকার। যদিও এসব অভিযোগের সত্যতা এখনও নিশ্চিত নয় এবং তদন্তের পরই প্রকৃত ঘটনা স্পষ্ট হবে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, রাজ্য সরকারের উদ্যোগে ব্রহ্মকুণ্ড পর্যটনকেন্দ্রের উন্নয়নমূলক কাজ দ্রুত ও স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন হোক। একইসঙ্গে সরকারি প্রকল্পের নির্মাণসামগ্রী যাতে কোনওভাবে অপব্যবহার বা আত্মসাৎ না হয়, তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিরপেক্ষ তদন্ত ও কঠোর নজরদারির দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হলে নির্মাণসামগ্রী সরানোর পেছনে প্রকৃত ঘটনা ও কারা জড়িত, তা স্পষ্ট হবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
























