নয়াদিল্লি, ১৫ আগস্ট (আইএএনএস): নাম পরিবর্তনের রাজনীতি না করে কংগ্রেস মানুষের আর্থিক পরিস্থিতি বদলাতে কাজ করেছে বলে দাবি করলেন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে। শনিবার ৮০তম স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে দলের সদর দফতর ইন্দিরা ভবনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে কেন্দ্রের এনডিএ সরকারকে নিশানা করেন তিনি।
খাড়গে বলেন, স্বাধীনতা সংগ্রামের পাশাপাশি স্বাধীনতার পর দেশের অর্থনীতি, প্রতিরক্ষা, শিক্ষা ও পরিকাঠামো গড়ে তুলতে কংগ্রেসের একাধিক প্রধানমন্ত্রী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছেন। তাঁর দাবি, দেশের যে অগ্রগতি আজ দেখা যাচ্ছে, তার ৯০ শতাংশই কংগ্রেসের অবদান।
কংগ্রেস সভাপতির কথায়, স্বাধীনতা দিবস শুধু স্বাধীনতা সংগ্রামকে স্মরণ করার দিন নয়, স্বাধীনতা সংগ্রামীদের স্বপ্নের ভারত কতটা বাস্তবায়িত হয়েছে, তা পর্যালোচনা করারও দিন। তিনি বলেন, কংগ্রেসের ১৪১ বছরের ইতিহাসে ৬২ বছর বিদেশি ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে কেটেছে এবং লক্ষ লক্ষ মানুষ আত্মত্যাগ করেছেন।
দেশ গঠনে যুবসমাজের ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন খাড়গে। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুর অবদানের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, নেহরু আধুনিক, গণতান্ত্রিক ও ধর্মনিরপেক্ষ ভারতের ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন। আইআইটি, আইআইএম, রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা এবং বিভিন্ন পরিকাঠামো গড়ে তোলার পাশাপাশি সেচ প্রকল্পকে তিনি আধুনিক ভারতের ‘মন্দির’ হিসেবে দেখেছিলেন।
খাড়গে বলেন, প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী লাল বাহাদুর শাস্ত্রীর আমলে সবুজ ও শ্বেত বিপ্লবের সূচনা ও প্রসার ঘটে। ইন্দিরা গান্ধীর আমলে ভারতের মহাকাশ, পরমাণু, সামরিক ও কৌশলগত সক্ষমতা আরও শক্তিশালী হয়। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধেও ইন্দিরা গান্ধীর ভূমিকার কথা উল্লেখ করেন তিনি।
প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধীর প্রসঙ্গে খাড়গে বলেন, তিনি উত্তর-পূর্ব ভারত ও পাঞ্জাবে শান্তি প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিলেন। তথ্যপ্রযুক্তি বিপ্লবের ভিত্তি স্থাপন, প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধি, শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়ন এবং জওহর নবোদয় বিদ্যালয়ের মাধ্যমে যুবসমাজের জন্য সুযোগ তৈরির কথাও তুলে ধরেন তিনি। রাজীব গান্ধীর আমলে ভোটদানের ন্যূনতম বয়স ২১ থেকে কমিয়ে ১৮ বছর করা হয়েছিল বলেও উল্লেখ করেন খাড়গে।
প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী পি ভি নরসিমা রাওয়ের অবদানের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, উদারীকরণের মাধ্যমে ভারতকে বিশ্বের জন্য আরও উন্মুক্ত করে তুলেছিলেন রাও এবং দেশকে বড় বিনিয়োগের গন্তব্য হিসেবে গড়ে তোলার পথে এগিয়ে দিয়েছিলেন।
প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের অর্থনৈতিক নীতির প্রশংসা করে খাড়গে বলেন, তিনি উন্নয়নের পাশাপাশি অর্থনৈতিক বৃদ্ধিকে মানবিক মুখ দিয়েছিলেন। মনরেগা, শিক্ষার অধিকার, তথ্যের অধিকার, বনাধিকার আইন এবং খাদ্য সুরক্ষা আইনের মতো উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের দরিদ্র ও দুর্বল শ্রেণির অধিকার শক্তিশালী করা হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি।
কংগ্রেস সংসদীয় দলের সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধীর অবদানের কথাও তুলে ধরেন খাড়গে। তাঁর দাবি, সোনিয়া গান্ধী দলগতভাবে নীতি প্রণয়ন এবং মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিলেন।
বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে আক্রমণ শানিয়ে খাড়গে বলেন, সাধারণ মানুষকে তাঁদের প্রাপ্য অধিকার দেওয়ার ক্ষেত্রে বর্তমান সরকার কংগ্রেসের মতো কাজ করেনি। তাঁর অভিযোগ, কংগ্রেস মানুষের খাদ্য, শিক্ষা ও বাসস্থানের ব্যবস্থা করলেও কিছু মানুষের অন্যের কৃতিত্ব নেওয়ার অভ্যাস রয়েছে।
খাড়গে বলেন, “আমরা শুধু নাম পরিবর্তনে ব্যস্ত থাকিনি। আমরা মানুষের আর্থিক পরিস্থিতি বদলানোর চেষ্টা করেছি।”
–আইএনএস
















