নয়াদিল্লি, ১৪ আগস্ট: মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের জেরে পারস্য উপসাগর ও লোহিত সাগরে সামুদ্রিক বাণিজ্য ব্যাহত হওয়ায় ভারত-মধ্যপ্রাচ্য-ইউরোপ অর্থনৈতিক করিডর বা আইএমইসি-এর প্রয়োজনীয়তা আরও বেড়েছে বলে এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। জিউইশ টেলিগ্রাফিক এজেন্সিতে প্রকাশিত একটি নিবন্ধে আইএমইসি-কে চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের মোকাবিলায় গণতান্ত্রিক বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
২০২৩ সালে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত জি২০ শীর্ষ সম্মেলনে আইএমইসি পরিকল্পনার কথা সামনে আসে। প্রস্তাবিত এই করিডরে ভারতকে উপসাগরীয় দেশ ও ইসরায়েলের মাধ্যমে ইউরোপের সঙ্গে যুক্ত করার জন্য বন্দর, রেলপথ, জ্বালানি পরিকাঠামো, ফাইবার-অপটিক কেবল এবং লজিস্টিক নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, পরিকল্পনাটি কার্যকর হলে ভারত থেকে পণ্য আরব উপদ্বীপ হয়ে সৌদি আরব ও জর্ডান পেরিয়ে ইসরায়েলে পৌঁছবে। সেখান থেকে হাইফা বন্দরের মাধ্যমে ইউরোপে পণ্য পরিবহন করা যাবে। এর ফলে বিপজ্জনক সামুদ্রিক পথ এবং ইরাক, সিরিয়া ও লেবাননের মতো অস্থিতিশীল অঞ্চল এড়ানো সম্ভব হবে।
তবে চলমান মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের কারণে আইএমইসি প্রকল্প বর্তমানে কার্যত স্থগিত অবস্থায় রয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একই সংঘাত পারস্য উপসাগর ও লোহিত সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে যে বিঘ্ন তৈরি করেছে, তাতে করিডরটির প্রয়োজনীয়তা বরং আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
প্রতিবেদনটির দাবি, ইসরায়েলকে কেন্দ্র করে আইএমইসি বাস্তবায়িত হলে হাইফা বন্দর পূর্ব ভূমধ্যসাগরের অন্যতম প্রধান লজিস্টিক হাবে পরিণত হতে পারে। একইসঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, সেমিকন্ডাক্টর, লবণমুক্তকরণ প্রযুক্তি এবং জ্বালানি প্রযুক্তিতে ইসরায়েলের দক্ষতা বেঙ্গালুরু থেকে বার্লিন পর্যন্ত বিস্তৃত সরবরাহ শৃঙ্খলের সঙ্গে যুক্ত হতে পারে।
এর ফলে শুধু ইসরায়েলের মাধ্যমে পণ্য পরিবহনই নয়, ইসরায়েলি পরিষেবা, প্রযুক্তি, উদ্ভাবন ও মূলধনও আন্তর্জাতিক সরবরাহ ব্যবস্থার অংশ হয়ে উঠতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ভারত বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম প্রধান অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির চালিকাশক্তি হিসেবে উঠে আসছে। অন্যদিকে, ২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের পর ইউরোপ রাশিয়ার উপর অর্থনৈতিক ও জ্বালানি নির্ভরতা কমিয়ে নতুন অংশীদার খুঁজছে। ফলে সরবরাহ শৃঙ্খলকে এখন শুধুমাত্র বাণিজ্যের বিষয় হিসেবে নয়, জাতীয় নিরাপত্তার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবেও দেখা হচ্ছে।
সাম্প্রতিক কয়েকটি সমীক্ষার উল্লেখ করে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, আইএমইসি সম্পূর্ণ হলে ভারত ও ইউরোপের মধ্যে পণ্য পরিবহনের সময় প্রায় ৪০ শতাংশ পর্যন্ত কমতে পারে। পাশাপাশি লজিস্টিক খরচ প্রায় ৩০ শতাংশ কমে যেতে পারে। একটি সাধারণ কনটেইনার পরিবহনের খরচ প্রায় ৬,০০০ ডলার থেকে কমে ৪,২০০ ডলারের কাছাকাছি হতে পারে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বছরে মাত্র ১৫ লক্ষ কনটেইনার পরিবহনের পরিমাণ ধরলেও এতে প্রতি বছর প্রায় ২৭০ কোটি ডলার পর্যন্ত পরিবহন খরচ সাশ্রয় হতে পারে। পাশাপাশি নতুন ব্যবসা ও পরিষেবার জন্য একটি বড় অর্থনৈতিক পরিবেশ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।



















