মুম্বই, ১৪ আগস্ট (আইএএনএস) : মহারাষ্ট্রে গত পাঁচ বছরে ৩৬,২১১টি নিবন্ধিত সংস্থা বন্ধ হয়ে যাওয়াকে ঘিরে ‘শিল্পপালায়ন’-এর যে দাবি উঠেছে, তা শুক্রবার জোরালোভাবে খারিজ করলেন মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশ। তাঁর দাবি, বন্ধ হওয়া সংস্থাগুলির প্রায় ৭৬ শতাংশই ছিল নিষ্ক্রিয় বা ‘ডিফাঙ্ক্ট’ সংস্থা। এগুলি হয় দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা করছিল না, অথবা আদৌ বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু করেনি।
সংসদে কেন্দ্রীয় কর্পোরেট বিষয়ক মন্ত্রকের দেওয়া তথ্যকে সামনে রেখে বিরোধীদের সমালোচনার জবাবে ফড়নবিশ বলেন, এই পরিসংখ্যানকে মহারাষ্ট্র থেকে সক্রিয় শিল্প ও ব্যবসা ব্যাপকভাবে চলে যাওয়ার প্রমাণ হিসেবে দেখানো হচ্ছে, যা বিভ্রান্তিকর।
সামাজিক মাধ্যমে বিস্তারিত ব্যাখ্যায় মুখ্যমন্ত্রী জানান, বন্ধ হওয়া সংস্থাগুলির ৭৬ শতাংশ নিষ্ক্রিয় বা ব্যবসাহীন, ১২ শতাংশ বৃহত্তর কর্পোরেট কাঠামোর সঙ্গে একীভূত হয়েছে, ২ শতাংশ আনুষ্ঠানিকভাবে লিকুইডেশনের আওতায় গেছে এবং বাকি ১০ শতাংশ অন্যান্য নিয়ন্ত্রক কারণে রেজিস্টার থেকে বাদ পড়েছে।
ফড়নবিশ আরও দাবি করেন, মহারাষ্ট্র এখনও দেশের মধ্যে সর্বাধিক সক্রিয় সংস্থার রাজ্য। বর্তমানে রাজ্যে প্রায় ৩.৯৬ লক্ষ সক্রিয় সংস্থা রয়েছে। পাশাপাশি নতুন সংস্থা গঠনের ক্ষেত্রেও মহারাষ্ট্র দেশের মধ্যে শীর্ষে। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে রাজ্যে ৪১,৫২৫টি নতুন সংস্থা নিবন্ধিত হয়েছে।
তিনি বলেন, ২০১৫-১৬ অর্থবর্ষে দেশে সক্রিয় সংস্থার সংখ্যা ছিল ৬.৭৮ লক্ষের কিছু বেশি। ২০২৫-২৬ সালে সেই সংখ্যা বেড়ে ২১.১৭ লক্ষেরও বেশি হয়েছে। অর্থাৎ এক দশকে সক্রিয় সংস্থার সংখ্যা তিনগুণেরও বেশি বেড়েছে। তাঁর মতে, নিষ্ক্রিয় সংস্থাগুলিকে রেজিস্টার থেকে বাদ দেওয়া মূলত কর্পোরেট নিয়ম মেনে চলার প্রক্রিয়া, সক্রিয় শিল্পপ্রতিষ্ঠান রাজ্য ছেড়ে যাওয়ার পরিমাপক নয়।
এই বিতর্কের সূত্রপাত লোকসভা সাংসদ রাজাভাউ ওয়াজের পাওয়া সংসদীয় জবাবকে কেন্দ্র করে। কেন্দ্রীয় কর্পোরেট বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী হর্ষ মালহোত্রার দেওয়া তথ্যে মহারাষ্ট্রে গত পাঁচ বছরে ৩৬,২১১টি বেসরকারি সংস্থা বন্ধ হওয়ার তথ্য প্রকাশ্যে আসে। এরপরই বিরোধীদের তরফে রাজ্যে শিল্পপালায়নের অভিযোগ ওঠে।
চাকন শিল্পাঞ্চল নিয়েও পাল্টা দাবি করেন ফড়নবিশ। শিল্পাঞ্চলের যানজট, বিদ্যুৎ ও রাস্তার সমস্যার কারণে প্রায় ২,০০০ কর্মী নিয়োজিত ২০টি শিল্পপ্রতিষ্ঠান স্থানান্তরের কথা ভাবছে বলে সম্প্রতি অভিযোগ করেছিলেন এনসিপি (এসপি) প্রধান শরদ পাওয়ার।
চাকন-সহ গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চলগুলিকে সমন্বিত নাগরিক ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনার জন্য ‘ইন্ডাস্ট্রিয়াল টাউনশিপ’-এ রূপান্তরের পরিকল্পনাও রয়েছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি ক্রমবর্ধমান শিল্প চাহিদা মেটাতে চাকন ফেজ-৬-এর উন্নয়নের পরিকল্পনা চলছে। গত তিন বছরে চাকন এলাকায় ৫০০-রও বেশি নতুন শিল্প বিনিয়োগ এসেছে বলেও দাবি করেন তিনি।
এদিকে মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী তথা পুনের অভিভাবক মন্ত্রী সুনেত্রা পাওয়ারও চাকন-এর রাস্তা, যানজট ও অন্যান্য পরিকাঠামোগত সমস্যা দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন। শিল্পোদ্যোগীদের সঙ্গে শীঘ্রই বৈঠক করে সমস্যাগুলি চিহ্নিত করে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।
অন্যদিকে, এনসিপি (এসপি) প্রধান শরদ পাওয়ার চাকন ও তালেগাঁওয়ের পরিকাঠামোগত ঘাটতি ‘যুদ্ধকালীন তৎপরতায়’ সমাধানের দাবি জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, পরিকাঠামোগত সমস্যার কারণে শিল্পপ্রতিষ্ঠান স্থানান্তরিত হওয়া মহারাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের শিল্পবান্ধব ভাবমূর্তির জন্য উদ্বেগের বিষয়। শিল্পোদ্যোগীদের সমস্যার দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য একক জানালা ব্যবস্থা এবং শিল্পপতি ও প্রশাসনের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকেরও দাবি জানিয়েছেন তিনি।
























