নয়াদিল্লি, ১৪ আগস্ট (আইএএনএস): পাকিস্তান থেকে ভারতে ৫০০ কেজি হেরোইন পাচার এবং আন্তঃদেশীয় নার্কো-টেরর চক্রান্তের সঙ্গে যুক্ত মামলায় পাঞ্জাবের অমৃতসরে অভিযুক্ত আনোয়ার মাসিহের দুটি স্থাবর সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করল ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি। শুক্রবার এই তথ্য জানিয়েছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা।
অমৃতসরের সুলতানউইন্ড এলাকার আকাশ বিহারের ফেজ-১-এর ১২৮ ও ১২৯ নম্বর প্লট দুটি আনোয়ার মাসিহের নামে নথিভুক্ত। বেআইনি কার্যকলাপ প্রতিরোধ আইন, ১৯৬৭-এর ২৫(১) ধারায় এই সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।
মামলাটি আরসি-২৬/২০২০/এআইএ/ডিএলসি হিসেবে নথিভুক্ত এবং ‘সালায়া ড্রাগ সিজার কেস’ নামে পরিচিত। তদন্ত অনুযায়ী, সামুদ্রিক পথে পাকিস্তান থেকে ভারতে ৫০০ কেজি হেরোইন পাচারের সঙ্গে এই চক্র জড়িত ছিল।
এআইএ-এর দাবি, তদন্তে আনোয়ার মাসিহের একটি আন্তঃদেশীয় নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত থাকার তথ্য উঠে এসেছে। ইতালি, অস্ট্রেলিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরশাহী, থাইল্যান্ড, ইরান ও পাকিস্তানসহ একাধিক দেশে এই নেটওয়ার্কের কার্যকলাপ বিস্তৃত ছিল বলে তদন্তকারীদের দাবি।
তদন্তকারী সংস্থার অভিযোগ, ওই চক্র মাদক পাচার ও বিতরণের পাশাপাশি অবৈধ মাদক ব্যবসা থেকে পাওয়া অর্থ সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপে ব্যবহারের জন্য পাঠাত। এই অর্থ লস্কর-ই-তৈবার সঙ্গে যুক্ত সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপে ব্যবহৃত হতো বলেও এনআইএ জানিয়েছে।
এনআইএ-এর দাবি, বাজেয়াপ্ত করা সম্পত্তিগুলির সঙ্গে সন্ত্রাসবাদে ব্যবহৃত অর্থের যোগসূত্রের প্রমাণ তদন্তে পাওয়া গেছে। সেই কারণেই সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আওতায় সম্পত্তিগুলি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।
গত ১৩ আগস্ট স্বাধীন সাক্ষীদের উপস্থিতিতে এবং রাজস্ব দফতরের আধিকারিকদের সহায়তায় বাজেয়াপ্তির প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। সম্পত্তির মালিকের কাছে বাজেয়াপ্তির নির্দেশ আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে দেওয়ার পাশাপাশি তা পড়ে শোনানো হয় এবং সম্পত্তিতে নোটিশ সাঁটানো হয়। প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে অ্যাটাচমেন্ট মেমোরেন্ডাম এবং পঞ্চনামাও প্রস্তুত করা হয়েছে।
এনআইএ জানিয়েছে, এই মামলায় তদন্ত এখনও চলছে। এখনও পর্যন্ত ষড়যন্ত্রের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে মোট ২৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
এদিকে পৃথক একটি ঘটনায়, গত ১২ আগস্ট মণিপুরের বিষ্ণুপুর জেলায় একটি বাড়িতে ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস হামলার মামলায় এক অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে এনআইএ। চলতি বছরের ৭ এপ্রিল মইরাংয়ের অন্তর্গত ত্রোংলাওবি আওয়াং লেইকাই এলাকায় ওই হামলার ঘটনা ঘটে। হামলায় দুই নাবালক শিশুর মৃত্যু হয় এবং আরও এক ব্যক্তি আহত হন।
মণিপুর পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, পরিবারটি ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় ত্রোংলাওবি গ্রামের বাড়িতে সন্দেহভাজন কুকি জঙ্গিরা শক্তিশালী বোমা নিক্ষেপ করলে পাঁচ বছরের এক বালক ও তার ছয় মাসের বোনের মৃত্যু হয়। তাঁদের মা গুরুতর আহত হন।



















