ঢাকা, ১৩ আগস্ট: বাংলাদেশে আসন্ন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার ১৩ আগস্ট দুপুর ২টা ২৪ মিনিটে ঢাকার আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা এ এম এম নাসির উদ্দিনের কাছে মনোনয়নপত্র জমা দেন বিএনপির একটি প্রতিনিধি দল। এদিকে, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় বিরোধী জোটও বৃহস্পতিবার তাদের রাষ্ট্রপতি প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ। তিনিও আজ মনোনয়ন পত্র জমা দিয়েছেন।
মনোনয়নপত্রে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে রাষ্ট্রপতি প্রার্থী হিসেবে প্রস্তাব করেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, ড. আবদুল মঈন খান এবং হুইপ মিয়া নূরউদ্দিন আহমেদ অপু। তাঁর প্রার্থিতার সমর্থন করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।
মনোনয়নপত্র জমা দিতে যাওয়া প্রতিনিধি দলে ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান ও গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি, যুগ্ম মহাসচিব ও পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দিন চৌধুরী অ্যানী, যুগ্ম মহাসচিব হাবিব-উন-নবী খান সোহেল এবং আবদুস সালাম আজাদ।
এর আগে দলীয় চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পর মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে দলের প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করে বিএনপি। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার কয়েক ঘণ্টা আগেই এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
এদিকে রাষ্ট্রপতি প্রার্থী হওয়ার আগে বিএনপির মহাসচিব এবং দলের স্থায়ী কমিটির পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় বিরোধী জোটও বৃহস্পতিবার তাদের রাষ্ট্রপতি প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমদের মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছে। সকাল ১১টা ৪৯ মিনিটে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এএইচএম হামিদুর রহমান আজাদের নেতৃত্বে জোটের একটি প্রতিনিধি দল নির্বাচন ভবনে গিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিনের কাছে মনোনয়নপত্র জমা দেয়।
এর আগে ১১ দলীয় জোট লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে তাদের প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করে। গত ৬ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। তফসিল অনুযায়ী আগামী ২০ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোট অনুষ্ঠিত হবে।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা এ এম এম নাসির উদ্দিন ইতিমধ্যেই ২০ আগস্ট জাতীয় সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষে ভোটগ্রহণের জন্য সংসদ সদস্যদের বৈঠক আহ্বান করেছেন। রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন, ১৯৯১ অনুযায়ী এই ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
তফসিল অনুযায়ী, আগামী ১৬ আগস্ট মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই করা হবে। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ১৮ আগস্ট। ২০ আগস্ট দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত জাতীয় সংসদের অধিবেশন কক্ষে ভোটগ্রহণ হবে। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে মোট ৩৪৯ জন সংসদ সদস্য ভোটার হিসেবে রয়েছেন। বর্তমানে চট্টগ্রাম-৪ আসনটি শূন্য রয়েছে।
১৯৯১ সালের পর এই প্রথম একাধিক প্রার্থীকে নিয়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হতে যাচ্ছে। ফলে ৩৫ বছর পর আবারও প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোটাভুটি হতে চলেছে। গত ২৪ জুলাই মোহাম্মদ শাহাবুদ্দিন রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেন। এরপর স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন। সংবিধানের ১২৩(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের কারণে পদটি শূন্য হলে সেই শূন্য পদ পূরণের জন্য ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন আয়োজন করতে হয়।



















