নয়াদিল্লি, ১২ আগস্ট (আইএএনএস): ২০ জুলাই সংসদ অভিযান চলাকালীন আন্দোলনরত পড়ুয়াদের উপর পুলিশের কথিত অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ নিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বক্তব্যের পাল্টা জবাব দিল বিরোধীরা। বুধবার বিরোধী নেতাদের অভিযোগ, বিজেপি নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকার ‘ইচ্ছাকৃতভাবে অচলাবস্থা তৈরি করেছে’। তাঁদের দাবি, শাহ চাইলে অন্তত এক সপ্তাহ আগেই এই বিষয়ে সংসদে জবাব দিতে পারতেন।
এর আগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ জানিয়েছিলেন, ২০ জুলাইয়ের ঘটনায় তিনি ‘সব প্রশ্নের উত্তর দিতে প্রস্তুত’। একইসঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, বিরোধীরাই ইচ্ছাকৃতভাবে সংসদে আলোচনা হতে দিচ্ছে না।
বিরোধীরা অবশ্য দীর্ঘদিন ধরেই শাহের সংসদে উপস্থিতি এবং পড়ুয়াদের উপর পুলিশের পদক্ষেপ নিয়ে তাঁর বক্তব্য দাবি করে আসছে। এই বিষয়কে কেন্দ্র করে বাদল অধিবেশনে বারবার সংসদের কাজ ব্যাহত হয়েছে।
সংসদ ভবনের বাইরে সাংবাদিকদের তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “দল ভাঙিয়ে এবং এত বড় সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার পরও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংসদে আসছেন না বা সংসদকে এড়িয়ে যাচ্ছেন—এতেই বোঝা যাচ্ছে, বিরোধীদের তোলা প্রশ্নের উত্তর দিতে তিনি চান না। ভিতরে ভিতরে তিনি নার্ভাস এবং তিনিও জানেন, দিল্লিতে তাঁর নির্দেশে যা ঘটেছে, তার মধ্যে কোনও না কোনওভাবে ভুল ছিল এবং তার কোনও জবাব তাঁর কাছে নেই।”
আম আদমি পার্টির সাংসদ সঞ্জয় সিংও শাহের বক্তব্য নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, “আগামীকাল অধিবেশনের শেষ দিন। আর আজ হঠাৎ তিনি জবাব দিতে প্রস্তুত হয়ে গেলেন। এর অর্থ হল, আপনারা ইচ্ছাকৃতভাবে অচলাবস্থা তৈরি করেছেন এবং সংসদের অধিবেশন চলতে দেননি।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, পুরো সরকারই যতটা সম্ভব অধিবেশন বানচাল করার চেষ্টা করেছে। এখন অধিবেশন শেষ হতে মাত্র এক দিন বাকি থাকায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বক্তব্য দেওয়ার কথা বলছেন বলেও কটাক্ষ করেন সঞ্জয় সিং।
ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চার সাংসদ মহুয়া মাঝিও শাহের বক্তব্যকে দেরিতে আসা প্রতিক্রিয়া বলে মন্তব্য করেন। আইএএনএসকে তিনি বলেন, “দেশের এত মূল্যবান সময় নষ্ট হয়েছে, দেশের অর্থ নষ্ট হয়েছে। হট্টগোল হয়েছে, বারবার ওয়াকআউট হয়েছে এবং সংসদ মুলতবি হয়েছে। এখন যখন প্রায় শেষ দিন এসে গিয়েছে, হাতে মাত্র অর্ধেক দিনের মতো সময় রয়েছে, তখন কেন এত দেরিতে এই কথা বলা হচ্ছে, তা আমরা বুঝতে পারছি না।”
তিনি বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যদি এক সপ্তাহ আগেই এই বক্তব্য দিতেন, তাহলে সংসদের কাজ স্বাভাবিকভাবে চলতে পারত। ভবিষ্যতে এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সংসদ অধিবেশনের শুরুতেই আলোচনা করা উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
কংগ্রেস সাংসদ চামালা কিরণ কুমার রেড্ডিও শাহকে নিশানা করেন। তিনি বলেন, “যদি তিনি কোনও ভুল না করে থাকেন, তাহলে এতদিন তাঁকে লুকিয়ে থাকতে হল কেন? আমাদের প্রতিদিন মকর দ্বারে বিক্ষোভ করতে হল কেন? তিনি গত সপ্তাহেই এই বক্তব্য দিতে পারতেন। অন্তত সংসদের কাজকর্ম স্বাভাবিকভাবে চলত।”
তিনি আরও বলেন, অধিবেশন শেষ হতে এখন আর বেশি সময় নেই। এই পরিস্থিতিতে শাহ কেন এমন একটি বক্তব্য দিতে চাইছেন, যা দেশের মানুষকে বিভ্রান্ত করবে এবং বিরোধীদেরই সংসদ অচল করার জন্য দায়ী বলে বার্তা দেবে, তা স্পষ্ট নয়।
কংগ্রেস সাংসদের দাবি, বিরোধীরা গত ১০ দিন ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে জবাব চেয়ে আসছে, কিন্তু তিনি তখন কোনও উত্তর দেননি। এখন তাঁর বক্তব্যের উদ্দেশ্য বিরোধীদের দোষী হিসেবে তুলে ধরা এবং দেশের মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি করা বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
–আইএএনএস



















