চেন্নাই, ১২ আগস্ট (আইএএনএস): ভবিষ্যতে সীমানা পুনর্নির্ধারণ বা ডিলিমিটেশন নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে লোকসভার আসন সংখ্যা স্থায়ীভাবে ৫৪৩-তে স্থির রাখা এবং রাজ্যগুলির মধ্যে বর্তমান আসন বণ্টন বজায় রাখার দাবিতে মুখ্যমন্ত্রী সি. জোসেফ বিজয়ের আনা বিশেষ প্রস্তাব বুধবার পাশ হল তামিলনাড়ু বিধানসভায়।
প্রস্তাব পেশ করে মুখ্যমন্ত্রী বিজয় বলেন, জনসংখ্যার ভিত্তিতে আসন পুনর্বণ্টনের হাত থেকে লোকসভা ও বিধানসভায় রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলির আসন দীর্ঘদিন ধরে সুরক্ষিত রয়েছে। ১৯৭১ সালের জনগণনাকেই দীর্ঘদিন ধরে এই আসন-স্থিরীকরণের ভিত্তি হিসেবে ধরা হয়েছে।
বিজয় উল্লেখ করেন, ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসে সংসদে একটি সাংবিধানিক সংশোধনী বিল খারিজ হয়েছিল। ওই প্রস্তাবিত বিলের মাধ্যমে ডিলিমিটেশনের উপর থাকা বিধিনিষেধ তুলে ২০১১ সালের জনগণনার ভিত্তিতে লোকসভা কেন্দ্রগুলির পুনর্বিন্যাস এবং লোকসভার আসন সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছিল।
মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, একই ধরনের প্রস্তাব ফের সংসদে আনা হতে পারে—এমন খবর সামনে আসায় তামিলনাড়ুতে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ১৯৭১ সালের পরবর্তী কোনও জনগণনার ভিত্তিতে লোকসভা আসন পুনর্বণ্টন করা হলে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার সফলভাবে নিয়ন্ত্রণ করা তামিলনাড়ু-সহ দক্ষিণের রাজ্যগুলি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
তাঁর বক্তব্য, কেন্দ্রের উৎসাহে যেসব রাজ্য কার্যকরভাবে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করেছে, তাদের সংসদে তুলনামূলক প্রতিনিধিত্ব কমিয়ে ‘শাস্তি’ দেওয়া উচিত নয়। অর্থনৈতিক উন্নয়ন, স্বাস্থ্য পরিষেবা এবং জনকল্যাণের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জনকারী রাজ্যগুলির প্রতিনিধিত্বও ভবিষ্যতের ডিলিমিটেশন প্রক্রিয়ায় সুরক্ষিত রাখা উচিত বলে তিনি জানান।
বিধানসভায় পাশ হওয়া প্রস্তাবে কেন্দ্রের কাছে লোকসভার মোট আসন সংখ্যা স্থায়ীভাবে ৫৪৩-তে রাখার দাবি জানানো হয়েছে। একইসঙ্গে রাজ্যগুলির মধ্যে সংসদীয় আসনের বর্তমান বণ্টন অপরিবর্তিত রাখার দাবি করা হয়েছে, যাতে প্রতিটি রাজ্যের বর্তমান আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব সুরক্ষিত থাকে।
প্রস্তাবে লোকসভা ও রাজ্যসভার মধ্যে বর্তমান ২.২:১ অনুপাত বজায় রাখার কথাও বলা হয়েছে।
এছাড়াও ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচন থেকেই বর্তমান ৫৪৩টি আসনের ভিত্তিতে মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ আসন সংরক্ষণ কার্যকর করার দাবি জানানো হয়েছে। পরবর্তী রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনগুলিতেও কোনও বিলম্ব ছাড়াই মহিলা সংরক্ষণ কার্যকর করার দাবি জানিয়েছে বিধানসভা।
প্রস্তাবের উপর বিতর্কে ডিএমকে, সিপিআই(এম), সিপিআই, ভিসিকে, আইইউএমএল-সহ একাধিক দল সরকারকে সমর্থন করে। তবে প্রস্তাবের কয়েকটি বিষয় নিয়ে মতপার্থক্যও দেখা যায়।
বিজেপি, এআইএডিএমকে এবং পিএমকে প্রস্তাবের কিছু অংশের বিরোধিতা করে। অন্যদিকে, মহিলা সংরক্ষণ দ্রুত কার্যকর করার দাবির অংশটিকে বিজেপি, এআইএডিএমকে এবং ডিএমকে সমর্থন করে।
দলগুলির বক্তব্য ও বিতর্ক পর্ব শেষ হওয়ার পর প্রস্তাবটি ধ্বনি ভোটে তোলা হয়। বিধানসভার স্পিকার জে. সি. ডি. প্রভাকর ঘোষণা করেন, মুখ্যমন্ত্রী বিজয় সরকারের আনা বিশেষ প্রস্তাবটি বিধানসভায় গৃহীত হয়েছে।
–আইএএনএস
























