নয়াদিল্লি, ১১ আগস্ট (আইএএনএস): জাতীয় রাজধানীতে পড়ুয়াদের আন্দোলনে পুলিশি পদক্ষেপ নিয়ে বিরোধীদের দাবি করা আলোচনায় লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী ‘পালিয়ে যাচ্ছেন’ বলে মঙ্গলবার অভিযোগ করল এনডিএ। তাদের দাবি, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এই বিষয়ে সংসদে জবাব দিতে প্রস্তুত। অন্যদিকে, ২০ জুলাই সংসদ অভিযানের সময় আন্দোলনকারীদের উপর কথিত পেলেট গান ব্যবহারের অভিযোগ নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের দাবিতে অনড় রয়েছে কংগ্রেস।
একইসঙ্গে ঝাড়খণ্ডে আন্দোলনরত পড়ুয়াদের উপর কথিত লাঠিচার্জের ঘটনায়ও কংগ্রেসকে নিশানা করেছে এনডিএ।
বিজেপি সাংসদ রবিশঙ্কর প্রসাদ আইএএনএস-কে বলেন, বিরোধীরা যে সমস্ত বিষয় তুলতে চান, সরকার সেগুলি শুনতে এবং প্রতিটি বিষয়ে জবাব দিতে প্রস্তুত। তিনি রাহুল গান্ধীকে উদ্দেশ্য করে বলেন, “আপনি ক্রমাগত হইচই করছেন, অথচ আপনার সমর্থনেই ঝাড়খণ্ড সরকার চলছে। সেখানে প্রতিটি পরীক্ষায় চাকরি বিক্রি হচ্ছে বলে অভিযোগ, পড়ুয়ারা অনশন করছে, লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাসের মুখে পড়ছে। এর জন্য কি আপনাকে জবাব দিতে হবে না?”
তিনি আরও বলেন, “রাহুল গান্ধীকে আমাদের প্রশ্নের জবাব দিতে হবে। এখন তিনি সংসদে বিতর্ক থেকে পালিয়ে যাচ্ছেন।”
কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা রিপাবলিকান পার্টি অব ইন্ডিয়া (এ)-এর প্রধান রামদাস আঠাওয়ালে অভিযোগ করেন, রাহুল গান্ধীর ‘একমাত্র কাজ’ হল সকলের পদত্যাগ দাবি করা। তাঁর দাবি, রাহুল গান্ধী অমিত শাহকে ভয় পান এবং সেই কারণেই বারবার নির্বাচনে পরাজিত হন।
শিবসেনার সাংসদ শ্রীকান্ত শিন্দেও এনডিএর অবস্থানকে সমর্থন করে বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জবাব দিতে প্রস্তুত। যে বিষয় নিয়ে বিরোধীরা সংসদের কাজকর্ম চলতে দেননি, সেই বিষয়েই সরকার আলোচনায় রাজি হয়েছে। কিন্তু বিরোধীরা এখনও তা মেনে নিতে চাইছে না। এর থেকেই বোঝা যায়, তারা কোনও আলোচনা করতে চায় না এবং সংসদের কার্যক্রমও চালাতে চায় না।
বিজেপি সাংসদ কে. লক্ষ্মণও রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে আলোচনায় অংশ না নেওয়ার অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, সংসদে যে দাবি তোলা হয়েছিল, সরকার তা মেনে নিয়েছে এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলোচনার জন্য প্রস্তুত। তবুও বিরোধীরা পিছিয়ে যাচ্ছে। রাহুল গান্ধীকে পালিয়ে না গিয়ে আলোচনায় অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
লক্ষ্মণ আরও বলেন, ঝাড়খণ্ডে কী ঘটেছে এবং কংগ্রেস-সমর্থিত রাজ্য সরকারে পড়ুয়াদের কীভাবে লাঠিচার্জের মুখে পড়তে হয়েছে, তা দেশের মানুষের জানা উচিত। একইসঙ্গে রাহুল গান্ধীকে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানান তিনি এবং ঝাড়খণ্ড সরকারের কংগ্রেস প্রতিনিধিদের পদত্যাগ করা উচিত বলেও মন্তব্য করেন।
উল্লেখ্য, ঝাড়খণ্ডে কংগ্রেস ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চার (জেএমএম) সঙ্গে জোটে রয়েছে।
বিজেপি সাংসদ মনোজ তিওয়ারিও রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে ‘নির্মমতাকে উৎসাহিত করার’ অভিযোগ তোলেন। তাঁর দাবি, রাহুল গান্ধীর এই নীতি দেশের মানুষ এবং ঝাড়খণ্ডের মানুষ—উভয়েই দেখছেন।
তবে এনডিএর অভিযোগ খারিজ করে নিজেদের দাবিতে অনড় থাকে কংগ্রেস। কংগ্রেস সাংসদ গৌরব গগৈ ২০ জুলাই সংসদ অভিযানের সময় আন্দোলনকারীদের উপর কথিত পেলেট গান ব্যবহারের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর জবাব দাবি করেন।
আইএএনএস-কে গৌরব গগৈ বলেন, গত ১৫ দিন ধরে বিরোধীরা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে সংসদে উপস্থিত থাকার দাবি জানিয়ে আসছে। লোকসভায় শিক্ষার উপর দু’দিন ধরে আলোচনা হলেও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সেখানে উপস্থিত ছিলেন না। তাঁর দাবি, অমিত শাহকে স্পষ্ট করতে হবে—পেলেট গান ব্যবহারের নির্দেশ তিনি দিয়েছিলেন কি না, অথবা তিনি বিষয়টি সম্পর্কে জানতেন না কি না।
গগৈ বলেন, “যাই হয়ে থাকুক, তাঁকে বিবৃতি দিতে হবে, দায়িত্ব নিতে হবে এবং পদত্যাগ করতে হবে।” রাহুল গান্ধীও ইতিমধ্যে এই বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে জবাবদিহি ও পদত্যাগের দাবি জানিয়েছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।
কংগ্রেস সাংসদ প্রমোদ তিওয়ারিও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনের দাবি জানান। তাঁর প্রশ্ন, নিরীহ পড়ুয়াদের উপর লাঠিচার্জের নির্দেশ কে দিয়েছিল, পেরেক লাগানো লাঠি ব্যবহারের অনুমতি কে দিয়েছিল এবং পেলেট গান চালানোর অনুমোদন কে দিয়েছিল।
তাঁর অভিযোগ, আন্দোলনরত পড়ুয়াদের বিরুদ্ধে এমন শক্তি প্রয়োগ করা হয়েছে যেন তাঁরা সন্ত্রাসবাদী। তাই এই সমস্ত অভিযোগের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে সংসদে এসে স্পষ্ট জবাব দিতে হবে বলে দাবি করেন তিনি।
— আইএএনএস



















