নয়াদিল্লি, ১১ আগস্ট (আইএএনএস): স্বাধীনতা সংগ্রামী নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর দেহাবশেষ জাপান থেকে ভারতে ফিরিয়ে আনার নির্দেশ চেয়ে দায়ের করা আবেদনের ভিত্তিতে মঙ্গলবার কেন্দ্রের কাছে জবাব চাইল সুপ্রিম কোর্ট।
প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি. মোহনার বেঞ্চ নেতাজির কন্যা অনিতা বি. ফাফের দায়ের করা আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে কেন্দ্রীয় সরকার, বিদেশ মন্ত্রক এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রককে নোটিস দিয়েছে। নেতাজির কন্যার হয়ে শীর্ষ আদালতে সওয়াল করেন প্রবীণ আইনজীবী ড. অভিষেক মনু সিংভি।
মামলাটির পরবর্তী শুনানি আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর ধার্য করেছে সুপ্রিম কোর্ট।
আবেদনে জাপানের টোকিওর রেনকোজি মন্দিরে কয়েক দশক ধরে সংরক্ষিত নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর বলে মনে করা দেহাবশেষ ভারতে ফিরিয়ে আনার জন্য কেন্দ্রকে উপযুক্ত নির্দেশ দেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে।
আবেদনকারী পক্ষের দাবি, নেতাজির কন্যা এবং আইনগত উত্তরাধিকারী হিসেবে অনিতা বোস ফাফের এই বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টের সামনে তোলার অধিকার রয়েছে। তাঁর পক্ষ থেকে কেন্দ্রীয় সরকারকে জাপান থেকে নেতাজির দেহাবশেষ দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের নির্দেশ দেওয়ার আর্জি জানানো হয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টের মঙ্গলবারের এই পদক্ষেপের কয়েক মাস আগে নেতাজির দেহাবশেষ জাপান থেকে ফিরিয়ে আনার একই ধরনের একটি আবেদন গ্রহণ করতে অস্বীকার করেছিল শীর্ষ আদালত।
চলতি বছরের মার্চে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ নেতাজির নাতি-ভ্রাতুষ্পুত্র আশিস রায়ের দায়ের করা আবেদন গ্রহণে অনিচ্ছা প্রকাশ করেছিল। সেই সময় আশিস রায়ের হয়ে সওয়াল করা প্রবীণ আইনজীবী অভিষেক মনু সিংভি আবেদনটি প্রত্যাহারের অনুমতি চান এবং জানান, নেতাজির কন্যা নতুন করে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করবেন।
সেই শুনানিতে সিংভি জানিয়েছিলেন, নেতাজির একমাত্র আইনগত উত্তরাধিকারী অনিতা বোস ফাফ এবং তিনি নেতাজির দেহাবশেষ দেশে ফিরিয়ে আনার আবেদনের পক্ষে রয়েছেন। তবে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ পর্যবেক্ষণ করেছিল, আইনগত উত্তরাধিকারী নিজে আবেদনকারী নন। তিনি যদি বিষয়টি এগিয়ে নিয়ে যেতে চান, তাহলে তাঁকেই সরাসরি সুপ্রিম কোর্টে আসতে হবে।
শীর্ষ আদালত তখন মন্তব্য করেছিল, “কিন্তু উত্তরাধিকারী আবেদনকারী নন। উত্তরাধিকারীকেই আমাদের সামনে আসতে হবে। তিনি পর্দার আড়াল থেকে এই লড়াই করতে পারেন না।”
নেতাজির পরিবারের আবেগকে আদালত সম্মান করে বলেও জানিয়েছিল। তবে আইনি প্রক্রিয়া সংশ্লিষ্ট আইনগত উত্তরাধিকারীকেই শুরু করতে হবে বলে স্পষ্ট করেছিল শীর্ষ আদালত।
বর্তমান আবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে, টোকিওর রেনকোজি মন্দিরে সংরক্ষিত নেতাজির দেহাবশেষ দেশে ফিরিয়ে আনতে কেন্দ্রীয় সরকার এখনও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করেনি। তাই তাঁর দেহাবশেষ ভারতে ফিরিয়ে এনে তাঁর কন্যাকে দেশের মাটিতে শেষকৃত্য সম্পন্ন করার সুযোগ দেওয়ার জন্য আদালতের নির্দেশ চাওয়া হয়েছে।
— আইএএনএস



















