নয়াদিল্লি, ১১ আগস্ট (আইএএনএস): ঝাড়খণ্ডে পড়ুয়াদের আন্দোলনে পুলিশি পদক্ষেপ এবং সংসদে বারবার অধিবেশন ব্যাহত হওয়া নিয়ে মঙ্গলবার সংসদের মকর দ্বারের সামনে মুখোমুখি হল এনডিএ ও বিরোধী শিবিরের সাংসদরা। দুই পক্ষই পৃথকভাবে বিক্ষোভ দেখিয়ে একে অপরের বিরুদ্ধে সরব হয়।
বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ অভিযোগ করে, বিরোধীরা সংসদের কার্যক্রম ‘অচল’ করে দিচ্ছে। অন্যদিকে বিরোধী সাংসদদের দাবি, ঝাড়খণ্ডে আন্দোলনরত পড়ুয়াদের উপর পুলিশি পদক্ষেপের বিষয়ে সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে উপস্থিত থেকে বক্তব্য দিতে হবে।
এনডিএ সাংসদরা হাতে প্ল্যাকার্ড নিয়ে বিরোধীদের এবং লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে স্লোগান দেন। তাঁদের অভিযোগ, পড়ুয়াদের উপর পুলিশি পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনার মুখোমুখি হতে ‘পালিয়ে যাচ্ছেন’ রাহুল গান্ধী। সরকার ইতিমধ্যেই জানিয়েছে, এই বিষয়ে সংসদে বক্তব্য দিতে প্রস্তুত রয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।
বিক্ষোভে এনডিএ সাংসদদের হাতে থাকা প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল, “গৃহমন্ত্রীর বক্তব্য থেকে পালাবেন না রাহুল গান্ধী।” বিরোধীরা ইচ্ছাকৃতভাবে সংসদের কার্যক্রম ব্যাহত করে পড়ুয়াদের আন্দোলন নিয়ে আলোচনা এড়িয়ে যেতে চাইছে বলেও অভিযোগ করেন তাঁরা।
ঝাড়খণ্ডে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলনরত পড়ুয়াদের উপর পুলিশি পদক্ষেপ নিয়ে বিরোধীদের ‘নীরবতা’রও সমালোচনা করেন এনডিএ সাংসদরা। এই বিষয়ে রাহুল গান্ধীর বক্তব্য দাবি করেন তাঁরা।
অন্যদিকে, কংগ্রেস সাংসদরা পাল্টা বিক্ষোভ দেখিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে সংসদে এসে বক্তব্য দেওয়ার দাবি জানান। তাঁরা “অমিত শাহ সদনে আসুন” স্লোগান তোলেন এবং আন্দোলনরত পড়ুয়াদের উপর পুলিশি পদক্ষেপ নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সরাসরি বক্তব্য দাবি করেন।
কংগ্রেস সাংসদ পবন খেরা আইএএনএস-কে বলেন, “স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ পালিয়ে যান, আমরা পালাই না। তাঁরা নিজেদের ‘লৌহপুরুষ’ বলেন, কিন্তু সেই লোহায় মরচে ধরে গিয়েছে। এই আরএসএসের লোকেরা বরাবরই এমন। তাঁরা সবচেয়ে বড় কাপুরুষ।”
তিনি আরও বলেন, “আমাদের সরকার ক্ষমতায় এলে তাঁদের উপযুক্ত জবাব দেওয়া হবে। আরএসএস নামে যে সংগঠনটি রয়েছে, সেটির অস্তিত্বই থাকবে না।”
কংগ্রেস সাংসদ উজ্জ্বল রমন সিংহ ঝাড়খণ্ড সরকারের পাশে দাঁড়িয়ে বিজেপির সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, ক্ষমতায় থেকেও বিজেপি কিছু করতে পারছে না। ঝাড়খণ্ডে রাজ্য সরকার বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করছে এবং তাঁদের নেতা রাহুল গান্ধীও স্পষ্টভাবে বলেছেন, পড়ুয়াদের দমন করা উচিত নয় এবং তাঁদের সমস্যার কথা শুনতে হবে।
অন্যদিকে বিজেপি সাংসদ দীনেশ শর্মা পড়ুয়াদের বিষয় নিয়ে রাহুল গান্ধীর ‘বাছাই করা’ অবস্থানের অভিযোগ করেন। তাঁর দাবি, ঝাড়খণ্ডের ঘটনায় রাহুল গান্ধী চোখ বন্ধ করে রয়েছেন। এই ধরনের ‘বাছাই করা অবস্থান’ আর চলবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বিজেপি সাংসদ সম্বিত পাত্রও ঝাড়খণ্ডে পড়ুয়াদের উপর পুলিশি পদক্ষেপ নিয়ে রাহুল গান্ধী ও বিরোধীদের তীব্র আক্রমণ করেন। শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলনরত পড়ুয়াদের উপর লাঠিচার্জ ও অন্যান্য পদক্ষেপের নির্দেশ কে দিয়েছিল, সেই প্রশ্ন তোলেন তিনি।
পাত্র বলেন, ঝাড়খণ্ড সরকারের বিধায়ক ও মন্ত্রী হিসেবে রাহুল গান্ধীর দলের সদস্যরা দায়িত্বে রয়েছেন। তাঁর প্রশ্ন, “তাহলে রাহুল গান্ধী কি দায়ী নন? তাঁর নির্দেশে কি এসব ঘটেনি?”
তিনি আরও বলেন, যদি রাহুল গান্ধীর নির্দেশে এই ঘটনা না ঘটে থাকে, তাহলে তাঁকে সংবাদমাধ্যমের সামনে এসে স্পষ্ট করে জানাতে হবে যে তিনি ঝাড়খণ্ড সরকারের উপর থেকে সমর্থন প্রত্যাহার করবেন।
পাত্রের অভিযোগ, সরকার যখন জানিয়েছে যে পড়ুয়াদের আন্দোলন নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংসদে বক্তব্য দেবেন, তখনও রাহুল গান্ধী আলোচনায় অংশ না নিয়ে ‘পালিয়ে যাচ্ছেন’। এই পরিস্থিতি চলতে পারে না এবং রাহুল গান্ধীকে জবাব দিতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সংসদের বাইরে দুই পক্ষের এই মুখোমুখি অবস্থানের মধ্যেই ভিতরে অধিবেশনও বারবার ব্যাহত হয়। পড়ুয়াদের উপর পুলিশি পদক্ষেপ নিয়ে সরকার ও বিরোধী পক্ষ নিজেদের অবস্থানে অনড় থাকায় সংসদের কার্যক্রম ঘিরে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে।
— আইএএনএস



















