নয়াদিল্লি, ১১ আগস্ট (আইএএনএস): ঝাড়খণ্ডে পড়ুয়াদের উপর পুলিশি পদক্ষেপের ঘটনাকে কেন্দ্র করে কংগ্রেসকে তীব্র আক্রমণ করলেন প্রাক্তন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী তথা সম্বলপুরের বিজেপি সাংসদ ধমেন্দ্র প্রধান। মঙ্গলবার তিনি অভিযোগ করেন, কংগ্রেসের গণতন্ত্রের প্রতি অঙ্গীকার ‘বাছাই করা’ এবং রাজনৈতিক সুবিধা অনুযায়ী তারা গণতন্ত্রের কথা বলে।
সমাজমাধ্যম ‘এক্স’-এ একটি পোস্টে ধমেন্দ্র প্রধান অভিযোগ করেন, কংগ্রেস ক্রমাগত পড়ুয়াদের স্বার্থ নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে এবং মিথ্যা তথ্য প্রচার করছে। তিনি বলেন, “কংগ্রেস পড়ুয়াদের স্বার্থ নিয়ে ক্রমাগত মিথ্যা ছড়াচ্ছে। রাহুল গান্ধীর কাছে তথ্য নেই। লোকসভার বিরোধী দলনেতা, যিনি অভ্যাসগতভাবে মিথ্যা বলেন, তিনি সংসদে আসতে বা উত্তর শুনতে চান না। তাঁরা শুধু নিজেদের মিথ্যা ছড়াতে এবং কুমিরের কান্না কাঁদতে চান।”
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে নিয়ে কংগ্রেসের অভিযোগেরও সমালোচনা করেন ধমেন্দ্র প্রধান। তাঁর দাবি, অমিত শাহের বিরুদ্ধে ‘ভিত্তিহীন ও তথ্যহীন’ অভিযোগ রাজনৈতিক হতাশারই প্রকাশ। তিনি বলেন, সরকার সংসদে প্রতিটি বিষয় নিয়ে আলোচনার জন্য প্রস্তুত, অথচ কংগ্রেস ‘গণতন্ত্রের মন্দির’ সংসদ ভবনে বাধা সৃষ্টি করছে এবং দেশের ও যুবসমাজের স্বার্থকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
ধমেন্দ্র প্রধান আরও অভিযোগ করেন, দেশের কল্যাণ কংগ্রেসের উদ্দেশ্য নয়; বরং তারা নিজেদের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। তাঁর বক্তব্য, “সংসদে আলোচনা হলে এরা বাইরে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে, কারণ সংসদে দাঁড়িয়ে উত্তর শোনার ক্ষমতা তাদের নেই।”
ঝাড়খণ্ডে পড়ুয়াদের উপর পুলিশি পদক্ষেপের প্রসঙ্গ তুলে বিজেপি নেতা বলেন, “কংগ্রেসের গণতন্ত্রও ‘বাছাই করা’। যেখানে তারা সরকারে রয়েছে, সেখানে যুবকদের উপর হিংসা এবং যেখানে রাজনৈতিকভাবে সুবিধা পেতে চায়, সেখানে মিথ্যা ও বিশৃঙ্খলা—এটাই তাদের নীতি।”
তিনি আরও বলেন, ঝাড়খণ্ডে পড়ুয়াদের উপর ‘নির্মমতা’ গোটা দেশ দেখেছে। অথচ প্রতিটি বিষয়ে সাংবাদিক সম্মেলন করা রাহুল গান্ধী কেন এখন নীরব, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি। ধমেন্দ্র প্রধানের দাবি, দেশের যুবসমাজ কংগ্রেসের এই ‘দ্বিচারিতা’ বুঝে গিয়েছে। তাঁর কথায়, গণতন্ত্রে একনায়কতন্ত্রের কোনও স্থান নেই এবং ‘জরুরি অবস্থার মানসিকতা’ নিয়ে পরিচালিত রাহুল গান্ধী ও কংগ্রেসের তা বোঝা উচিত।
এর আগে ৯ আগস্ট নিজের পদত্যাগ নিয়ে নীরবতা ভেঙেছিলেন ধমেন্দ্র প্রধান। তিনি জানিয়েছিলেন, নিট পরীক্ষা সংক্রান্ত বিতর্কে আন্দোলনরত পড়ুয়াদের আকাঙ্ক্ষার কথা বিবেচনা করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে বিষয়টি সমাধানের উদ্যোগ নেওয়ার আবেদন করেছিলেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেছিলেন, “দেশের স্বার্থের ঊর্ধ্বে কিছুই নয়।”
৮ আগস্ট সম্বলপুর ও রাইরাখোলে একাধিক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ধমেন্দ্র প্রধান বলেছিলেন, আন্দোলনের সময় তরুণ প্রজন্মকে ‘বিভ্রান্ত’ করার চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে শিক্ষামন্ত্রীর পদ ধরে রাখার ক্ষেত্রে তাঁর কোনও ব্যক্তিগত স্বার্থ ছিল না বলেও তিনি জানান।
তিনি বলেন, “জেন জি আমাদের সন্তান। কিছু মানুষ তাদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছিল। তখন আমার কোনও ব্যক্তিগত সমস্যা ছিল না।”
বিজেপি নেতা আরও বলেন, ভারতে প্রতি বছর প্রায় দুই কোটি শিশু জন্মগ্রহণ করে এবং দেশের ‘বিশ্বগুরু’ হয়ে ওঠার লক্ষ্যে তরুণ প্রজন্মের আকাঙ্ক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
— আইএএনএস
























