নয়াদিল্লি, ১১ আগস্ট (আইএএনএস): নিয়োগ ও ভবিষ্যৎ সংক্রান্ত বিভিন্ন দাবিতে ঝাড়খণ্ডে চলমান ছাত্র আন্দোলন নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনের নেতৃত্বাধীন সরকারের বিরুদ্ধে মঙ্গলবার তীব্র আক্রমণ শানালেন এনডিএ নেতারা। আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে প্রশাসন নির্বিচারে বলপ্রয়োগ করেছে বলে অভিযোগ করেন তাঁরা।
বিজেপির জাতীয় মুখপাত্র সি আর কেশবন ঝাড়খণ্ড সরকারকে জরুরি অবস্থার সময়কার কংগ্রেস সরকারের সঙ্গে তুলনা করেন। পাশাপাশি কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীকে জোটসঙ্গী ঝাড়খণ্ড সরকারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগে নিশানা করেন।
কেশবন বলেন, “ঝাড়খণ্ডের নির্মম কংগ্রেস-জেএমএম সরকার ইন্দিরা গান্ধীর বর্বর জরুরি অবস্থার হুবহু প্রতিচ্ছবি। আর রাহুল গান্ধী এমন একজন সুবিধাবাদী, যাঁর নিজের জোটের সরকারকে জবাবদিহির আওতায় আনার সাহস নেই।”
ছাত্ররা নিজেদের দাবি জানানোয় তাঁদের ‘দমন ও নিপীড়ন’ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। আন্দোলনের সময় লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহারের খবরেরও তীব্র নিন্দা জানান কেশবন।
আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগের সমালোচনা রাহুল গান্ধী করলেও পরে একই রাতে ঝাড়খণ্ড সরকার কেন ছাত্রদের উপর লাঠিচার্জ করল, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। কেশবনের দাবি, “এটা স্পষ্ট যে রাহুল গান্ধীকে কেউই, এমনকী তাঁর জোটসঙ্গীরাও, গুরুত্ব দেন না এবং তিনি কী বলছেন, তা নিয়েও তারা চিন্তিত নয়।”
জনতা দল (ইউনাইটেড)-এর জাতীয় মুখপাত্র রাজীব রঞ্জনও হেমন্ত সোরেন সরকারের বিরুদ্ধে সরব হন। তাঁর অভিযোগ, কর্মসংস্থান ও নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে ছাত্রদের মধ্যে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তাই এই আন্দোলনের মূল কারণ।
রাজীব রঞ্জন বলেন, “এখন দেখা যাচ্ছে, হেমন্ত সোরেন সরকার সম্পূর্ণভাবে উন্মোচিত হয়ে গিয়েছে।” তাঁর অভিযোগ, সরকারি চাকরি টাকা বা রাজনৈতিক প্রভাবের মাধ্যমে পাওয়া যায়—এমন অভিযোগ ছাত্ররা বারবার তুলেছেন। ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন সাধারণ ছাত্ররা তাই রাঁচির রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ করছেন বলেও দাবি করেন তিনি।
পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি নেতা তথা মন্ত্রী দিলীপ ঘোষও ঝাড়খণ্ডের ছাত্র আন্দোলন নিয়ে মুখ খোলেন। তাঁর বক্তব্য, ছাত্ররা নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে রাস্তায় নেমে আন্দোলন করছেন। “ছাত্রদের নিজেদের ভবিষ্যতের জন্য লড়াই করার অধিকার রয়েছে। যে সরকার তাঁদের অধিকার ও স্বার্থ রক্ষা করতে ব্যর্থ, তাকে জবাব দিতে হবে,” বলেন তিনি।
এদিকে বিজেপির প্রধান মুখপাত্র প্রতুল শাহদেও রাঁচিতে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ তোলেন। তাঁর দাবি, প্রায় দু’লাখ ছাত্র রাস্তায় নেমে আন্দোলন করেছেন।
মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনের জন্মদিনের প্রসঙ্গ তুলে শাহদেও দাবি করেন, আন্দোলনকারী ছাত্ররা ব্যঙ্গাত্মকভাবে তাঁকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানান। এর জবাবে সরকার জলকামান, কাঁদানে গ্যাস ও লাঠিচার্জ ব্যবহার করেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
শাহদেও বলেন, “হ্যাপি বার্থডে, মুখ্যমন্ত্রী সাহেব, আপনি হাজার বছর বাঁচুন—আর মুখ্যমন্ত্রী তাঁদের বিনিময়ে কী দিলেন?” এরপরই আন্দোলনকারীদের উপর জলকামান, কাঁদানে গ্যাস ও লাঠি ব্যবহার করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
______



















