নয়াদিল্লি, ১১ আগস্ট (আইএএনএস): কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)-চালিত সরকারি ই-মার্কেটপ্লেস প্ল্যাটফর্ম ক্রেতা ও বিক্রেতাদের সরকারি ক্রয় প্রক্রিয়ায় আরও বুদ্ধিদীপ্তভাবে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারে সাহায্য করবে বলে জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল। এর ফলে সরকারি ক্রয় ব্যবস্থা আরও দক্ষ, সাশ্রয়ী, স্বচ্ছ ও প্রতিযোগিতামূলক হয়ে উঠবে বলেও তিনি জানান।
জিইএম-এর দশম প্রতিষ্ঠা দিবসের অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে গোয়েল বলেন, দেশের বিভিন্ন জেলায় জিইএম-এর ‘সুবিধা কেন্দ্র’-এর মাধ্যমে রেজিস্ট্রেশন, ক্যাটালগ তৈরি, প্রশিক্ষণ এবং অভিযোগ নিষ্পত্তির ব্যবস্থা সম্প্রসারণ করে শেষ প্রান্তের মানুষের কাছে পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার উপর জোর দিতে হবে। পাশাপাশি মূল্য সংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণ, দামের যৌক্তিকতা যাচাই এবং মার্কেটপ্লেসের স্বচ্ছতা বজায় রাখতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার আরও বাড়ানোর কথা বলেন তিনি।
কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রাজ্য সরকার, সরকারি সংস্থা, পঞ্চায়েত এবং সমবায় প্রতিষ্ঠানগুলিকে একটি সুসংহত জাতীয় সরকারি ক্রয় ব্যবস্থার আওতায় নিয়ে আসার উপরও জোর দেন। পাশাপাশি জিইএম সাহায় ও ট্রেডটস-এর সংযোগ সম্প্রসারণের মাধ্যমে ঋণ সুবিধা বাড়ানো, টেকসই সরকারি ক্রয়কে মূলধারায় নিয়ে আসা এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলির সঙ্গে যোগাযোগ বাড়িয়ে তরুণ উদ্ভাবক ও নতুন ক্রেতাদের প্ল্যাটফর্মে যুক্ত করার আহ্বান জানান তিনি।
বর্তমানে জিইএম প্ল্যাটফর্মে ২৫ লক্ষেরও বেশি বিক্রেতা এবং ১.৩৭ লক্ষের বেশি ক্রেতা সংস্থা রয়েছে। এখনও পর্যন্ত ৩.৭৮ কোটিরও বেশি অর্ডারের মাধ্যমে ২০ লক্ষ কোটি টাকার বেশি মূল্যের সরকারি ক্রয় সম্পন্ন হয়েছে।
জিইএম-এ বর্তমানে ১২.২৮ লক্ষ মাইক্রো ও স্মল এন্টারপ্রাইজ রয়েছে। তারা ৯ লক্ষ কোটি টাকারও বেশি মূল্যের অর্ডার পূরণ করেছে, যা মোট লেনদেনের ৪৫.৬ শতাংশ।
এছাড়া, ২.২৪ লক্ষেরও বেশি মহিলা-পরিচালিত এমএসই ৫০ লক্ষের বেশি অর্ডার পূরণ করেছে, যার মোট মূল্য ১ লক্ষ কোটি টাকারও বেশি। একইসঙ্গে ৪২,২৪২টি স্টার্টআপ জিইএম-এর মাধ্যমে ৬৫,৬৩৩ কোটি টাকারও বেশি মূল্যের অর্ডার পেয়েছে।
জিইএম-এর প্রধান কার্যনির্বাহী আধিকারিক মিহির কুমার বলেন, “আমরা কতটা পথ অতিক্রম করেছি, তা নিয়ে আমরা গর্বিত। তবে জিইএম-এর প্রকৃত পরিচয় শুধু তার অর্জিত পরিসর নয়, বরং ব্যবহারকারীদের চাহিদা শুনে, পরিষেবা পরিমার্জন করে এবং তাঁদের প্রয়োজনের প্রতি সাড়া দিয়ে ক্রমাগত উন্নতি করার মানসিকতা।”
অনুষ্ঠানে জিইএম-এর হেল্পডেস্কের জন্য দেশজুড়ে পাঁচ সংখ্যার একটি বিশেষ শর্ট কোড ‘১৪৫৫০’ চালু করা হয়। এর মাধ্যমে ক্রেতা, বিক্রেতা এবং অন্যান্য অংশীদাররা সহজেই সহায়তা পেতে পারবেন এবং জিইএম-এর সরকারি যোগাযোগ চিহ্নিত করতেও সুবিধা হবে।
গোয়েল সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘এক্স’-এ এক পোস্টে জানান, অনুষ্ঠানে তিনি জিইএম-এর দশম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে কাস্টমাইজড ‘মাই স্ট্যাম্প’, পাঁচ সংখ্যার শর্ট কোড এবং জিইএম-এর একটি বুকলেট প্রকাশ করেছেন। তিনি এমএসএমই, মহিলা উদ্যোক্তা, কারিগর-সহ সমস্ত অংশীদারকে জিইএম-এর গৌরবময় এক দশক পূর্তির জন্য অভিনন্দন জানান। তাঁর কথায়, ১০ বছর আগে জিইএম চালু হওয়ার পর ভারত সরকারের কেনাকাটার পদ্ধতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে।



















