শিলং, ১০ আগস্ট : ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস-এর মেঘালয় প্রদেশ কংগ্রেস কমিটি প্রস্তাবিত বিদেশি অনুদান নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধনীর প্রতিবাদে সোমবার শিলংয়ে শান্তিপূর্ণ মিছিল করে। কংগ্রেসের অভিযোগ, প্রস্তাবিত সংশোধনী কার্যকর হলে বিদেশি অনুদান গ্রহণকারী চার্চ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, এনজিও-সহ বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন গুরুতর সমস্যার মুখে পড়তে পারে।
বিক্ষোভ মিছিলে বিপুল সংখ্যক কংগ্রেস কর্মী অংশ নেন। তাঁদের হাতে ছিল দলীয় পতাকা ও বিভিন্ন দাবিসংবলিত প্ল্যাকার্ড। প্রস্তাবিত এফসিআরএ সংশোধনী বিলের বিরুদ্ধে স্লোগানও দেন তাঁরা।
বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে কংগ্রেস নেতা ভিনসেন্ট এইচ. পালা দাবি করেন, বিজেপি তাদের সাংসদদের হুইপ জারি করেছে এবং আগামী ১৩ আগস্ট সংসদের নির্ধারিত অবকাশের আগে বিলটি পেশ করা হতে পারে।
পালা বলেন, “বিজেপি হুইপ জারি করেছে। তারা সম্ভবত আজ, আগামীকাল অথবা তার পরের দিন বিলটি আনতে পারে।”
প্রস্তাবিত আইনকে তিনি “ইতিহাসের অন্যতম বিপজ্জনক বিল” বলে মন্তব্য করেন। তাঁর দাবি, বিদেশি অনুদানের উপর পুরোপুরি বা আংশিকভাবে নির্ভরশীল বহু প্রতিষ্ঠান এর ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
বিশেষ করে প্রস্তাবিত ১৬এ ধারার প্রসঙ্গ তুলে পালা দাবি করেন, কোনও প্রতিষ্ঠানের এফসিআরএ রেজিস্ট্রেশন নবীকরণ না হলে, বাতিল হলে বা স্বেচ্ছায় সমর্পণ করা হলে সংশ্লিষ্ট সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত বা সংযুক্ত করার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
তিনি বলেন, “আপনি যদি এফসিআরএ নবীকরণ করতে না পারেন, অথবা এফসিআরএ বাতিল হয়ে যায়, কিংবা আপনি নিজেই তা সমর্পণ করেন, তাহলে তারা আপনার সম্পত্তি নিয়ে নিতে পারে।”
পালার আরও দাবি, কোনও চার্চ, স্কুল বা অন্য প্রতিষ্ঠানের সম্পত্তির অর্থায়নের সামান্য অংশও যদি বিদেশি অনুদান থেকে হয়ে থাকে, সেক্ষেত্রে সম্পূর্ণ সম্পত্তিই এর আওতায় চলে আসতে পারে। যদিও তাঁর এই বক্তব্য প্রস্তাবিত বিলের ব্যাখ্যা হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে, এর আইনি প্রয়োগ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সংসদীয় প্রক্রিয়ার পরই স্পষ্ট হবে।
কংগ্রেস নেতা অবশ্য বলেন, বিদেশি অনুদানের অপব্যবহার রুখতে নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজনীয়তার বিরোধিতা তাঁদের নেই। তাঁর বক্তব্য, বহু বছর ধরেই এফসিআরএ কার্যকর রয়েছে, কিন্তু প্রস্তাবিত সংশোধনীগুলি বিদেশি অর্থের নিয়ন্ত্রণের সীমা ছাড়িয়ে যেতে পারে।
পালা স্পষ্ট করে বলেন, এই প্রতিবাদ কেন্দ্র বা দেশের বিরুদ্ধে নয়। তাঁর কথায়, ভারতের শক্তি নিহিত রয়েছে দেশের বৈচিত্র্যময় সম্প্রদায় ও প্রতিষ্ঠানগুলির পারস্পরিক সহযোগিতায়।
এরপর শিলংয়ের বিভিন্ন এলাকা দিয়ে মিছিল এগিয়ে যায়। সংসদে প্রস্তাবিত সংশোধনী বিলটি বিবেচনার সম্ভাবনার আগে জনমত গড়ে তুলতেই মেঘালয় কংগ্রেস এই কর্মসূচি নিয়েছে।


















