উদয়পুর, ১০ আগস্ট: ‘দেশ বাঁচাও, মানুষ বাঁচাও’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে ১১ দফা দাবিতে সোমবার উদয়পুর মহকুমায় জেল ভরো আন্দোলন সংগঠিত করল চার বাম গণসংগঠন। সিআইটিইউ, এআইকেএস, টিকেএমএস এবং জিএমপির ডাকে সারা দেশের পাশাপাশি রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে এই কর্মসূচি পালিত হয়। এরই ধারাবাহিকতায় উদয়পুরেও বিক্ষোভ মিছিল ও জেল ভরো কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
সোমবার সকালে উদয়পুরের জামতলা এলাকা থেকে একটি বিশাল মিছিল বের হয়। মিছিলটি সেন্ট্রাল রোড ও নিউ টাউন রোড পরিক্রমা করে পুনরায় জামতলা ডাকঘরের সামনে এসে জমায়েত হয়। মিছিলে শত শত আন্দোলনকারী অংশ নেন। বিভিন্ন দাবিতে স্লোগান দিতে দিতে তাঁরা এলাকায় মিছিল করেন।
মিছিল চলাকালীন পুলিশের পক্ষ থেকে স্থাপিত দুটি ব্যারিকেড ভেঙে দেওয়াকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি কিছুটা উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে মহকুমা পুলিশ আধিকারিক দেবাঞ্জলি রায় এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে আন্দোলনকারীদের গ্রেফতার করা হয়। এরপর তাঁদের উদয়পুর পুলিশ লাইনে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে আন্দোলনকারীদের জন্য অস্থায়ী জেলের ব্যবস্থা করা হয়েছিল বলে জানা গেছে।
কর্মসূচির আগে কৃষক সভার সম্পাদক নিখিল দাশ বক্তব্য রাখেন। তিনি কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের বিভিন্ন নীতির সমালোচনা করে আন্দোলনের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন। সাধারণ মানুষের বিভিন্ন সমস্যা এবং দাবি নিয়ে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।
অন্যদিকে, কৃষক সভার জেলা সম্পাদক প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাঁর অভিযোগ, শত শত মানুষ কর্মসূচিতে অংশ নিলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাত্র দুটি বাসের ব্যবস্থা করা হয়। ফলে আন্দোলনকারীদের সমস্যায় পড়তে হয়। প্রয়োজনে আন্দোলনকারীরা হেঁটেই ধ্বজনগর পুলিশ লাইনে পৌঁছাবেন এবং দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবেন বলে জানান তিনি। আগামী দিনে আরও বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়।
বাম সংগঠনগুলির উত্থাপিত ১১ দফা দাবির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো, বছরে ২০০ দিনের কাজ নিশ্চিত করা এবং দৈনিক ৭০০ টাকা মজুরি প্রদান, টুয়েপের কাজের ব্যবস্থা করা, কৃষকদের উৎপাদিত ফসলের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করা, বিদ্যুতের বর্ধিত মাশুল কমানো এবং স্মার্ট মিটার বাতিল করা। এছাড়াও জাতীয় সড়কসহ বিভিন্ন রাস্তার দ্রুত সংস্কার এবং এডিসির হাতে আরও ক্ষমতা প্রদানের দাবিও জানানো হয়।
জেল ভরো কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যাপক নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়। পুলিশি নজরদারির মধ্যেই উদয়পুরে দিনের কর্মসূচি সম্পন্ন হয় বলে জানা গেছে।























