ইম্ফল, ১০ আগস্ট (আইএএনএস): দেশজুড়ে ‘হর ঘর তিরঙ্গা’ অভিযানের অংশ হিসেবে দেশাত্মবোধের বার্তা ছড়িয়ে দিতে সোমবার ইম্ফল পূর্ব জেলা থেকে বাইক র্যালির সূচনা করলেন মণিপুরের মুখ্যমন্ত্রী ইউনাম খেমচাঁদ সিং। বাড়িতে জাতীয় পতাকা উত্তোলন এবং এই অভিযানে সাধারণ মানুষকে সক্রিয়ভাবে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানোই ছিল র্যালির মূল উদ্দেশ্য।
র্যালির সূচনায় মুখ্যমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতার পর থেকেই দেশের মানুষ গর্বের সঙ্গে তেরঙ্গা উত্তোলনের মাধ্যমে স্বাধীনতার চেতনাকে উদযাপন করে আসছেন। স্বাধীনতা দিবস সেই ঐতিহাসিক দিনের গুরুত্ব স্মরণ করিয়ে দেয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
দেশের উন্নয়ন এবং ‘বিকশিত ভারত ২০৪৭’-এর লক্ষ্য পূরণে ঐক্য ও দেশাত্মবোধের সঙ্গে সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান খেমচাঁদ সিং। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ভারতকে বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী রাষ্ট্রে পরিণত করার লক্ষ্যে সকলকে সহযোগিতার আবেদনও জানান তিনি।
মুখ্যমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, তিরঙ্গা যাত্রা সফল হবে এবং মণিপুরে শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
‘হর ঘর তিরঙ্গা’ অভিযানের অংশ হিসেবে মণিপুর পুলিশ বিভাগের উদ্যোগে এই বাইক র্যালির আয়োজন করা হয়। মুখ্যমন্ত্রীর পাশাপাশি রাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কনথৌজম গোবিন্দ সিংও এতে অংশ নেন।
ইম্ফল পূর্ব জেলার হাপ্তা কাংজেইবুং থেকে র্যালিটি শুরু হয়ে জাতীয় সড়ক-২, খোংজোম ওয়ার মেমোরিয়াল, থৌবাল এবং কাকচিং জেলা হয়ে চন্দেল জেলার লেইকুনে অষ্টম ব্যাটালিয়ন মণিপুর রাইফেলস ক্যাম্পাসে গিয়ে শেষ হয়।
র্যালিতে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজার হাজার বাইকার অংশ নেন। অংশগ্রহণকারীদের হাতে জাতীয় পতাকা দেখা যায়। দেশের ঐক্য ও অগ্রগতির প্রতি নিজেদের অঙ্গীকারও তাঁরা ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানে রাজ্যের শিল্প ও সংস্কৃতি মন্ত্রী খং লকেন সিং, মহারাষ্ট্রের রাজ্যসভার সাংসদ তথা বিজেপির মণিপুরের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা অজিত গোপচাদে, বিধায়ক নিশিকান্ত সাপাম, মুখ্যসচিব পুনীত কুমার গোয়েল, নিরাপত্তা উপদেষ্টা কুলদীপ সিং, রাজ্য পুলিশের ডিজি মুকেশ সিং-সহ একাধিক প্রবীণ পুলিশ ও সরকারি আধিকারিক উপস্থিত ছিলেন।
এক সরকারি আধিকারিক জানান, ‘আজাদি কা অমৃত মহোৎসব’-এর অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ২০২২ সালে ‘হর ঘর তিরঙ্গা’ অভিযান শুরু করেছিলেন। চলতি বছর ৯ থেকে ১৭ আগস্ট পর্যন্ত এই অভিযানের পঞ্চম পর্ব পালিত হচ্ছে। এর মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে নিজেদের বাড়িতে জাতীয় পতাকা উত্তোলন এবং রাজ্যজুড়ে বিভিন্ন কর্মসূচিতে সক্রিয়ভাবে অংশ নেওয়ার জন্য উৎসাহিত করা হচ্ছে।
ওই আধিকারিকের কথায়, ‘‘এই অভিযানের লক্ষ্য হল জাতীয় পতাকার সঙ্গে মানুষের ব্যক্তিগত সম্পর্ক আরও দৃঢ় করা, স্বাধীনতা সংগ্রামীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো এবং দেশাত্মবোধের চেতনা জাগিয়ে তোলা।’’
দেশজুড়ে কেন্দ্রীয় সংস্কৃতি মন্ত্রকের উদ্যোগে চলা এই কর্মসূচির মাধ্যমে রাজ্যের প্রতিটি গ্রাম এবং শহরাঞ্চলে দেশাত্মবোধের বার্তা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
—আইএএনএস
























