আগরতলা, ৯ আগস্ট: স্মার্ট মিটার স্থাপন এবং বিদ্যুৎ বিলের বিভিন্ন খাতে বাড়তি চার্জ নিয়ে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে সরব হলেন কংগ্রেস বিধায়ক সুদীপ রায় বর্মন। তাঁর অভিযোগ, স্মার্ট মিটার নিয়ে কেন্দ্রের অবস্থান স্পষ্ট হওয়ার পরও রাজ্যে গ্রাহকদের উপর তা চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি ফিক্সড চার্জ, সার্ভিস চার্জসহ বিভিন্ন খাতে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়ার ফলে সাধারণ মানুষের উপর বিদ্যুৎ বিলের বোঝা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
সুদীপ রায় বর্মনের দাবি, আগে ত্রিপুরার মানুষকে জানানো হয়েছিল যে স্মার্ট মিটার বসানো বাধ্যতামূলক। কিন্তু কেন্দ্রীয় বিদ্যুৎমন্ত্রী সংসদে জানিয়েছেন, স্মার্ট মিটার গ্রহণ করা গ্রাহকদের জন্য ঐচ্ছিক এবং পুরনো মিটারও চালু রাখা যেতে পারে। এরপরও রাজ্যে কেন স্মার্ট মিটার স্থাপনের প্রক্রিয়া চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।
কংগ্রেস বিধায়কের অভিযোগ, বিদ্যুৎ বিলের বিভিন্ন অতিরিক্ত চার্জের কারণে সাধারণ গ্রাহকদের মাসিক খরচ অনেকটাই বেড়ে গেছে। তাঁর দাবি, আগে যে গ্রাহকদের মাসে প্রায় ৫০০-৬০০ টাকা বিল আসত, তাঁদের অনেকের এখন প্রায় ১,৫০০ টাকা পর্যন্ত বিল দিতে হচ্ছে। আবার আগে যাঁদের বিল ১,৫০০ টাকার আশপাশে ছিল, তাঁদের ক্ষেত্রে তা বেড়ে ৩,০০০ থেকে ৩,৫০০ টাকা পর্যন্ত হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
সুদীপ রায় বর্মন বলেন, “এটি মানুষের আয় বা জীবিকার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর দাম বাড়ছে, অন্যদিকে প্রতিদিন মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমছে। এই পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষ কোথায় যাবে?”
তিনি আরও বলেন, সাধারণ মানুষের উপর বাড়তি আর্থিক বোঝা চাপানোর পরিবর্তে মুখ্যমন্ত্রীর উচিত ছিল বিষয়টি নিয়ে বিদ্যুৎমন্ত্রীর সঙ্গে অবিলম্বে আলোচনা করে গ্রাহকদের স্বস্তি দেওয়ার ব্যবস্থা করা। অপ্রয়োজনীয় ও অতিরিক্ত চার্জ প্রত্যাহারেরও দাবি জানান তিনি।
এদিন অটো-রিকশা চালকদের উপর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন কংগ্রেস বিধায়ক। তাঁর দাবি, ট্রাফিক কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জরিমানা করা হচ্ছে এবং জরিমানা আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হচ্ছে। বিদ্যুতের খরচ, কর, জরিমানা এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর ক্রমবর্ধমান দামের কারণে সাধারণ মানুষের উপর একের পর এক আর্থিক চাপ তৈরি হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
সুদীপ রায় বর্মন বলেন, “সরকার ব্যাকফুটে আছে না ফ্রন্টফুটে, সেটি প্রশ্ন নয়। আমাদের দাবি খুবই স্পষ্ট—যে মানুষ সরকারকে ভোট দিয়েছে, সেই সাধারণ মানুষকে স্বস্তি দিতে হবে।”
অতিরিক্ত ও অপ্রয়োজনীয় চার্জ প্রত্যাহার করে দ্রুত সংশোধনমূলক পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য রাজ্য সরকারের কাছে দাবি জানান তিনি। এই সমস্যাগুলির দ্রুত সমাধান না হলে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ আরও বাড়তে পারে বলেও মন্তব্য করেন কংগ্রেস বিধায়ক।



















