নয়াদিল্লি, ৯ আগস্ট (আইএএনএস): স্বাধীনতার ৮০তম বর্ষ উদযাপনের আগে রবিবার দেশের বিভিন্ন রাজ্যে ‘তিরঙ্গা যাত্রা’ শুরু করল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। দলীয় নেতারা জানিয়েছেন, জাতীয় পতাকার মর্যাদা রক্ষায় স্বাধীনতা সংগ্রামীদের আত্মত্যাগকে স্মরণ করতেই এই কর্মসূচির আয়োজন।
মধ্যপ্রদেশে ‘তিরঙ্গা যাত্রা’-য় অংশ নেন মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদব। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘ভারত ছাড়ো’ আন্দোলনের ডাকের মধ্য দিয়ে বিশ্বের সামনে ভারতের স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা স্পষ্ট হয়ে উঠেছিল। বিপ্লবী, শহিদ ও স্বাধীনতা সংগ্রামীদের আত্মত্যাগ স্মরণ করা প্রতিটি দেশপ্রেমিক নাগরিকের কর্তব্য।
তিনি বলেন, “স্বাধীনতা দিবস এগিয়ে আসায় দেশজুড়ে তিরঙ্গা যাত্রা শুরু হয়েছে।” একইসঙ্গে তিনি প্রার্থনা করেন, ভারত যেন চিরকাল তরুণ থাকে এবং দেশের স্বাধীনতা চিরকাল অমর হয়ে থাকে।
উত্তরপ্রদেশের উপমুখ্যমন্ত্রী ব্রজেশ পাঠক জানান, ৯ আগস্ট ‘কাকোরি ট্রেন অ্যাকশন ডে’ হিসেবেও পালিত হয়।
আইএএনএস-কে তিনি বলেন, “স্বাধীনতা দিবসের আগেই গোটা রাজ্যে তরুণদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ দেখা যাচ্ছে। আজ লক্ষ লক্ষ তরুণ হাতে তিরঙ্গা নিয়ে রাস্তায় বেরিয়ে এসেছেন এবং বুথে বুথে জাতীয় পতাকা নিয়ে যাওয়ার শপথ নিয়েছেন। রাজ্যে ‘হর ঘর তিরঙ্গা’ অভিযান অত্যন্ত সফল হচ্ছে।”
এর আগে রবিবার উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথও তিরঙ্গা যাত্রায় অংশ নেন।
তিনি বলেন, “আমাদের যুবসমাজ শক্তির প্রতীক। দেশের প্রতিটি চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার ক্ষমতা রয়েছে তাদের। এই যুবশক্তিকে এগিয়ে যাওয়ার এবং দেশ ও সমাজের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য নিজেদের প্রস্তুত করার সঠিক মঞ্চ দিতে হবে। তাদের ঐতিহ্যগত শিক্ষাও গ্রহণ করতে হবে। এই ভাবনা থেকেই বিশ্বের বৃহত্তম রাজনৈতিক সংগঠন ভারতীয় জনতা পার্টি দেশজুড়ে তিরঙ্গা যাত্রা শুরু করেছে।”
রাজস্থানের যোধপুরে রাজ্যের মন্ত্রী জোগারাম প্যাটেল সাংবাদিকদের জানান, স্বাধীনতা দিবসের সপ্তাহজুড়ে রাজস্থান-সহ গোটা দেশে ‘হর ঘর তিরঙ্গা’ অভিযান চালানো হবে।
তিনি বলেন, “আজ যোধপুর থেকে আমরা এই অভিযান শুরু করেছি। এরপর একটি তিরঙ্গা র্যালি হয়, যেখানে বিপুল সংখ্যক মানুষ অংশ নেন।”
তিরঙ্গা দেশপ্রেম এবং ‘দেশ সবার আগে’ ভাবনার প্রতীক উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই তিরঙ্গা যাত্রার মাধ্যমে সমস্ত স্বাধীনতা সংগ্রামীর আত্মত্যাগকে স্মরণ করা হচ্ছে।
ঝাড়খণ্ডের রাঁচিতে কর্মসূচিতে অংশ নেন কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষা প্রতিমন্ত্রী সঞ্জয় শেঠ। তিনি বলেন, তিরঙ্গা যাত্রার মাধ্যমে ‘দেশ সবার আগে’ ভাবনাকে আরও শক্তিশালী করা হচ্ছে। “তিরঙ্গা আমাদের গর্ব, সম্মান ও গৌরব,” বলেন তিনি।
ঝাড়খণ্ড বিজেপির সভাপতি আদিত্য সাহু বলেন, “এই তিরঙ্গার জন্য কোটি কোটি মানুষ নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছেন। বহু মহিলা তাঁদের স্বামীকে হারিয়েছেন এবং বহু শিশু অনাথ হয়েছে। তাই তিরঙ্গার সম্মান অক্ষুণ্ণ রাখতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আহ্বানে দেশজুড়ে তিরঙ্গা যাত্রা আয়োজন করা হচ্ছে।”
পশ্চিমবঙ্গের খড়গপুরেও তিরঙ্গা যাত্রায় অংশ নেন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। তিনি জানান, রাজ্যের অন্যান্য জেলাতেও এই কর্মসূচি ছড়িয়ে দেওয়া হবে।
সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “গোটা বাংলায় তিরঙ্গা প্রতিটি বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হবে এবং প্রতিটি ঘরে তা স্থাপন করা হবে। ১০ আগস্ট কলকাতায় একটি বড় কার্নিভালের আয়োজন করা হবে, যেখানে বহু মানুষের অংশগ্রহণের সম্ভাবনা রয়েছে।”
এর একদিন আগে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী তাঁর বিধানসভা কেন্দ্র ভবানীপুরে মিছিলের মাধ্যমে ‘হর ঘর তিরঙ্গা’ অভিযানের সূচনা করেন।



















