কৈলাসহর, ৯ আগস্ট: কৈলাসহর উত্তরাঞ্চলের মাগুরুলি গ্রাম পঞ্চায়েতের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী ৪৭ নম্বর গেট সংলগ্ন এলাকায় বিএসএফের গুলিতে এক বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে সীমান্ত এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
জানা গেছে, নিহত ব্যক্তির নাম তারা মিয়া(২৪)। তাঁর পিতার নাম আব্দুল মালিক। প্রাথমিকভাবে জানা যায়, তিনি বাংলাদেশের দশটেকি এলাকার বাসিন্দা। আজ গভীররাতে পাচারের জন্য সীমান্ত পারাপারের সময় বিএসএফের গুলিতে নিহত হয় ওই যুবক। সূত্রমতে, শনিবার মধ্যরাতের দিকে গৌরনগর আরডি ব্লকের মাগুরুলি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় বেড়ার কাছে ১৮৪৫/৬৩-এস নম্বর সীমান্ত স্তম্ভের নিকটবর্তী স্থানে ঘটনাটি ঘটে।
জানা যায়, সীমান্ত বেড়ার কাছে পাঁচ থেকে ছয়জন বাংলাদেশি যুবকের একটি দলকে ঘোরাঘুরি করতে দেখা যায়। ফেন্সিং লাইন এলাকায় প্রায় ৫ থেকে ৬ জন বাংলাদেশি যুবক বিভিন্ন ধরনের পাচার সামগ্রী নিয়ে সীমান্ত অতিক্রমের চেষ্টা করে। কর্তব্যরত জওয়ানরা বারবার সতর্ক করা সত্ত্বেও ওই ব্যক্তিরা থামেননি এবং সীমান্ত এলাকা থেকে সরে যাননি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিএসএফ গুলি চালাতে বাধ্য হয়।
বিএসএফ সূত্রের অভিযোগ, সন্দেহভাজন ওই দলটি পাচার কাজে যুক্ত ছিল এবং কর্তব্যরত কর্মীরা তাদের বারবার পিছু হটার জন্য সতর্ক করেছিল। তবে, যুবকরা সীমান্তের দিকে এগোতে থাকলে গুলি চালানো হয়। আর তাতেই তারা মিয়া গুরুতরভাবে গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান।
ঘটনার পর বিএসএফ ও ইরানি থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রয়োজনীয় আইনানুগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে। পরে মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঊনকোটি জেলা হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। বর্তমানে মরদেহটি হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।
ঊনকোটি জেলা হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডাঃ ইমরান আহমেদ জানান, “আজ সকাল প্রায় ১১টার সময় বাংলাদেশের এক মৃত ব্যক্তিকে কৈলাসহর জেলা হাসপাতালে আনা হয়েছে। বর্তমানে মরদেহটি মর্গে সংরক্ষিত রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হচ্ছে।”



















