তেলিয়ামুড়া, ৮ আগস্ট: ফের রক্তাক্ত আসাম-আগরতলা জাতীয় সড়ক। তেলিয়ামুড়ার নেতাজিনগর এলাকায় টমটম ও দূরপাল্লার লরির মুখোমুখি সংঘর্ষে গুরুতর জখম হলেন এক যুবক টমটম চালক। দুর্ঘটনার পর দীর্ঘক্ষণ গাড়ির ভিতরে আটকে থাকতে হয় তাঁকে। স্থানীয় বাসিন্দা, সাংবাদিক ও দমকল কর্মীদের দীর্ঘ প্রচেষ্টায় অবশেষে তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁকে আগরতলার জিবিপি হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে।
জানা গেছে, শুক্রবার গভীর রাতে তেলিয়ামুড়া থানাধীন নেতাজিনগর এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। রাত আনুমানিক ১১টা নাগাদ টিআর-০৬-এ-১৯৭৬ নম্বরের একটি মহিন্দ্রা টমটম তেলিয়ামুড়া থেকে চাকমাঘাটের দিকে যাচ্ছিল। সেই সময় একটি দূরপাল্লার লরির সঙ্গে টমটমটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।
সংঘর্ষের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে টমটমটির সামনের ও পেছনের অংশ দুমড়ে-মুচড়ে যায়। গাড়ির ভিতরেই আটকে পড়েন চালক। দুর্ঘটনাটি প্রথম দেখতে পান স্থানীয় দুই সাংবাদিক রাহুল পাল ও মৃন্ময় রায়। তাঁদের চিৎকার শুনে ছুটে আসেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পরে দমকল বাহিনীকে খবর দেওয়া হয়।
দমকল কর্মী ও স্থানীয়দের যৌথ প্রচেষ্টায় শুরু হয় উদ্ধার অভিযান। প্রায় ৪০ মিনিটেরও বেশি সময় ধরে চেষ্টার পর গুরুতর আহত চালককে গাড়ির ভিতর থেকে বের করে আনা সম্ভব হয়। পরে দমকলের গাড়িতে করে তাঁকে তেলিয়ামুড়া মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
দমকল আধিকারিক জানান, আহত টমটম চালকের নাম দীপ্তনু সরকার, বয়স ১৮ বছর। তেলিয়ামুড়া মহকুমা হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকরা উন্নত চিকিৎসার জন্য আগরতলার জিবিপি হাসপাতালে রেফার করেন।
এদিকে, দুর্ঘটনার পর ফের প্রশ্নের মুখে পড়েছে জাতীয় সড়কে দুর্ঘটনাগ্রস্তদের দ্রুত উদ্ধারের পরিকাঠামো। প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, আধুনিক উদ্ধার সরঞ্জামের অভাবে আহত যুবককে দ্রুত গাড়ির ভিতর থেকে বের করা সম্ভব হয়নি। জাতীয় সড়কে বারবার দুর্ঘটনা এবং আহতদের দীর্ঘ সময় গাড়ির ভিতরে আটকে থাকার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।
তাঁদের দাবি, বড় ধরনের দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে দ্রুত উদ্ধারকাজ চালানোর জন্য আধুনিক সরঞ্জাম ও পর্যাপ্ত পরিকাঠামো নিশ্চিত করা জরুরি। উল্লেখ্য, গত বছর চাকমাঘাট এলাকায় একই ধরনের দুর্ঘটনায় লরিচালক মিহির দেবনাথ দীর্ঘ সময় গাড়ির ভিতরে আটকে থাকার পর প্রাণ হারিয়েছিলেন বলে জানা যায়।
এদিকে, দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে তেলিয়ামুড়া থানার পুলিশ।



















