ব্যাংকক, ৭ আগস্ট(আইএএনএস): থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককের উপকণ্ঠে একটি স্কুলে ভয়াবহ বন্দুক হামলায় অন্তত ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে হামলাকারী কিশোর এবং তার দাদু-দিদাও রয়েছেন। এছাড়া ৩০ জনেরও বেশি আহত হয়েছেন, যাঁদের মধ্যে অন্তত ৯ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন থাই প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চার্নভিরাকুল।
শুক্রবার সকালে স্থানীয় সময় প্রায় ১০টা নাগাদ ননথাবুরি প্রদেশের ব্যাং ক্রুয়াই জেলার ডেবসিরিন ননথাবুরি স্কুলে এক বন্দুকধারী এলোপাথাড়ি গুলি চালায়। ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ ও উদ্ধারকারী দল।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, হামলাকারী বেগুনি রঙের ট্র্যাকস্যুট পরে স্কুলে প্রবেশ করে এবং পরপর বহু রাউন্ড গুলি চালায়। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতেও স্কুল চত্বরে একের পর এক গুলির শব্দ শোনা যায়, যার ফলে পড়ুয়া ও শিক্ষকদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত একজন ১৪ বছরের ছাত্র। সে দীর্ঘদিন ধরে তার দাদু-দিদার সঙ্গে থাকত। স্কুলে হামলার আগে নিজের বাড়িতেই দাদু-দিদাকে গুলি করে হত্যা করেছে বলে তদন্তকারীদের প্রাথমিক ধারণা।
ঘটনাস্থল থেকে একটি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার হয়েছে, যা প্রাথমিকভাবে অভিযুক্তের দাদুর নামে নিবন্ধিত বলে জানা গিয়েছে। এছাড়া অভিযুক্তের ব্যাগ থেকে বিপুল পরিমাণ গুলিও উদ্ধার করেছে পুলিশ।
তদন্তে আরও উঠে এসেছে, হামলার আগে অভিযুক্ত নিজের কম্পিউটারে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন স্কুলে সংঘটিত বন্দুক হামলার ঘটনা নিয়ে খোঁজখবর ও বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করেছিল। সেই তথ্যও তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
থাই প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চার্নভিরাকুল ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পর জানান, অতিরিক্ত পড়াশোনার চাপ এবং পরিবারের কঠোর শাসন এই হামলার অন্যতম কারণ হতে পারে। তাঁর দাবি, অভিযুক্তের দাদু-দিদা পড়াশোনার বিষয়ে অত্যন্ত কঠোর ছিলেন।
অভিযুক্তের এক বন্ধুও জানিয়েছে, সম্প্রতি সে প্রবল মানসিক চাপে ছিল এবং হামলার জন্য আগেভাগেই পরিকল্পনা করেছিল। এমনকি ব্যবহৃত বন্দুকের ছবিও সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করেছিল বলে জানা গেছে।
ঘটনার পর থাই সরকার আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ন্ত্রণ আরও কঠোর করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়েছেন, সরকারি দায়িত্ব পালন ছাড়া সাধারণ মানুষের প্রকাশ্য স্থানে আগ্নেয়াস্ত্র বহন করা যাবে না। পাশাপাশি অস্ত্রের মালিকানা ও ব্যবহার নিয়ে নজরদারি আরও বাড়ানো হবে।
এই মর্মান্তিক ঘটনার পর গোটা থাইল্যান্ডে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং তাঁদের চিকিৎসা চলছে। ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু করেছে থাই পুলিশ।



















