নয়াদিল্লি, ৭ আগস্ট (আইএএনএস): ছাত্র আন্দোলনকে ঘিরে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে ফের সরব হলেন দিল্লির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা আম আদমি পার্টির (আপ) জাতীয় আহ্বায়ক অরবিন্দ কেজরিওয়াল। শুক্রবার তিনি অভিযোগ করেন, মোদি সরকার দেশের যুবসমাজকে ভয় পাচ্ছে এবং তাদের কণ্ঠস্বর স্তব্ধ করার জন্য নতুন নতুন উপায় বের করছে।
একটি ভিডিও ব্লগে কেজরিওয়াল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে পরামর্শ দেন, দেশের যুবকদের আওয়াজ দমন করার পরিবর্তে উন্নয়নমূলক ও উল্লেখযোগ্য কাজের দিকে মনোযোগ দিতে।
কেজরিওয়ালের দাবি, সরকার এমন একটি নতুন আইন এনেছে, যার মাধ্যমে সরকারের কাজকর্মের সমালোচনা বা বিরোধিতা করে কোনও সামাজিক মাধ্যম পোস্ট, ভিডিও বা লেখা প্রকাশ হলে তা সরকারের নির্দেশে সরিয়ে ফেলতে হবে।
তিনি বলেন, “সরকার যদি কোনও সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মকে কোনও পোস্ট, প্রবন্ধ বা ভিডিও মুছে ফেলতে বলে, তাহলে সেটি তিন ঘণ্টার মধ্যে সরিয়ে ফেলতে হবে। এর অর্থ হল, পেপার লিক, ইথানল মিশ্রণ বা সরকারের দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বললে সেই পোস্ট কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মুছে দেওয়া হবে।”
আপ প্রধানের অভিযোগ, এই ব্যবস্থার ফলে প্রধানমন্ত্রী বা এনডিএ সরকারের বিরুদ্ধে কথা বলার অধিকারও সীমিত হয়ে যাবে।
তিনি আরও বলেন, “কিন্তু ক্ষমতায় থাকা ব্যক্তিরা মনে করেন, তারা তরুণ ছাত্রছাত্রীদের, এমনকি ছাত্রীদেরও অপমান, হেনস্থা বা আক্রমণ করতে পারেন, অথচ তাদের বিরুদ্ধে কেউ কথা বলতে পারবে না।”
কেজরিওয়াল দাবি করেন, এটি দেশের যুবসমাজের কণ্ঠস্বর দমন করার স্পষ্ট চেষ্টা। তাঁর মতে, যন্তর মন্তরের বিক্ষোভ গত দশ বছরে জমে থাকা মানুষের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ।
তিনি অভিযোগ করেন, ছাত্রদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয়েছে, মহিলাদের অপমান করা হয়েছে এবং প্রতিবাদের আওয়াজ থামানোর চেষ্টা করা হয়েছে। তাঁর কথায়, “এটি সঠিক পদ্ধতি নয়।”
প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে কেজরিওয়াল বলেন, “মানুষকে ভয় দেখানো এবং তাদের কণ্ঠস্বর দমন করার পরিবর্তে ভালো কাজ করুন, মানুষ নিজেরাই আপনার প্রশংসা করবে।”
তিনি সতর্ক করে বলেন, সরকার যদি নিজেদের অবস্থান পরিবর্তন না করে, তাহলে যুবসমাজের মধ্যে ক্ষোভ আরও বাড়তে থাকবে।
কেজরিওয়ালের বক্তব্য, “দেশের যুবকদের কণ্ঠ যত বেশি দমন করবেন, তাদের ক্ষোভ ততই বাড়বে।”
।।।।।।
























