নয়াদিল্লি, ৭ আগস্ট (আইএএনএস): ভারত ও চীন সীমান্ত নির্ধারণ, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, বিভিন্ন প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা গঠন এবং আন্তঃসীমান্ত সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা করেছে।
৬ আগস্ট নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত হয় ভারত-চীন সীমান্ত বিষয়ক পরামর্শ ও সমন্বয়ের জন্য গঠিত ওয়ার্কিং মেকানিজম-এর ৩৬তম বৈঠক। শুক্রবার বিদেশ মন্ত্রক এক বিবৃতিতে এই তথ্য জানিয়েছে।
বিদেশ মন্ত্রকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বৈঠকে দুই পক্ষ খোলামেলা আলোচনা করে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেছে। পাশাপাশি সীমান্ত এলাকায় শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখা যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, তা উভয় পক্ষই উল্লেখ করেছে।
ভারতের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন বিদেশ মন্ত্রকের পূর্ব এশিয়া বিভাগের যুগ্মসচিব সুজিত ঘোষ। অন্যদিকে, চিনের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে ছিলেন সে দেশের বিদেশ মন্ত্রকের বাউন্ডারি অ্যান্ড ওশেনিক অ্যাফেয়ার্স বিভাগের ডিরেক্টর জেনারেল হৌ ইয়ানকি।
বৈঠকে দুই দেশের আধিকারিকরা সম্মত হন যে, সীমান্ত সংক্রান্ত বকেয়া সমস্যার সমাধান এবং এলএসি এলাকায় ভুল বোঝাবুঝি বা ভুল হিসাব-নিকাশ এড়াতে ডাব্লিউএমএ, স্থানীয় কমান্ডার পর্যায়ের বৈঠকসহ বিদ্যমান কূটনৈতিক ও সামরিক যোগাযোগ ব্যবস্থা চালু রাখা হবে।
বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, ২৪তম স্পেশাল রিপ্রেজেন্টেটিভ বৈঠকের সিদ্ধান্তের পরবর্তী পদক্ষেপ হিসেবে সীমান্ত নির্ধারণ, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা এবং আন্তঃসীমান্ত সহযোগিতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।
ভারত পক্ষ আন্তঃসীমান্ত নদী সংক্রান্ত বিশেষজ্ঞ পর্যায়ের ব্যবস্থার পরবর্তী বৈঠক দ্রুত আয়োজনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে। পাশাপাশি উজানের নদী প্রকল্পগুলির বিষয়ে প্রযুক্তিগত তথ্য আদান-প্রদানের গুরুত্বের ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে।
এর আগে ৪ আগস্ট বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছিল, ভারত ও চীন দুই দেশের জনগণের মধ্যে সম্পর্ক উন্নত করতে একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে কৈলাস মানস সরোবর যাত্রার পুনরারম্ভ এবং দুই দেশের মধ্যে বেসামরিক বিমান যোগাযোগ পুনঃস্থাপন।
বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানিয়েছিলেন, ভারত-চীন সম্পর্কের উন্নতির লক্ষ্যে আলোচনা ইতিবাচক পথে এগোচ্ছে এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বাড়াতে নেওয়া পদক্ষেপগুলি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করবে।
চীনা সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে ভারতীয় ও ভারতীয় সংস্কৃতিকে লক্ষ্য করে আপত্তিকর বিষয়বস্তু বৃদ্ধির অভিযোগ নিয়ে ভারতীয় প্রবাসীদের উদ্বেগের বিষয়ে প্রশ্নের উত্তরে তিনি এই মন্তব্য করেন। বেইজিংয়ে ভারতীয় দূতাবাস আয়োজিত একটি ‘ওপেন ফোরাম’-এ প্রবাসী ভারতীয়রা বিষয়টি তুলে ধরেছিলেন বলে জানা গেছে।



















