মুম্বই, ৭ আগস্ট (আইএএনএস): মুম্বইয়ের ছত্রপতি শিবাজি মহারাজ টার্মিনাস -এর ফ্রি পাবলিক ওয়াই-ফাই ব্যবহারকে কেন্দ্র করে বড়সড় সাইবার প্রতারণার অভিযোগ সামনে এসেছে। এক রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের জেনারেল ম্যানেজারের ক্রেডিট কার্ড থেকে মাত্র ২৮ মিনিটের মধ্যে ৪ লক্ষ ২৭ হাজার ২৬৪ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে মুম্বই পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রতারণার সূত্রপাত হতে পারে ওই ব্যাঙ্ক আধিকারিকের ব্যক্তিগত সচিব নারায়ণ স্বামীর মোবাইল ফোন থেকে। অভিযোগ, তিনি সিএসএমটি স্টেশনের ফ্রি ওয়াই-ফাই-তে ফোন সংযুক্ত করার পরই সাইবার অপরাধীরা তাঁর ডিভাইসে প্রবেশের সুযোগ পায়।
তদন্তকারীদের অনুমান, এরপর সচিবের ফোনে একটি ক্ষতিকর অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ্লিকেশন প্যাকেজ ফাইল ইনস্টল করা হয়, যা আঞ্চলিক পরিবহণ দফতরের ট্রাফিক চালানের ছদ্মবেশে পাঠানো হয়েছিল। সেই ভুয়ো এপিকে ফাইলটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে তাঁর ফোনে থাকা ২০০-রও বেশি কনট্যাক্টের কাছে ছড়িয়ে পড়ে, যার মধ্যে ছিলেন ব্যাঙ্কের জেনারেল ম্যানেজার গোবিন্দ বিশ্বাসও।
৫৬ বছর বয়সি গোবিন্দ বিশ্বাস, যিনি ওয়াডালার ভক্তি পার্ক এলাকার বাসিন্দা এবং ফোর্টে অবস্থিত একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের অফিসে জেনারেল ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত, ১৮ জুলাই তাঁর ব্যক্তিগত সচিবের কাছ থেকে একটি বার্তা পান। সেটিকে আসল ট্রাফিক চালান বলে মনে করে তিনি এপিকে ফাইলটি ডাউনলোড ও ইনস্টল করেন।
পুলিশের দাবি, অ্যাপটি ইনস্টল হওয়ার পর তাঁর মোবাইলে থাকা সংবেদনশীল তথ্য সাইবার অপরাধীদের হাতে পৌঁছে যায়। যদিও ২১ জুলাই তিনি ফোনে অস্বাভাবিক কার্যকলাপ লক্ষ্য করে অ্যাপটি মুছে ফেলেন, ততক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হাতিয়ে নেওয়া হয়ে গিয়েছিল বলে তদন্তকারীদের সন্দেহ।
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়, গোবিন্দ বিশ্বাস কোনও ধরনের এসএমএস সতর্কবার্তা পাননি। ৩ আগস্ট ক্রেডিট কার্ডের স্টেটমেন্ট হাতে পাওয়ার পরই তিনি জানতে পারেন, ২১ জুলাই মাত্র ২৮ মিনিটের মধ্যে তাঁর কার্ড থেকে পাঁচটি অননুমোদিত লেনদেনে মোট ৪ লক্ষ ২৭ হাজার ২৬৪ টাকা খোয়া গিয়েছে।
ব্যাঙ্কের ক্রেডিট কার্ড বিভাগ সন্দেহজনক লেনদেনের বিষয়টি টের পেয়ে গ্রাহকের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করে। যোগাযোগ সম্ভব না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত কার্ডটি ব্লক করে দেওয়া হয়।
এরপর গোবিন্দ বিশ্বাস জাতীয় সাইবার অপরাধ রিপোর্টিং পোর্টালে অভিযোগ দায়ের করেন এবং এমআরএ মার্গ থানায় লিখিত অভিযোগ জানান। ৪ আগস্ট এই ঘটনায় এফআইআর দায়ের করে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
মুম্বই পুলিশের এক আধিকারিক জানান, ম্যালওয়্যারের প্রকৃত উৎস এবং কীভাবে মোবাইল ফোনে অনুপ্রবেশ করা হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তে এটিও যাচাই করা হচ্ছে যে, ফ্রি ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্ক, নাকি আসল নেটওয়ার্কের নামে তৈরি ভুয়ো হটস্পটের মাধ্যমে এই সাইবার হামলা চালানো হয়েছিল।



















