নয়াদিল্লি, ৭ আগস্ট (আইএএনএস): বিদেশ থেকে ডলার ও সোনা ভর্তি পার্সেল পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে ১ লক্ষ ৪৬ হাজার টাকা প্রতারণার অভিযোগে একটি আন্তঃরাজ্য সাইবার জালিয়াতি চক্রের পর্দাফাঁস করল দিল্লি পুলিশের সাউথ-ওয়েস্ট জেলার সাইবার থানা। এই ঘটনায় এক নাইজেরীয় নাগরিক-সহ মোট চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, দিল্লি, তেলেঙ্গানা এবং অন্ধ্রপ্রদেশ জুড়ে সমন্বিত অভিযানে এই সাফল্য মিলেছে। অভিযুক্তদের কাছ থেকে প্রতারণায় ব্যবহৃত মোট সাতটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ৩১ মার্চ এক ব্যক্তি সাইবার থানায় অভিযোগ জানান যে, অজ্ঞাতপরিচয় কয়েকজন ব্যক্তি হোয়াটসঅ্যাপ ও ফোনের মাধ্যমে নিজেদের মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাসিন্দা পরিচয় দিয়ে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করে।
প্রথমে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলার পর প্রতারকরা দাবি করে, অভিযোগকারীর নামে আমেরিকা থেকে ডলার ও সোনা ভর্তি একটি পার্সেল ভারতে পাঠানো হয়েছে।
এরপর বিভিন্ন অজুহাতে টাকা দাবি করা হয়। কখনও ‘মানি ডিক্লারেশন সার্টিফিকেট’, কখনও বিমানের টিকিট, কখনও কাস্টমস ক্লিয়ারেন্স ফি, আবার কখনও বাজেয়াপ্ত পার্সেল ছাড়ানোর নামে টাকা দিতে বলা হয়।
প্রতারকদের কথায় বিশ্বাস করে অভিযোগকারী একাধিক ইউপিআই আইডি এবং ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে মোট ১ লক্ষ ৪৬ হাজার টাকা পাঠিয়ে দেন। পরে প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পেরে তিনি অভিযোগ দায়ের করেন। সেই ভিত্তিতে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় ই-এফআইআর নথিভুক্ত করে তদন্ত শুরু হয়।
ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে একটি বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করা হয়। ডিজিটাল তথ্য বিশ্লেষণ, আর্থিক লেনদেনের খোঁজখবর এবং প্রযুক্তিগত নজরদারির মাধ্যমে তদন্তের সূত্র দিল্লি থেকে তেলেঙ্গানা হয়ে অন্ধ্রপ্রদেশের বিশাখাপত্তনম পর্যন্ত পৌঁছায়।
প্রথমে দক্ষিণ দিল্লির ময়দান গড়ি এলাকা থেকে ২২ বছর বয়সি দীপক কুমারকে গ্রেফতার করা হয়। তাঁর কাছ থেকে প্রতারণায় ব্যবহৃত একটি মোবাইল ফোন উদ্ধার হয়।
এরপর তেলেঙ্গানার জয়শঙ্কর ভূপালপল্লি জেলা থেকে কন্ডা সাগর (৩৩) এবং দুব্বাপেটা এলাকা থেকে আজমীরা বিনোদ কুমার (৩০)-কে গ্রেফতার করা হয়। তাঁদের কাছ থেকে দুটি মোবাইল ফোন উদ্ধার হয়েছে।
তদন্তে পরে নাইজেরিয়ার নাগরিক সিমিয়ন মিরাকল চিনোনসো-র যোগসূত্র সামনে আসে। তিনি বিশাখাপত্তনমে বসবাস করছিলেন। প্রযুক্তিগত তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাঁকেও গ্রেফতার করা হয়। তাঁর কাছ থেকে চারটি মোবাইল ফোন উদ্ধার হয়েছে, যা সাইবার প্রতারণায় ব্যবহৃত হয়েছে বলে পুলিশের দাবি।
তদন্তে জানা গিয়েছে, দীপক কুমার, কন্ডা সাগর এবং আজমীরা বিনোদ কুমার কমিশনের বিনিময়ে সাইবার অপরাধীদের জন্য ‘মিউল’ ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট জোগাড় করে দিতেন।
অন্যদিকে, চিনোনসো হোয়াটসঅ্যাপ ও ফোনের মাধ্যমে নিজেকে কখনও ইমিগ্রেশন অফিসার, কখনও কাস্টমস আধিকারিক বা বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধি পরিচয় দিয়ে মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ করতেন। বিদেশ থেকে পার্সেল এসেছে—এই ভুয়ো গল্প শুনিয়ে কাস্টমস ও নথিপত্রের খরচের নামে টাকা আদায় করা হতো।
পুলিশের দাবি, প্রতারণার মাধ্যমে আদায় করা অর্থ একাধিক ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ঘুরিয়ে পাঠানো হতো, যাতে টাকার উৎস গোপন রাখা যায়।
গ্রেফতার হওয়া চার অভিযুক্তের কাছ থেকে মোট সাতটি মোবাইল ফোন উদ্ধার হয়েছে। এই চক্রের সঙ্গে জড়িত আরও সদস্যদের খোঁজ এবং একই কায়দায় প্রতারিত অন্য ভুক্তভোগীদের শনাক্ত করতে তদন্ত চলছে।
























