নয়াদিল্লি, ৬ আগস্ট (আইএএনএস): মুসলিম সম্প্রদায় এবং মাদ্রাসাগুলিকে রাজনৈতিক লাভের উদ্দেশ্যে বারবার নিশানা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করলেন জমিয়তে উলেমা-ই-হিন্দের জাতীয় সভাপতি আরশাদ মাদানি। তাঁর দাবি, এ ধরনের বক্তব্য সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করছে এবং দেশের সাংবিধানিক মূল্যবোধকে দুর্বল করছে।
সম্প্রতি উত্তরপ্রদেশের উপমুখ্যমন্ত্রী কেশব প্রসাদ মৌর্য মন্তব্য করেছিলেন যে, ভারত, পাকিস্তান ও বাংলাদেশের মাদ্রাসাগুলি “অনানুষ্ঠানিকভাবে সন্ত্রাসবাদকে উৎসাহ দেয়”। তিনি আরও দাবি করেন, এসব প্রতিষ্ঠানে পড়ুয়াদের মধ্যে দেশপ্রেমের পরিবর্তে “জঙ্গি মানসিকতা” গড়ে ওঠে। নির্বাসিত বাংলাদেশি লেখিকা তসলিমা নাসরিনের মাদ্রাসা নিষিদ্ধ করার দাবিকেও সমর্থন করেছিলেন তিনি।
এই মন্তব্যের জবাবে সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ পোস্ট করে আরশাদ মাদানি বলেন, “মাদ্রাসাকে সন্ত্রাসবাদের আঁতুড়ঘর বলা সাম্প্রদায়িকতা ও কুসংস্কারের চরম উদাহরণ।”
তিনি আরও দাবি করেন, স্বাধীনতা সংগ্রামের সময় যাঁদের রাজনৈতিক পূর্বসূরিরা ব্রিটিশদের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেছিলেন, তাঁদের মাদ্রাসার দেশপ্রেম নিয়ে প্রশ্ন তোলার নৈতিক অধিকার নেই।
মাদানির অভিযোগ, ভোটের রাজনীতি ও সাম্প্রদায়িক বিভাজন তৈরির উদ্দেশ্যে মুসলিম সমাজ এবং তাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বারবার ভিত্তিহীন অভিযোগ আনা হচ্ছে। তাঁর বক্তব্য, “কখনও মাদ্রাসার পাঠ্যক্রম, কখনও দেশপ্রেম নিয়ে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে, আবার কখনও সেগুলিকে সন্ত্রাসবাদের প্রজননক্ষেত্র হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে। এর উদ্দেশ্য ঘৃণা ও অবিশ্বাস ছড়ানো।”
তিনি আরও বলেন, এ ধরনের দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্য দেশের সামাজিক সম্প্রীতি, জাতীয় ঐক্য এবং সংবিধানের মূল মূল্যবোধের জন্য ক্ষতিকর।



















