নয়াদিল্লি, ৫ আগস্ট(আইএএনএস) : লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী বুধবার যন্তর মন্তরের আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী এবং মুম্বইয়ের ভাইরাল ছাত্রী-সহ একদল ছাত্র-প্রতিবাদকারীকে নিয়ে রাজধানীতে সাংবাদিক বৈঠক করেন। সেখানে তিনি আন্দোলনকারীদের সংবিধানের রক্ষাকর্তা আখ্যা দিয়ে বলেন, তাঁরা ভারতের ভাবনা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ রক্ষার জন্য আন্দোলন করছেন, তাই কারও কাছে তাঁদের ক্ষমা চাওয়ার প্রয়োজন নেই।
রাজধানীর ১০ জনপথের বাইরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রাহুল বলেন, শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মূল উদ্দেশ্য সংবিধান রক্ষা এবং দেশের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করা। সেই কারণে তাঁদের বিরুদ্ধে হয়রানি বা ক্ষমা চাইতে বাধ্য করার কোনও যুক্তি নেই।
এই সাংবাদিক বৈঠক এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হয়, যখন যন্তর মন্তরের বিক্ষোভে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে উদ্দেশ্য করে এক কিশোরী আন্দোলনকারীর আপত্তিকর মন্তব্যকে ঘিরে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। ওই ঘটনায় পুলিশ মামলা দায়ের করে এবং পরে ওই কিশোরী, যার বয়স প্রায় ১৫ বছর বলে জানা গেছে, সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ্যে ক্ষমা চেয়ে নিজের মন্তব্যের জন্য অনুশোচনা প্রকাশ করে। এরপর কংগ্রেসসহ বিরোধী দলগুলি অভিযোগ তোলে যে সরকার চাপ সৃষ্টি করেই তাঁকে ক্ষমা চাইতে বাধ্য করেছে।
রাহুল গান্ধী বলেন, আমি তাঁদের নিয়ে অত্যন্ত গর্বিত। হাজার হাজার তরুণ-তরুণীর সঙ্গে তাঁরা সংবিধান রক্ষা করেছেন, ভারতের ভাবনা এবং দেশের ভবিষ্যৎকে সুরক্ষিত রাখার চেষ্টা করেছেন।
তিনি দাবি করেন, ভেঙে পড়া ও ত্রুটিপূর্ণ শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তোলা কোনও অপরাধ নয়। শিক্ষার্থীরা কেবল তাঁদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করেছেন।
কংগ্রেস নেতা আরও অভিযোগ করেন, আন্দোলনকারী ছাত্রছাত্রীরা শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ করলেও তাঁদের উপর লাঠিচার্জ করা হয়েছে, মারধর করা হয়েছে এবং হুমকি দেওয়া হয়েছে।
তাঁর অভিযোগ, বিশেষ করে মহিলা আন্দোলনকারীদের বাড়িতে লোক পাঠিয়ে তাঁদের উপর ক্ষমা চাওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে, যা সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য। এটা সম্পূর্ণ অর্থহীন। আমরা এটা মেনে নিই না, বলেন রাহুল।
তিনি কেন্দ্রের কাছে শিক্ষা ব্যবস্থার ত্রুটি দূর করার দাবি জানিয়ে বলেন, আমরা আরও ভালো শিক্ষা ব্যবস্থা চাই, প্রশ্নপত্র ফাঁস বন্ধ করতে চাই এবং দেশের যুবসমাজের জন্য নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে চাই।
এদিন সাংবাদিক বৈঠকে উপস্থিত ছাত্রনেত্রী রিয়া আহির, যিনি মুম্বইয়ে পুলিশের ভ্যান আটকে দেওয়ার ঘটনার পর সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হন, দাবি করেন যে তিনি পুলিশের কাজে বাধা দেননি। তাঁর কথায়, পুলিশ বেআইনিভাবে ২০ জন শিক্ষার্থীকে আটক করতে চাইছিল, আর তাঁদের রক্ষা করতেই তিনি এগিয়ে গিয়েছিলেন।
রিয়া বলেন, আমি সেই মেয়েটিই, যে মুম্বইয়ে পুলিশের ভ্যান থামিয়েছিল। আমার বিরুদ্ধে নানা ধরনের প্রচার চালানো হচ্ছে। আমি ২৭ জুলাই পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করেছিলাম, কিন্তু আজ ৫ আগস্ট হলেও এখনও এফআইআর দায়ের করা হয়নি। তবে যাঁদের জন্য আমি দাঁড়িয়েছিলাম, আজ তাঁরা আমার পাশে দাঁড়িয়েছেন, এটাই আমার কাছে বড় বিষয়।
আরেক আন্দোলনকারী ফারাহ নাজ বলেন, ২০ জুলাই আমরা যন্তর মন্তরে শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভ করছিলাম। সেই সময় পুলিশ আমাদের উপর লাঠিচার্জ করে। পরে আমাদের আটক করে দেশদ্রোহী বলে চিহ্নিত করা হয়।
তিনি আরও বলেন, যে যা-ই ভাবুক না কেন, আমরা আমাদের দেশ এবং আমাদের অধিকার রক্ষার জন্য আওয়াজ তুলতেই থাকব।



















