বেঙ্গালুরু, ৪ আগস্ট (আইএএনএস): কর্ণাটকে সাম্প্রতিক মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণকে ঘিরে কংগ্রেসের অন্দরে ব্যাপক অসন্তোষের জল্পনা উড়িয়ে দিয়ে কর্ণাটক প্রদেশ কংগ্রেস কমিটির (কেপিসিসি) সভাপতি বি. কে. হরিপ্রসাদ মঙ্গলবার দাবি করেছেন, দলের কোনও বিধায়ক ইস্তফা দেননি এবং কংগ্রেসের মধ্যে কোনও অসন্তোষও নেই।
বেঙ্গালুরুতে কেপিসিসি কার্যালয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে হরিপ্রসাদ বলেন, “সবাইকে মন্ত্রিসভায় সুযোগ দেওয়া সম্ভব নয়। কংগ্রেসে নেতৃত্বের কোনও অভাব নেই। সবাই নেতা। নতুন মুখকে সুযোগ করে দিতে গিয়ে কয়েকজন প্রবীণ নেতা এবার মন্ত্রিসভায় জায়গা পাননি।”
তিনি জানান, সম্প্রসারিত মন্ত্রিসভায় সব সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হয়েছে। যাঁরা মন্ত্রী না হওয়ায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন, তাঁদের সঙ্গে আলোচনা করা হবে।
হরিপ্রসাদ বলেন, “কৃষ্ণাপ্পা, প্রিয়া কৃষ্ণ এবং মাঙ্কল বৈদ্যের মতো নেতাদের আলোচনার জন্য ডাকা হবে।”
উল্লেখ্য, সম্ভাব্য মন্ত্রীদের প্রাথমিক তালিকায় মাঙ্কল বৈদ্যের নাম থাকলেও শেষ পর্যন্ত তাঁর পরিবর্তে প্রবীণ কংগ্রেস নেতা এস. এস. মল্লিকার্জুনকে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
বিজেপির সমালোচনার জবাবে হরিপ্রসাদ বলেন, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বাসবরাজ বোম্মাইয়ের নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকার তাদের আমলে ১৩টি জেলার কোনও প্রতিনিধিকেই মন্ত্রিসভায় স্থান দেয়নি।
তিনি বলেন, “আমাদের সমালোচনা করার আগে বিজেপির উচিত তাদের আমলে কীভাবে আঞ্চলিক ভারসাম্য রক্ষা করা হয়েছিল, তার জবাব দেওয়া।”
সামাজিক প্রতিনিধিত্বের প্রসঙ্গ তুলে কংগ্রেস নেতা দাবি করেন, ঐতিহাসিকভাবে বঞ্চিত সম্প্রদায়ের মানুষদের সুযোগ দেওয়ার ক্ষেত্রে কংগ্রেসই অগ্রণী ভূমিকা নিয়েছে।
তিনি বলেন, “বর্তমান মন্ত্রিসভায় এক সাফাইকর্মীর ছেলেকে মন্ত্রী করা হয়েছে। এ ধরনের সুযোগ কংগ্রেসই প্রথম দিয়েছে।”
দলের মধ্যে ইস্তফার জল্পনা নস্যাৎ করে হরিপ্রসাদ বলেন, “দলে কোনও গুরুতর অসন্তোষ নেই। যাঁরা ইস্তফার হুমকি দিয়েছেন, তাঁরাও শেষ পর্যন্ত সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসবেন বলে আমার বিশ্বাস।”
নতুন মন্ত্রিসভায় কোনও মহিলা সদস্যকে অন্তর্ভুক্ত না করার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে দলের মধ্যে আলোচনা হবে।
“এবার কোনও মহিলাকে সুযোগ দেওয়া যায়নি। বিষয়টি নিয়ে আমি আলোচনা করব। মন্ত্রিসভায় মহিলাদের অবশ্যই প্রতিনিধিত্ব থাকা উচিত,” বলেন তিনি।
সব মিলিয়ে মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণকে সফল বলেই উল্লেখ করে হরিপ্রসাদ বলেন, অভিজ্ঞতা, আঞ্চলিক প্রতিনিধিত্ব এবং নতুন মুখকে সুযোগ দেওয়ার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করাই ছিল এই সম্প্রসারণের মূল লক্ষ্য।


















