ঢাকা, ৪ আগস্ট (আইএএনএস): তথাকথিত ‘জুলাই আন্দোলন’-এর দুই বছর পর বাংলাদেশ কার্যত একটি ‘ব্যর্থ রাষ্ট্রে’ পরিণত হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে আওয়ামী লীগ। মঙ্গলবার দলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, সংস্কার, নাগরিক স্বাধীনতা এবং আইনের শাসনের প্রতিশ্রুতির পরিবর্তে দেশে এখন নিরাপত্তাহীনতা, সহিংসতা এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ব্যবহারের প্রবণতা বেড়েছে।
আওয়ামী লীগের অভিযোগ, মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার থেকে শুরু করে বর্তমান বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-র সরকার—উভয় প্রশাসনই দেশের অস্থির পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে জনগণকে ভীত ও নীরব রাখার চেষ্টা করেছে।
দলের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, অন্তর্বর্তী সরকারের ‘অদক্ষ শাসন’ এবং পরবর্তী বিএনপি সরকারের আমল—কোনও পর্যায়েই দেশে স্থিতিশীলতা ফেরেনি। বরং জননিরাপত্তাহীনতাকে অজুহাত করে বিশেষ ক্ষমতা প্রয়োগ করা হয়েছে এবং সমাজে স্বেচ্ছাসেবী গোষ্ঠী, অপরাধচক্র ও দলীয় জনতাকে প্রভাব বিস্তারের সুযোগ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
আওয়ামী লীগের দাবি, জুলাই আন্দোলনের পর সৃষ্ট নিরাপত্তা শূন্যতার কারণে ধর্মীয় সংখ্যালঘু, নারী ও শিশুরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে হামলা, সম্পত্তি দখল এবং যৌন সহিংসতার ঘটনা ঘটলেও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলি যথাযথ সুরক্ষা বা বিচার নিশ্চিত করতে পারেনি বলে অভিযোগ।
দলটি ‘বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ’-এর তথ্য উদ্ধৃত করে দাবি করেছে, ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত সংখ্যালঘুদের বাড়িঘর, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং উপাসনালয়ে ২,০০০-এর বেশি হামলার ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। ২০২৫ সালে ৫২২টি সাম্প্রদায়িক হামলা, ৬৬ জনের মৃত্যু, ৯৫টি মন্দির ও গির্জায় হামলা এবং সংখ্যালঘু নারী ও কিশোরীদের বিরুদ্ধে ২৮টি যৌন সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে বলেও দাবি করা হয়েছে। এছাড়া ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে আরও ২৫৭টি সাম্প্রদায়িক ঘটনার অভিযোগ রয়েছে।
আওয়ামী লীগের অভিযোগ, অন্তর্বর্তী সরকার এসব ঘটনাকে ‘সাম্প্রদায়িক নয়, রাজনৈতিক’ বলে ব্যাখ্যা করেছিল এবং পরবর্তী বিএনপি সরকারও এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। ফলে এখনও মন্দিরে হামলা, জমি দখল এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়ার ঘটনা ঘটছে বলে দাবি করা হয়েছে।
নারী ও শিশুদের বিরুদ্ধে অপরাধও বেড়েছে বলে অভিযোগ করেছে আওয়ামী লীগ। ঢাকাভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)-এর তথ্য উদ্ধৃত করে দলটি দাবি করেছে, ২০২৬ সালের প্রথম চার মাসে ১১৮ জন কিশোরী ধর্ষণের শিকার হয়েছে এবং নির্যাতনের পর ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। শিশু অধিকার সংগঠন ‘শিশুরাই সব’-এর তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুনের মধ্যে ৮৬ জন শিশু নিহত এবং ৩৩৬ জন যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে।
আওয়ামী লীগের মতে, গণপিটুনি, রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড, ধর্ষণ, সংখ্যালঘুদের উপর হামলা, জমি দখল, শিক্ষক ও সাংবাদিকদের উপর আক্রমণ—সব ক্ষেত্রেই দুর্বল তদন্ত, বিচারে বিলম্ব এবং রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের একটি অভিন্ন চিত্র দেখা যাচ্ছে।
দলটির দাবি, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উচিত বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে নীরব না থেকে আইনশৃঙ্খলার অবনতির বিষয়ে ঢাকার কর্তৃপক্ষকে জবাবদিহির আওতায় আনার জন্য পদক্ষেপ নেওয়া।
























